Advertisement
E-Paper

পাক-আমেরিকা ঘনিষ্ঠতা কি ভারতের বন্ধুত্বে প্রভাব ফেলবে? ওয়াশিংটনের অবস্থান কী? দিল্লিতে মুখ খুললেন রুবিয়ো

পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা কি ভারতের বন্ধুত্বে প্রভাব ফেলবে? ভারত সফরে এসে এমনই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১২:২০
দিল্লি বিমানবন্দরে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। সোমবার।

দিল্লি বিমানবন্দরে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। সোমবার। ছবি: রয়টার্স।

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকা যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, তাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ভারত কি এ বিষয়ে চিন্তিত? কোনও আশঙ্কার কথা কি নয়াদিল্লি জানিয়েছে আমেরিকাকে? পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা কি ভারতের বন্ধুত্বে প্রভাব ফেলবে? ভারত সফরে এসে এমনই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োকে। তিনি ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের চিন্তা অন্য জায়গায়। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকায় ভারতের কোনও আশঙ্কা নেই।

তাজমহলে সস্ত্রীক মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। সোমবার।

তাজমহলে সস্ত্রীক মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। সোমবার। ছবি: পিটিআই।

চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন রুবিয়ো। প্রথমে এসেছিলেন কলকাতায়। মঙ্গলবার দিল্লিতে তিনি কোয়াডের বৈঠকে যোগ দেবেন। তার আগে সোমবার দিল্লি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ এই বিদেশসচিব। পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে, তা তিনি মেনে নিয়েছেন। রুবিয়ো বলেন, ‘‘ভারত অবশ্যই পাকিস্তানকে নিয়ে চিন্তিত। তারা সবসময়েই বলছে, পাকিস্তানের মাটি থেকে কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ভারতকে নিশানা করে চলেছে। এটা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ইরানের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পাকিস্তান যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে, তা নিয়ে ভারত এখনও কোনও উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। আমার মনে হয় না সেটা নিয়ে ভারতের অভিযোগ করার কিছু আছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ওদের সমস্যা অন্য।’’

চলতি সফরে ভারতকে আমেরিকার ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্ধু’দের অন্যতম বলে উল্লেখ করেছেন রুবিয়ো। বাণিজ্যের সহযোগী হিসাবেও ভারতকে আখ্যা দিয়েছেন। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে রুবিয়ো বলেছিলেন, ‘‘আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়ে চলেছে। এর পর তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আমার বিশ্বাস।’’

ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা পর্বে সে দেশের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্প এবং অন্য মার্কিন আধিকারিকদের ঘনিষ্ঠতা বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সরাসরি উত্তর এড়িয়েছেন রুবিয়ো। তিনি বলেন, ‘‘অন্য যে কোনও দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা কৌশলগত পর্যায়ে কাজ করি। ভারতের সঙ্গেও তা-ই। যে কোনও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র সেটাই করে থাকে। ভারতের সঙ্গে আমাদের যে কৌশলগত বন্ধুত্ব রয়েছে, অন্য কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব তার উপর পড়বে বলে আমি মনে করি না।’’

অন্য দিকে, চিন এবং ভারতের তুলনা নিয়ে রুবিয়ো বলেছেন, “দু’টি আলাদা রাষ্ট্র। ভারত বিশ্বের অত্যন্ত জনবহুল দেশ এবং গণতান্ত্রিক দেশ। আমেরিকার শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদার। চিন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। আমেরিকাকে দু’টি দেশের সঙ্গেই চলতে হয়। তবে এটা স্পষ্ট যে চিনের সঙ্গে আমাদের যে যৌথতা সেটাই এখানে তুলে ধরতে এসেছি। তবে সেনেটে থাকার সময়েও এই দু’টি রাষ্ট্র সম্পর্কে আমি মনোযোগ বজায় রেখেছি। তার কারণ সহজ, দু’টিই বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র।’’

রুবিয়োর সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার তাঁর আগরায় যাওয়ার কথা তাজমহল দেখতে। তার পর তিনি যাবেন রাজস্থানের জয়পুরে। সেখান থেকে দিল্লিতে ফিরবেন এবং মঙ্গলবার কোয়াডের বৈঠকে যোগ দেবেন। তার পর তিনি আমেরিকায় ফিরে যাবেন। ভারতে এসে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেলেছেন রুবিয়ো। তাঁকে ফোন করে মোদীর সঙ্গেও কথা বলেছেন ট্রাম্প।

Marco Rubio US Secretary of State India Pakistan new delhi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy