মা কখন আসবে? বাবা এবং বাড়ির লোকেদের কাছে ঘুরে ঘুরে এ কথাটাই জিজ্ঞাসা করছিল চার বছরের শিশুকন্যাটি। কিন্তু খুদের কাছে কী উত্তর দেবেন তাঁরা? কারণ, উত্তর দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নয়। সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই মৃত্যু হয়েছে মহিলার। পুত্রসন্তান ঘরে এসেছে। কিন্তু ফেরেননি মহিলা।
মৃতার নাম ইশা। গত ৮ জুলাই রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলার সরকারি হাসপাতালে সন্তানপ্রসবের পর মৃত্যু হয় তাঁর। ঘরে ইশার কোনও ছবি টাঙানো হয়নি। ইশার এক আত্মীয়া জানান, ছবি দেখলেই মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করছে। ইশার স্বামী মণীশ জানান, গত ৫ জুলাই স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। পর দিন তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। পুত্রসন্তান জন্ম দেন ইশা। সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ৭ জুলাই বিকেল থেকে ইশার শারীরিক অবস্থার আচমকা অবনতি হয়।
মণীশের অভিযোগ, স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতির পরে চিকিৎসকেরা সে ভাবে সহযোগিতা করেননি। ইশার প্রথম সন্তানেরও জন্ম হয়েছিল ভিলওয়াড়ার এই হাসপাতালে। সেই সময় কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু এ বার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মণীশ। তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতে মাকে দেখতে না পেয়ে বার বার তার কথা জিজ্ঞাসা করছে মেয়ে। কী উত্তর দেব? ভেবে পাচ্ছি না।’’ এ কথা বলতে বলতে মণীশের চোখের কোনা ভিজে উঠেছিল। সাত দিনের শিশু এবং চার বছরের দুই সন্তানকে এখন কে দেখবে? ভেবেই দিশাহারা মণীশ। আপাতত বৌদির কাছে পুত্রসন্তানকে রেখেছেন। কন্যা দিশা তাঁর কাছে। বার বার জিজ্ঞাসা করছে মা কখন ফিরে আসবে।
রাজস্থানে গত দু’মাসে সরকারি হাসপাতালে ১৮ মহিলার মৃত্যু হয়েছে। সন্তান জন্মের পর পরই তাঁদের মৃত্যু হয়। সাত জনের কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে। কী ভাবে পর পর রোগীমৃত্যু, তা প্রকাশ্যে আসতেই তৎপর হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত ৫-১০ জুলাইয়ের মধ্যে ভিলওয়াড়া এবং বাঁসওয়াড়া জেলায় ৯ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে ৬ দিনের মধ্যে। ভিলওয়াড়ার হাসপাতাল সূত্রে খবর, অস্ত্রোপচারের পর পাঁচ মহিলার অবস্থার অবনতি হয়। তাঁকে আইসিইউয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁদের। রাজস্থানের সরকারি হাসপাতালে গত দু’মাসে ১৮ মহিলার মৃত্যুতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।