শেষকৃত্যের টাকা জমিয়ে রেখে আত্মহত্যা করলেন দুই বোন! কোথায় সেই টাকা রয়েছে, সুইসাইড নোটে তা-ও জানিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। কী কারণে ওই দু’জন আত্মহত্যা করলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দক্ষিণ গোয়ার ক্যানাকোনা জেলায় থাকতেন সত্তরোর্ধ্ব ওই দুই বোন। তাঁদের এক জনের বয়স ৭১, অপরজনের ৭৩। গত কয়েক দিনে স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্য বাড়িতে এলপিজি সংযোগ নিয়ে ওই দুই বৃদ্ধাকে কিছু পরামর্শ দেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তার পরেই নাকি কিছুটা চিন্তিত ছিলেন তাঁরা। রবিবার নিজেদের বাড়়ি থেকেই ওই দুই বৃদ্ধার পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, দেহ উদ্ধারের অন্তত চার দিন আগে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
দুই বৃদ্ধার বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ আসায় স্থানীয়েরা পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ ওই বাড়িতে যান পুলিশ আধিকারিকেরা। দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই দুই বৃদ্ধার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, তাঁরা তাঁদের শেষকৃত্যের জন্য ১৫ হাজার টাকা নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে গিয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন দু’জন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই দুই বৃদ্ধা সম্পর্কে একে অপরের বোন। দু’জনের কেউই বিয়ে করেননি। দীর্ঘ দিন একই বাড়িতে একসঙ্গে থাকতেন তাঁরা। গোয়ার এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক নাম প্রকাশ না-করার শর্তে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে বলেন, “তদন্তে জানা গিয়েছে স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্য ওই দুই বোনের একজনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বা়ড়িতে এলপিজি দেওয়ার একটি প্রকল্পের বিষয়ে জানিয়েছিলেন তিনি। এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের বছরে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়া হয়।”
পুলিশ সূত্রে খবর, এক বোন এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে চাননি। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। সেই কারণেই দু’জনই আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওই পঞ্চায়েত সদস্যও দাবি করেছেন যে, তিনি আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও কথা বলেননি। বরং প্রকল্পের সুবিধার কথা জানিয়েছিলেন।
দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলেও মৃত্যুর কারণ সুস্পষ্ট ভাবে জানাতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। কারণ দেহটির বেশিরভাগ অংশেই পচন ধরেছিল। তবে শরীরের কিছু অংশের রাসায়নিক পরীক্ষা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে চাইছে পুলিশ। শেষকৃত্যের জন্য দু’জনের দেহই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।