ভারতে ধর্ম ও রাষ্ট্র কোনও পৃথক সত্ত্বা নয় বরং একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করলেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ধর্মের প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বাস ধর্মান্ধতাকেই ডেকে আনে।
মুম্বইয়ে জৈন যুব সেবা সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া বিহার সেবা গ্রুপ’-এর ১৪তম সম্মেলনে আজ বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানুষে-মানুষে সংঘাত বাড়ার পিছনে ধর্মবিশ্বাসের বাড়াবাড়িকে দায়ী করেছেন ভাগবত। তাঁর মতে, যদি ধর্মীয় বিশ্বাস বাড়ে, তা হলে তাতে প্রকৃত বিশ্বাস কতটা বৃদ্ধি পায় তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কিন্তু এর ফলে ধর্মান্ধতা নিশ্চিত ভাবে বেড়ে যায় এবং সেটি সমাজের ভিতরে সংঘাতের আবহ তৈরি করে। ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয়কে তুলে ধরে ভাগবতের ব্যাখ্য, ‘‘আমাদের ধর্ম ও রাষ্ট্র আলাদা নয়। রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্যই হল ধর্মের পথে চলা। আর সেই ধর্মই রাষ্ট্রকে বাঁচিয়ে রাখে। ফলে একটি দুর্বল হয়ে পড়লে অন্যটির অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে পড়ে।’’ বিরোধীদের মতে, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম থাকতে পারে না। গেরুয়া শিবিরের পাল্টা যুক্তি, এখানে ধর্ম বোঝাতে ন্যায়ের শাসনকে বোঝানো হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পারিবারিক জীবন পারস্পরিক টানাপড়েনের শিকার হচ্ছে বলেই মনে করেন ভাগবত। তাঁর কথায়, ‘‘উন্নয়ন বাড়ার সঙ্গে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেখানে পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে সেখানে উন্নয়ন হতে পারে না।’’