অপ্রাপ্তবয়স্কদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে রাশ টানার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে নতুন নিয়ম তৈরি করতে বলল। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্র যদি কোনও পদক্ষেপ না-করে, তবে আদালত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে নির্দেশ জারি করতে বাধ্য হবে।
১৮ বছরের কমবয়সিদের সমাজমাধ্যম এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘রক্ষাকবচ’ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল ‘জাস্ট রাইট্স ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’ নামক এক সংস্থা। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। সমাজমাধ্যমে শিশুদের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তা জানতে চায় আদালত।
শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আপাতদৃষ্টিতে এই বিষয়টা ব্যক্তিগত ডিজিটাল ডেটা সুরক্ষা আইনের (ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট) আওতাভুক্ত বলে মনে হচ্ছে। তবে তা খতিয়ে দেখতে হবে। মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী এইচএস ফুলকা উল্লেখ করেন, ওই আইন এখনও কার্যকর হয়নি। ২০২৭ সালের প্রযোজ্য হতে পারে। সেই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন সলিসিটর জেনারেল। একই সঙ্গে তিনি আদালতে জানান, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের ব্যবস্থপনার মধ্যে অন্য কোনও আইন যোগ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে রাশ টানা যায় কি না, তা বিবেচনা করে দেখতে হবে। কেন্দ্র চাইছে এমন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে যাতে সমাজমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কেরা যদি অ্যাকাউন্ট খোলে, তবে তার বাবা-মা বা অভিভাবকের সম্মতির প্রয়োজন হবে। চুক্তিতে সইও করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
অপ্রাপ্তবয়স্কদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিয়ে আক্ষেপ করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তাঁর মন্তব্য, ‘‘এখন ১৫ বছর বয়সি এক শিশুও টুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলির উচিত তাদের প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার ন্যূনতম বয়স ১৮ করা।’’ শুধু তা-ই নয়, এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছ। তার পরেই সলিসিটর জেনারেলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারেরও উচিত কিছু নির্দেশ জারি করা, যা ভারতীয় আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।’’ তা শুনে তুষার বলেন, ‘‘ওদের (সমাজমাধ্যম) ভারতীয় আইন মেনে চলতে হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘যদি বিষয়টি যথাযথ ভাবে সমাধান না-হয়, তবে আদালত নির্দেশ দিতে বাধ্য হবে।’’