E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রাহুলের সভার দিনই ফল প্রকাশ, আশা-আশঙ্কায় কংগ্রেস

ইন্দোরের বিজেপি পরিচালিত পুরসভা কংগ্রেসকে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে রাহুলের জনসভার অনুমতি দেয়নি। তার জন্য ইন্দোর উন্নয়ন সংস্থার থেকে শহরের রিজিয়োনাল পার্কের সামনে কংগ্রেসকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ১২ হাজার বর্গমিটার জমি ভাড়া নিতে হয়েছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৬
রাহুল গাঁধী।

রাহুল গাঁধী। — ফাইল চিত্র।

আগামী শনিবারই ইন্দোরে রাহুল গাঁধীর পরবর্তী ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’। আগামী শনিবারই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনের ফল প্রকাশ। দুইয়ে মিলিয়ে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের স্নায়ুর চাপ বেড়েছে।

এক দিকে কংগ্রেস নেতৃত্ব আশাবাদী, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি হেরে গেলে রাহুল ছাত্র-যুবদের বার্তা দিতে দেশের বিভিন্ন শহরে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে যে জনসভা শুরু করেছেন, তা আরও জোরদার হবে। অন্য দিকে তাঁদের দুশ্চিন্তা, যন্তর মন্তরের আন্দোলন, সত্য নিকেতনের ঘটনার পরেও যদি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটে এবিভিপি জিতে যায়, তা হলে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করবেন, এখনও দেশের তরুণ প্রজন্ম নরেন্দ্র মোদীতেই আস্থা রাখছে। তা হলে রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিও হোঁচট খাবে। কারণ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন বরাবরই সম্মানের লড়াই। রাজনৈতিক ভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। গোটা উত্তর ভারত তো বটেই, দেশের সব রাজ্যের পড়ুয়ারা এখানে পড়তে আসেন।

কোটা, দেহরাদূন, প্রয়াগরাজ, পুণের পরে ইন্দোরে ১২ সেপ্টেম্বর রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইন্দোরের বিজেপি পরিচালিত পুরসভা কংগ্রেসকে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে রাহুলের জনসভার অনুমতি দেয়নি। তার জন্য ইন্দোর উন্নয়ন সংস্থার থেকে শহরের রিজিয়োনাল পার্কের সামনে কংগ্রেসকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ১২ হাজার বর্গমিটার জমি ভাড়া নিতে হয়েছে। দিনক্ষণও পিছিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর রাহুলের জনসভা হবে। ঘটনাচক্রে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ হবে। সে দিনই সন্ধ্যায় রাহুলের ইন্দোরের জনসভা।

কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর নেতারা মনে করছেন, যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে মোদী সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে ছাত্র-আবাস ভেঙে পড়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মৃত্যুর ঘটনাতেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এবং দিল্লি পুরসভার দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আড়াই লক্ষ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি পড়ুয়ার হস্টেল প্রয়োজন। কিন্তু মাত্র ৭ হাজারের মতো পড়ুয়ার জন্য হস্টেল রয়েছে।

ছাত্র সংসদের নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে পেতে এবিভিপি-ই এখন হস্টেলের দাবিতে সরব। বিজেপি পরিচালিত পুরসভার বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে বেসরকারি পিজি, হস্টেলের অনুমতি দেওয়া নিয়েও এবিভিপি বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এবিভিপি-র বক্তব্য, তাদের ইস্তাহারে হস্টেলের সমস্যা প্রাধান্য পাবে। ছাত্র সংসদের নির্বাচনে লড়ছে বাম ছাত্র সংগঠন আইসা-এসএফআই জোট। দুই বাম ছাত্র সংগঠনই যন্তর মন্তরে ককরোচদের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। সুরক্ষিত ছাত্র-আবাসের দাবির সঙ্গে যন্তর মন্তরের রেশ দিল্লির ছাত্র সংসদের নির্বাচনে পড়বে বলে বাম ছাত্র নেতারাও আশাবাদী।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Congress delhi university

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy