Advertisement
E-Paper

অরুণাচল সীমান্তে সংঘাতের পরিস্থিতি! আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্যে বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, টহলদারির নিয়ম ভাঙছে চিন

লাদাখের গলওয়ানে ভারত-চিন সংঘর্ষের ছ’বছর পর আইটিবিপি-র প্রধানের একটি মন্তব্য ঘিরে শোরগোল দেশের রাজনীতিতে। এ নিয়ে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে ব্যাখ্যা দিল বিদেশ মন্ত্রক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২০:৩৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আইটিবিপি-র ডিজি শত্রুজিৎ কপূরের ‘সংঘাত জারি’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মোদী সরকারের কাছে জবাব চাইছে বিরোধীরা। অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দাবি করেছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে প্রথম বার মুখ খুলল কেন্দ্র। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জানান, চিন তাদের নির্ধারিত টহল দেওয়ার নিয়ম বদল করায় অরুণাচলে ভারত-চিন সীমান্তে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

লাদাখের গলওয়ানে ভারত-চিন সংঘর্ষের ছ’বছর পর আইটিবিপি-র প্রধানের একটি মন্তব্য ঘিরে শোরগোল দেশের রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার রাজস্থানে আইটিবিপি-র একটি অনুষ্ঠানে শৌর্য কমান্ডোদের প্রশংসা করতে গিয়ে শত্রুজিৎ বলেছিলেন, ‘‘সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তা এখনও চলছে।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘সেখানে আমাদের শৌর্য কমান্ডোরা অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছেন।” যদিও কাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে সরাসরি কারও নামোল্লেখ করেননি আইটিবিপি প্রধান। কিন্তু ইঙ্গিত যে চিনা ফৌজের দিকে, তা অনুমান করা গিয়েছিল। শুরু হয়ে যায় বিতর্ক।

ওই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ‘‘চিনা বাহিনী তাদের নির্ধারিত টহলের নিয়ম থেকে সরে এসেছিল। সেই সময় ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।’’ যদিও কখন, ঠিক কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার বিশদ ব্যাখ্যায় যাননি রণধীর। বিস্তারিত তথ্য জানতে হলে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

২০২০ সালে ভারত এবং চিনা সেনার মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল গলওয়ানে। ওই সংঘাতের জেরে দীর্ঘ সময় দিল্লি-বেজিংয়ের সম্পর্কে টানাপড়েন চলে। সম্প্রতি দু’দেশই সম্পর্ক ভাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত বছর চিন সফর করেছেন। সম্প্রতি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফরে এসেছিলেন। তার মধ্যে আইটিবিপি-র ডিজি-র মন্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। তা হলে কি নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হল? ঠিক কী চলছে অরুণাচলে? কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছেন। সমাজমাধ্যমে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা, ‘‘চিনকে আর ‘ক্লিন চিট’ দেওয়া যাবে না। দেশের কাছে সব সত্য তুলে ধরতে হবে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। প্রধানমন্ত্রীর উচিত বিরোধীদের আক্রমণ না-করে সংসদকে এবং দেশবাসীকে বাস্তব পরিস্থিতি জানানো।” পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি জানান, ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে ভারতে চিনা আমদানি ১০২ শতাংশ বেড়েছে। অথচ চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিতর্কের জবাবে শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল হিসাব-নিকাশ এড়াতে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক ও সামরিক সমাধানের ব্যবস্থাগুলো দেখছে।’’

India-China Modi Government BJP Congress

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy