উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে এক পরিবারের তিন জনকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ঋষভ শুক্ল সম্পর্কে নয়া তথ্য উঠে এল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং শুক্লের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, মোবাইল, ডিজিটাল তথ্য ঘেঁটে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে গত সোমবার তিন জনকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন শুক্ল।
পুলিশ সূত্রে খবর, মার্চেন্ট নেভিতে কাজ করতেন শুক্ল। এলাকায় ‘দাদাগিরি’ করেন। শুধু তা-ই নয়, সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয়। ইনস্টাগ্রামে তাঁর সাড়ে ৩৪ হাজার অনুগামী (ফলোয়ার) রয়েছেন। মদ্যপান আর পার্টিতে মজে থাকেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুটিংয়ে স্বর্ণপদকজয়ী শুক্ল। আর সে কারণেই বন্দুকের প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসা রয়েছে।
শুক্লের বেশ কয়েকটি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ঘাঁটতেই তদন্তকারীরা দেখেন, সেখানে নানা ধরনের বন্দুকের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এমন বেশ কয়েকটি ছবি রয়েছে যেখানে শুক্ল বন্দুক নিয়ে ছবি তুলেছেন। শুধু বন্দুক নয়, নানা ধরনের অস্ত্র নিয়েও ছবি রয়েছে শুক্লের। বন্দুক ছাড়াও শুক্লের শখ বিষধর সাপ এবং কুকুর পোষা। শুক্লের সাপ ধরার বেশ কয়েকটি ছবি এবং ভিডিয়ো পুলিশের হাতে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্ল অত্যন্ত বদমেজাজি স্বভাবের। পাড়ার লোকেদের সঙ্গে খুব একটা বনিবনা নেই তাঁর।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ধমকানো, শাসানোর মতো কাজ করতেন শুক্ল। দামি পোশাক, দামি সিগারেট এবং মদের নেশায় আসক্ত। নিজেকে ‘দাবাং’ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন তিনি। মার্চেন্ট নেভির কাজ ছেড়ে দেওয়ার পর পাকাপাকি ভাবে সাদাতগঞ্জেই থাকা শুরু করেন তিনি। পরিবারে রয়েছেন বাবা, বোন এবং দুই কাকা। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, শুক্ল কী করেন কেউ জানে না। তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েও স্থানীয়দের অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার প্রতিবেশী তিওয়ারি পরিবারের তিন জনকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে শুক্লের বিরুদ্ধে। ২২ সেকেন্ডে পর পর পাঁচটি গুলি করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, হুমকিও দেন, যাঁরা গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করার চেষ্টা করবেন, তাঁদেরও গুলি করে মারবেন। ফলে কেউই তাঁদের উদ্ধার করতে পারেননি। ছটফট করে মৃত্যু হয় তিওয়ারি পরিবারের তিন সদস্যের। নিহতেরা হলেন, শিবাজি, শিবেন্দ্র এবং সুযশ তিওয়ারি। এই ঘটনায় শুক্ল ছাড়াও তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুলডোজ়ার দিয়ে অভিযুক্তের বাড়ির একাংশ গুঁড়িয়েও দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের দাবি, অভিযুক্তের বাড়ির যে অংশ ভাঙা হয়েছে, সেটি বেআইনি ভাবে নির্মিত।