বিদেশে তিনি প্রথম বেড়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাই হল তাঁর শেষযাত্রা। ভিয়েতনামে নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছে তামিলনাড়ুর ব্যবসায়ী ৫৪ বছরের শেখ আবদুল্লা আবদুল মজিদের। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার। মজিদের এক আত্মীয় জানান, এই প্রথম বার বিদেশে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। আগেও বেশ কয়েক বার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু কোনও বারই যাননি। বরং ছেলেকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন। এ বারও ছেলের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মত বদলান মজিদ।
পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার যখন নৌকা করে সমুদ্রসফরে বেরিয়েছিলেন, সেই সময় বাড়িতে ফোন করেন মজিদ। ভিডিয়ো কলে সদ্যোজাত নাতনির মুখ দেখেন। তার পর জানিয়ে দেন, দ্বীপ দেখতে যাচ্ছেন, তাঁকে যেন এখন ফোন না করা হয়। সেটাই পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা ছিল মজিদের। নৌকা করে যাওয়ার সময় আশপাশের দৃশ্যও ভিডিয়ো কলে দেখান পরিবারের সদস্যদের। তার পর ফোন কেটে দেন।
আরও পড়ুন:
এক আত্মীয় বলেন, ‘‘মজিদ ফোন করার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই টিভি থেকে দুর্ঘটনার কথা জানতে পারি। তার পরই খবর পাই ১৫ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মজিদও।’’ তাঁর মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই বাড়িতে কান্নার রোল। পরিবার সূত্রে খবর, ১৩ জুলাই ভিয়েতনাম থেকে ফেরার কথা ছিল মজিদদের।
তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লির বাসিন্দা মজিদ। যে ১৫ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শী এক পর্যটক বলেন, ‘‘দ্বীপ থেকে খুব বেশি হলে ৩০০ মিটার দূরে পৌঁছেছিল। হঠাৎই দেখলাম ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে পড়ল নৌকাটি। তার পর আর একটা ঢেউ। খেলনার মতো নৌকাটিকে উল্টে দিল।’’ একটি ফোন সংস্থার উদ্যোগে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর থেকে ভিয়েতনামে বেড়াতে গিয়েছিলেন ভারতীয় পর্যটকেরা। ওই সংস্থায় কর্মরত আশিস কুমার সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, পর্যটকেরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে তিনটি নৌকা করে দ্বীপ ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘গত ৯ জুলাই আমরা ভিয়েতনামে পৌঁছোই। রবিবার আবার দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই এই দুর্ঘটনা।’’