আবাসন চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল ছ’বছরের আব্যান সূর্য। যেখানে খেলছিল তারা, সেখান থেকে কিছুটা দূরেই নির্মাণকাজ চলছিল। নির্মাণস্থলের কাছে ১৫ ফুটের একটি গর্তও খোঁড়া হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে গর্তে জলও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে কোনও গার্ডরেল বা ব্যারিকেড দেওয়া ছিল না বলে অভিযোগ। শনিবার সেই গর্তে পড়েই মৃত্যু হল আব্যানের। ঘটনাটি গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক এলাকার কালাধাম সোসাইটির কাছে ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী প্রাঞ্জল রাজপুত এনডিটিভি-কে জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঘটনাটি ঘটে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি গাড়ি পরিষ্কার করছিলাম। একটি ছেলে ছুটতে ছুটতে এসে বলল, আঙ্কল আমার বন্ধু পড়ে গিয়েছে। ওর কথা শুনেই ছুটে যাই।’’ প্রাঞ্জল জানান, ছেলেটি তাঁকে একটি জলভর্তি একটি গর্ত দেখিয়ে বলে যে ওখানেই তার বন্ধু পড়ে গিয়েছে। তত ক্ষণে সেখানে এক নিরাপত্তারক্ষী হাজির হয়েছিলেন। মুহূর্তেই তিনি জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
তত ক্ষণে চার দিকে খবর রটে গিয়েছিল। আবাসনের অনেকে ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের মধ্যে আরও কয়েক জন জলে নেমে পড়েন। প্রায় ৫ মিনিট ধরে খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তারক্ষী জানান, শিশুটিকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তারক্ষী জানান, তিনি যদি আর একটু আগে জানতে পারতেন, তা হলে শিশুটিকে বাঁচাতে পারতেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘ওকে বাঁচাতে পারলাম না।’’ শিশুটির বাবা সিওয়ান যাদব। তিনি একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ। কাজ থেকে ফিরে আবাসন চত্বরে ভিড় দেখে এগিয়ে যান। তখন জানতে পারেন তাঁর ছেলে জলে ডুবে গিয়েছে। গ্রেটার নয়ডা অথরিটির জেনারেল ম্যানেজারের দাবি, তাঁদের অজান্তেই এই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। এই মৃত্যুর জন্য তাদের দায়ী করেছেন শিশুটির বাবা। যদিও গ্রেটার নয়ডা অথরিটির জেনারেল ম্যানেজারের দাবি, তাঁদের অজান্তেই এই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। কেন গর্তের চারপাশে ব্যারিকেড করা ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবাসনের বাসিন্দারা।