শান্তিপূর্ণ এবং আইনানুগ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধানপ্রদত্ত, কোথাও বিক্ষোভ চলছে বলেই লাঠি চালানো যায় না—মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ডেকেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের দিকে রওনা হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটকাতে পুলিশ সে দিন ব্যাপক লাঠি চালায়। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। ছর্রা গুলির আঘাতেও আহত হয়েছেন অন্তত তিন জন। মিছিল ঠেকাতে পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে গোটা দেশে। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলছে বলেই পুলিশ লাঠিচার্জ করবে, এটা সমর্থনযোগ্য নয়।
গত ২২ জুলাই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন এক আইনজীবী। পুলিশের লাঠি চালানোর ছবিও দেখার অনুরোধ করেছিলেন বিচারপতিদের। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে সে দিন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।’’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি অবশ্য পরে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই সংক্রান্ত কোনও মামলা দায়ের হয়নি। ফলে শুনানির প্রশ্নই ছিল না। ‘যথাযথ পদ্ধতি মেনে’ আবেদন জমা পড়ার পরে সোমবারের শুনানিতে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করল শীর্ষ আদালত।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘পুলিশি বাড়াবাড়ির’ অভিযোগগুলি স্বাধীন ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। বিক্ষোভ মোকাবিলার ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য সারা দেশে অভিন্ন কার্যপদ্ধতি চালু করার উপরেও জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রথম দিনের শুনানিতেই আদালত স্পষ্ট করে দিল, বিক্ষোভ চলছে বলেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব হয়ে যায় না। বিক্ষোভ চললেই যে পুলিশ সেখানে ‘বাড়াবাড়ি’ করবে বা ‘অত্যধিক বলপ্রয়োগ’ করবে, এটাও সমর্থন করা যায় না বলে জানিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে আদালত এ-ও জানিয়েছে, কোনও সমাজবিরোধী যদি বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করে, তা সামাল দিতে পদক্ষেপ করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
শুনানিতে প্রধান বিচারপতির মৌখিক পর্যবেক্ষণ, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধানে নিশ্চিত করা আছে। প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ থাকলে, শুধুমাত্র বিক্ষোভ হচ্ছে বলেই (পুলিশ) বাড়াবাড়ি করতে পারে না। যদি বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে, সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। এটি শুধু দিল্লির বিষয় নয়, সর্বত্র একটি অভিন্ন প্রোটোকল থাকা দরকার। শুধু আন্দোলন চলছে বলেই লাঠিচার্জ করা যায় না।”
দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মীও জখম হন বলে দাবি পুলিশের। সোমবার সেই বিষয়টি নিয়েও প্রধান বিচারপতির এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পুলিশের উপরে হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাও শুনতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী বলেন, “পুলিশের উপরে হোক বা পড়ুয়াদের উপর— যে কোনও ব্যক্তির উপরে আঘাতই সমান উদ্বেগের।” পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতির প্রশ্ন, “এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুলিশকে কেন পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে না?” এই সব মামলা মঙ্গলবার শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।