কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হয়েছে। শিক্ষাসচিব পদে দু’বার বদল হয়েছে। এনটিএ (ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি)-র ডিজি পদেও নতুন আমলা নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এনটিএ ঘিরে যাবতীয় বিতর্কের মধ্যেও এনটিএ-র চেয়ারম্যান, সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রদীপ কুমার জোশী নিজের পদে বহাল তবিয়তে বিরাজমান।
নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আগেই এনটিএ প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। এ বার এনটিএ জানিয়েছে, দু’মাস আগে ইউজিসি-নেট পরীক্ষায় তিনটি বিষয়ে প্রশ্নপত্রেও গন্ডগোল ছিল। তার জেরে ইংরেজি, বাণিজ্য ও সমাজতত্ত্ব, এই তিনটি পরীক্ষা ফের সেপ্টেম্বরে হবে। এনটিএ-র বার বার ব্যর্থতার পরে মোদী সরকারের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী সোমবার শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বিরোধীদের প্রশ্ন, সব কিছুর পরেও কোন ক্ষমতাবলে এনটিএ-র চেয়ারম্যান পদে প্রদীপ কুমার জোশী রয়েছেন? এর আগে জোশী মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময় রাজ্যে যোগ্যতা ছাড়াই ৮৮ জন অধ্যাপককে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছিল। তার পরে তিনি ছত্তীসগঢ়ের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে কয়েক বছর কাটিয়ে দিল্লিতে ইউপিএসসি-র সদস্য হন। তখন ইউপিএসসি-র যাচাই প্রক্রিয়া এড়িয়ে ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে বহু নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। তার পরে তাঁকে এনটিএ-র চেয়ারম্যান করা হয়। প্রশ্ন ফাঁসের পরেও তাঁকে সরানো হয়নি। বিরোধীদের প্রশ্ন, আরএসএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বা বিজেপির সঙ্গে পুরনো সম্পর্কই কি এর একমাত্র কারণ? মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতারা জোশীকেই প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারির ‘কিংপিন’ বলে তকমা দিয়েছেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বলেছেন, ‘‘মোদীজি দেখুন, আপনার এনটিএ কী করেছে! দু’মাস পরে নেট-এর পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে। হাজার হাজার পরীক্ষার্থী প্রস্তুতি নিয়ে, ফি জমা দিয়ে, বাড়ি থেকে বহু দূরের কেন্দ্রে গিয়ে এক বার পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে। এই পরীক্ষার প্রশ্নও যে ফাঁস হয়নি, তার নিশ্চয়তা কোথায়? ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রথম ধাপ ছিল। এনটিএ-র নেতৃত্বকে দায় নিতে হবে।’’ কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের প্রশ্ন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী যেখানে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাসচিবকে বদলে ফেলেছেন, সেখানে এনটিএ চেয়ারম্যানকে কেন রেখে দেওয়া হয়েছে?” সোমবার দিল্লিতে এনটিএ-র দফতরের সামনে দফায় দফায় কংগ্রেস, বাম ছাত্র সংগঠনগুলি বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের কানপুর-বরেলী, মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকতা করে আসা প্রদীপ কুমার জোশীকে ২০২৩ সালে এনটিএ-র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। সরকারি সূত্রের খবর, তিনি বরাবরই আরএসএস নেতৃত্ব এবং অটলবিহারী বাজপেয়ী, মুরলীমনোহর জোশীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা জয়বর্ধন সিংহ বলেন, ‘‘প্রদীপ জোশীই এনটিএ কেলেঙ্কারির কিংপিন। কিন্তু তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়নি। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়ের পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ইউপিএসসি, যে পদে থেকেছেন, সেখানেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এনটিএ-র দায়িত্বে আসার পরে ২০২৪ ও ২০২৬-এ নিট-প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।’’
এনটিএ নিয়ে প্রশ্নের মুখে নতুন প্রহ্লাদ জোশী সোমবার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকের সচিব, এনটিএ-র ডিজির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আমলারা মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, সংস্থার ৫০ জনের বেশি কর্মীকে সরানো হয়েছে, ১০ জন নতুন পেশাদার পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে এবং বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে সাইবার নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র তৈরির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসা হচ্ছে। মন্ত্রী তাঁদের বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থায় যেখানে ফাঁকফোকর রয়েছে, তা বোজাতে হবে। এনটিএ সূত্রের বক্তব্য, গাফিলতির অভিজ্ঞতাও সংশোধনে কাজে লাগানো হচ্ছে। রাহুলের কটাক্ষ, ‘‘এনটিএ-র গাফিলতি। শাস্তি পড়ুয়ারা পাবে!’’