Advertisement
E-Paper

খুনের চেয়েও ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছেন! প্রশ্নফাঁসে জড়িত আইএএস অফিসারের জামিন খারিজ করে বলল আদালত

২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছত্তীসগঢ় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (সিজিপিএসসি) পরীক্ষায় বিস্তর অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। সিবিআই ওই ঘটনার তদন্ত করছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত এক আইএএস অফিসারকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ অগস্ট ২০২৬ ১১:৫৬
প্রশ্নফাঁস নিয়ে কঠোর মন্তব্য ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের।

প্রশ্নফাঁস নিয়ে কঠোর মন্তব্য ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

যে কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে দেওয়া মানুষ খুনের চেয়েও ভয়ঙ্কর অপরাধ। এমনটাই মনে করে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্ট। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিককে। তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। কেন প্রশ্নফাঁসকে ‘খুনের চেয়েও ভয়ঙ্কর অপরাধ’ বলা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিচারপতিরা।

নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে এমনিতেই গোটা দেশ তোলপাড়। সেই মামলার তদন্তও করছে সিবিআই। সম্প্রতি তাতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ডেও এই ধরনের প্রশ্নফাঁস নিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। তার মধ্যে আইএএস আধিকারিকের জামিনের আর্জি খারিজ করে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছত্তীসগঢ় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (সিজিপিএসসি) পরীক্ষায় বিস্তর অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। সিবিআই ওই ঘটনার তদন্ত করছে এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তারা গ্রেফতার করে আইএএস জীবনকিশোর ধ্রুবকে। তিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত হলেও ওই সময়ে সিজিপিএসসি-র সচিব ছিলেন। অভিযোগ, তাঁর ছেলে ওই সময়েই পিএসসি-তে সফল হয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক নিযুক্ত হয়েছিলেন। ছেলের হাতে বাবা নিজেই পরীক্ষার প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জীবনকিশোর। তাঁর দাবি, তিনি ওই সময়ে পিএসসি-র সচিব ছিলেন বলেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টে এই যুক্তিতে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। বিচারপতি বিভু দত্ত গুরু শুনানি শেষে গত ৩১ জুলাই এই মামলার রায়দান স্থগিত রাখেন। বুধবার সেই রায় ঘোষণা করা হয় এবং খারিজ করে দেওয়া হয় জামিনের আবেদন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির প্রশ্ন যাঁরা ফাঁস করে দেন বা ফাঁসের চেষ্টা করেন, তাঁরা লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ এবং কেরিয়ার নিয়ে ছেলেখেলা করেন। এই ধরনের অপরাধ খুনের চেয়েও ভয়ঙ্কর। কারণ, কাউকে খুন করলে কোনও একটি পরিবারের উপর তার প্রভাব পড়ে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস করলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যায়। পরোক্ষে যার প্রভাব পড়ে সমাজের উপর। তাই ওই আইএএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে ‘সাধারণ’ হিসাবে দেখা যাবে না, জানিয়েছে আদালত।

অভিযোগ, ২০২১ সালের পিএসসি মেন্‌স পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ছেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন জীবনকিশোর। পরীক্ষায় যে প্রশ্ন এসেছিল, তার চারটি বাড়িতে বসে টানা অভ্যাস করেন তাঁর পুত্র, সিবিআই তার প্রমাণ আদালতে দেখিয়েছে। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও একাধিক নথি মিলেছে।

Paper Leak Chhattisgarh High Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy