ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ‘একপেশে ও ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে’ বাদ পড়া এ দেশের ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তিকায়িত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের দুর্ভোগের খতিয়ান উঠে এসেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে।
১০০টি দেশে সক্রিয় ন্যায় বিচার, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মঞ্চ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তরফে বলা হয়েছে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ভারত। সব নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করায় দায়বদ্ধ। কিন্তু ভারতের এসআইআর প্রক্রিয়া যুক্তির পরোয়া না করে লাখো লোকের উপরে অনভিপ্রেত নিয়ম চাপিয়ে ভোটার তালিকা থেকে গণ ছাঁটাই ব্যবস্থা চালু করেছে। দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্রে ৪০টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য-সহ ৭০ জনের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার, আইনজীবী, গণ আন্দোলন কর্মী, নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলা হয়। নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বলে হিউম্যান রাইটসের ডিরেক্টর (এশিয়া) এলেইন পিয়ার্সন বলেন, “মুসলিমদের মতো কিছু গোষ্ঠীকে ভোটার তালিকাথেকে বাদ দেওয়ার মাত্রাছাড়া প্রবণতা, ভারতের ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলির নৈতিকতা বা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে। অন্যায় ভাবে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকায় ফিরিয়ে তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।” জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণচেয়ে এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদীদের দমন-পীড়ন নিয়েও রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার মাঝপথে নথি সম্পন্ন ভোটারদের বাদ দিতে :ণ্বত্ব-ষত্বহীন:' তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি) নিয়েও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সরব। পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের ৯৩ শতাংশের আবেদন ট্রাইবুনালে গৃহীত হওয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলা হয়েছে, ১০ জনের ন’জন ভোটারকেই অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল। মুসলিম ভোটারদের নিশানা করার শঙ্কাতুলে ধরে বিজেপির বুথপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ফর্ম ৭-এর অপব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা নিয়ে নানা অভিযোগও তুলে ধরে এইচআর ওয়াচ।তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র কমিশনের কাছেথাকা একটি সফটওয়্যারে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা থেকে ইংরেজিতে তর্জমায় নামের বানানের গরমিল ইত্যাদি জটিলতায় নাম বাদ পড়ার দিকগুলিও তুলে ধরা হয়। সবর ইনস্টিটিউটের রিপোর্টে কলকাতার খাস ভবানীপুর কেন্দ্রে মাত্র ২০ শতাংশ মুসলিম ভোটার থাকলেও যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায়অন্তত ৫৩ শতাংশ মুসলিমের উপস্থিতির দিকটিও উল্লেখ করা হয়েছে। হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো নানা জেলার বাদ পড়া ভোটারদের বয়ান রয়েছে রিপোর্টে। তাতে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন বলে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চনা কিংবা মা, বাবার কারও এক জনের নাম বাদ পড়ায় সন্তানের স্কুলের বৃত্তি থেকে বঞ্চনার নমুনাও রয়েছে।