আজ সংসদের মকর দ্বারের সামনে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়লেন শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদেরা। যা বেনজির। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার কটাক্ষ, শাসক দলের সাংসদেরা সংসদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, এমন ঘটনা কে কবে দেখেছেন! বিজেপি সূত্রের খবর, কাল শেষ চেষ্টা হিসেবে সংসদে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিবৃতি দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় শাহের বিবৃতি চেয়ে বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। ফি দিন মকর দ্বারের সামনে ধর্নাও দিচ্ছেন বিরোধী সাংসদেরা। আজ ছিল শাসকদলের পালা। প্রথামাফিক এনডিএ বৈঠক শেষ হতেই পাল্টা মিছিল করেন শাসকদলের সাংসদেরা। গত কাল ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের উপর লাঠি চালিয়েছিল সে রাজ্যের পুলিশ। জেএমএম-কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে কেন পুলিশ পড়ুয়াদের উপরে লাঠি চালিয়েছে, তা নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য দাবি করে এনডিএ সাংসদেরা মকর দ্বারে সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কার্যত এক সময়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পক্ষের দাবি রাহুলকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্য পক্ষ, শাহের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব। দু’পক্ষের স্লোগান-যুদ্ধের মধ্যে প্রিয়ঙ্কা সংসদে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজেপি সাংসদ মুকেশ দালাল ঝাড়খণ্ড প্রশ্নে রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওয়েনাড়ের সাংসদের পাল্টা, ‘‘রাহুল ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেছেন।’’ এক সময়ে যুযুধান দু’পক্ষ বিপজ্জনক ভাবে কাছাকাছি চলে আসায় অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে সংসদের নিরাপত্তারক্ষীরা দু’দলের মাঝখানে এসে দাঁড়ান।
সংঘাতের ওই আবহে আগামিকাল শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে লোকসভায় ছাত্র সমস্যা নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চালাবে শাসক শিবির। যদিও বিরোধী শিবির ছাত্র সমস্যার সঙ্গেই রামমন্দিরে চুরি নিয়ে আলোচনা ও ওই চুরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনার দাবিতে অনড়। ফলে অধিবেশনের বাকি দু’দিনও শান্তিপূর্ণ ভাবে চলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যদিও বিজেপির একটি অংশের মতে, সরকারের উচিত হট্টগোলের মধ্যেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। এতে এক দিকে যেমন কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা যে আলোচনায় অনিচ্ছুক এবং তাঁদের লক্ষ্য সংসদীয় অধিবেশন ভেস্তে দেওয়া তা তুলে ধরা যাবে। দ্বিতীয়ত,পুলিশ সে দিন কেন লাঠি চালিয়েছিল তা সংসদ তথা দেশের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন শাহ। গোটা অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের মতে, শাহ ভয় পেয়ে গিয়েছেন। ওই অপবাদ মুছতে অধিবেশনের একেবারে শেষবেলায় ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খণ্ডনের ভাবনা রয়েছে শাহের।
পাল্টা কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈর কটাক্ষ, ‘‘অমিত শাহ যদি বিবৃতি দিতে এত আন্তরিক হন, তা হলে প্রশ্ন ফাঁস বিল নিয়ে আলোচনাতে তিনি কেন বিবৃতি দিলেন না!’’