প্রাথমিক ভাবে ‘ছদ্ম সংসদ’ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের নাট্য তৈরির চিন্তাভাবনা ছিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়ে দাঁড়াচ্ছে জ্ঞানেশকে অপসারণের দাবি এবং তাঁকে বাঁচাতে মোদী সরকারের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন ধরনের এক রাজনৈতিক সভা।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে দিল্লির রাজাজি মার্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাংলোয় চলবে জ্ঞানেশ কুমারের ‘জনতার অপসারণ’ কর্মসূচি। আজ খড়্গের বাড়িতেই তার রূপরেখা তৈরি হয়েছে। রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের সভার আগে এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিক গা-গরমের আসর বলেও মনে করা হচ্ছে। আগামিকালই বিজেপির মদতপ্রাপ্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সকাল ১০টায় দিল্লির এনডিএমসি কনভেনশন সেন্টারে ‘গণতন্ত্র বনাম অরাজকতা’ বিষয়ে ছদ্ম সংসদের আয়োজন করেছে, যাকে ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচির পাল্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীদের কর্মসূচিতে কোনও ‘ট্রেজ়ারি বেঞ্চ’ বা সরকার পক্ষের প্রতীকী উপস্থিতি থাকছে না। সিপিএমের রাজ্যসভার নেতা জন ব্রিটাসের বক্তব্য, “সংসদে অপসারণের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তাকে অনুসরণ করা হবে। কিন্তু কোনও বিরোধী সাংসদই সরকার পক্ষের সাংসদের ভূমিকায় অভিনয় করে জ্ঞানেশকে সমর্থন করতে চাইছেন না।” তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, “আমরা এটিকে ছদ্ম সংসদ বলছি না, কারণ এটা সংসদকে নিয়ে ঠাট্টা করা নয়, বরং ১৯টি দলের পক্ষ থেকে আনা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের গুরুতর বিষয়। তাই সরকার পক্ষের সাংসদ-মন্ত্রীদের অভিনয় করে বিষয়টির গুরুত্ব লঘু করার প্রশ্ন নেই।”
‘ট্রেজ়ারি বেঞ্চ’ না-থাকলেও প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে থাকছেন প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। তিনি চেয়ারে বসার পরে খড়্গে প্রস্তাবটি পেশ করবেন। তাঁকে দেওয়া হবে কুড়ি মিনিট। অপসারণের এই কর্মসূচি শেষ করবেন রাহুল গান্ধী, তিনিও বলবেন কুড়ি মিনিট। ধ্বনিভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পরে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে। এসপি এবং তৃণমূলের জন্য বরাদ্দ ১০ মিনিট করে। বাকি দলগুলি ৫ মিনিট করে বলবে। নাগরিক সমাজ থেকে জনা তিনেককে (যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণদের থাকার কথা) এবং ন্যায্য কারণ ছাড়াই ভোটাধিকার হারানো পাঁচ জনকে বলতে দেওয়া হবে।