রাম মন্দিরে অনুদান চুরির জেরে বিরোধীরা যখন বিজেপির হিন্দু ভোটে ভাগ বসাতে রণকৌশল নিচ্ছেন, তখন যোগী আদিত্যনাথ মথুরা জন্মভূমি উদ্ধারের ডাক দিয়ে সমাজবাদী পার্টির যাদব ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানোর পাল্টা কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন। পাশাপাশি মন্দির-ক্ষত মেরামতিতে উত্তরপ্রদেশে বাড়ি বাড়ি গিয়েপ্রচারের পরিকল্পনা নিয়েছেন আরএসএস নেতৃত্ব।
পিছড়ে, দলিত ও অল্পসংখ্যক (সংখ্যালঘু)-এর জোটের আনুকূল্যে গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বাজিমাৎ করেছিল এসপি। এ বার রাম মন্দির কাণ্ডের ফলে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে দোলাচলকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে চায় এসপি। এমনিতেই উত্তরপ্রদেশের ব্রাহ্মণ সমাজ বিজেপির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পথে নেমেছে। তার উপরে রাম মন্দিরের কারণে হিন্দু ভোটের একাংশ সরে গেলে যোগীর পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা মুশকিল। পাল্টা কৌশলে তাই মথুরার কৃষ্ণ জন্মভূমি উদ্ধারের ডাক দিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে শুরু করেছেন যোগী। উত্তরপ্রদেশের যাদবেরা নিজেদের শ্রীকৃষ্ণের বংশধর মনে করেন। রাজনীতিকেরা বলছেন, কৃষ্ণ ‘জনমভূমি’ উদ্ধারের ডাক দিয়ে পরোক্ষে যাদব সমাজকে খুশি করতে চেয়েছেন যোগী। কারণ বিধানসভা ভোটের আগে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমিনিয়ে আন্দোলনে নামলে অবধারিত ভাবে এসপির যাদব ভোট ব্যাঙ্কে বিভাজন ঘটবে।
উত্তরপ্রদেশের হিন্দু ভোটারদের বার্তা দিতে মাঠে নামছেন আরএসএস নেতৃত্বও। তাঁরা বুঝতে পারছেন, যে রাম মন্দিরের কারণে বিজেপির উত্থান, সেই মন্দিরের অনুদান চুরিতে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের সামগ্রিক ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনি ক্ষুব্ধ হিন্দু সমাজের বড় অংশ। সেই ক্ষোভ যাতে ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত না হয় তা নিশ্চিত করতে চাইছেন বিজেপি-আরএসএস নেতৃত্ব। তাই যা হয়েছে তা ভাল হয়নি, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কোনও ভাবেই ঘটবে না— সেই আশ্বাস ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন আরএসএস কর্মীরা। যাঁরা ওই মন্দিরে বড় মাপের দান করেছেন, তাঁদের দানের অর্থ যে ঠিকঠাক খরচ হয়েছে, তা-ও দাতাদের তালিকা তালিকা ধরে বোঝাবেন তাঁরা।
মন্দির কমিটির দায়িত্বে থাকা দায়িত্বে থাকা চম্পত রাই, অনিল মিশ্রদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি আজ তুলেছেন অখিলেশ যাদব। মন্দিরের কর্মীদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট খতিয়ে দেখার দাবি তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ রয়েছে। চুরি কাণ্ডে মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ গিরিরও ইস্তফা দেওয়া উচিত।’’ কংগ্রেসও অনুদানের অর্থ চুরি, মন্দিরের জমি কেনা ও নির্মাণকাজে অনিয়মের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আরএসএস শীর্ষ নেতৃত্বকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নিয়ে আসার দাবি করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, ‘‘মূল মাথাদের আড়াল করা হচ্ছে। এই কেলেঙ্কারি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আরএসএস প্রধানের দিকেআঙুল তুলেছে।’’