ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার ব্যক্তিই যে নিঠারী হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়া সুরেন্দ্র কোলি, সেটা তিনি জানতেনই না। তাঁর মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যম থেকে পরিচয় জানতে পেরে হতবাক হয়ে গিয়েছেন জয় কাশ্যপ। কারণ, হরিদ্বারে আসার পর সুরেন্দ্রকে তিনিই কাজ এবং বাড়ি খুঁজে দিতে সাহায্য করেছিলেন।
জয় জানান, ২৫ দিন আগে হরিদ্বারে আসেন কোলি। নিজেকে ‘সদারাম’ বলে পরিচয় দেন। অলমোড়ায় তাঁর পরিবার থাকে, এ কথাও জানিয়েছিলেন। জয়কে আরও জানান, তাঁর একটা কাজ এবং থাকার জন্য ঘরের খুব প্রয়োজন। এক বন্ধুর বাড়িতে ‘সদারাম’ ওরফে কোলির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল জয়ের। তখনও তিনি কোলির আসল পরিচয় জানতেন না বলে দাবি। বন্ধুর সূত্রেই কোলির কাজ এবং রোশনাবাদে থাকার বন্দোবস্ত করে দেন জয়।
কিন্তু কোলি সেখানে কিছু ছিলেন। বাড়িওয়ালা তাঁর কাছে পরিচয়পত্র চাইলে সেই বাড়ি ছেড়ে দেন। জয় জানান, বাড়ির মালিককে আধার কার্ড দিতে চাননি ‘সদারাম’। পরে তিনি জানতে পারেন কোলি হরিদ্বারে চলে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে বলেছিল হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকান ভাড়া নিয়েছেন ধর্মেন্দ্র ভাই (কেলির পরিচিত)। সেই দোকান চালানোর জন্য তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন।’’ তার পর থেকে ‘সদারাম’-এর সঙ্গে আর কথা হয়নি বলে দাবি জয়ের। তাঁর কথায়, ‘‘এক জন মানুষ হিসেবেই মানুষের উপকার করেছি। কিন্তু ওই ব্যক্তি যে নিঠারী মামলার অন্যতম অভিযুক্ত, তা জানতাম না।’’
পুলিশ সূত্রে খবর, দেড় মাস আগে উত্তরাখণ্ডে রোশনাবাদে আসেন কোলি। হরিদ্বারে যাওয়ার আগে একটি কারখানায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। কিন্তু সেই কাজ বেশি দিন করেননি। পরে ধর্মেন্দ্র ভাই (ধর্মেন্দ্র কৌশিক) তাঁকে অন্য একটি কাজ খুঁজে দেন। এ বারও নিরাপত্তারক্ষীর কাজ শুরু করেন। তবে কোনও কারখানায় নয়, আবাসনে। কিন্তু সেই কাজও বেশি দিন করেননি তিনি। ২৫ দিন আগে হরিদ্বারে আসেন কোলি। মৃত্যুর তিন দিন আগে লালমাতা মন্দিরের উল্টোদিকে ধর্মেন্দ্র ভাইয়ের নামে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে চা বিক্রি শুরু করেন। ধর্মেন্দ্র জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ তিনি দোকানে আসেন। কিন্তু দোকানের শাটার নামানো ছিল। ভেবেছিলেন কোলি ঘুমোচ্ছেন। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে কোলির কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন ধর্মেন্দ্র। পুলিশ এসে দোকানে শাটার ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান কোলিকে। কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। কেন তিনি নাম বদলে হরিদ্বারে এসেছিলেন? কেন তিনি বার বার কাজ বদলেছেন? কেন রোশনাবাদ থেকে আচমকা হরিদ্বারে চলে এলেন?