তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে এক তরুণী ইঞ্জিনিয়ার বিবস্ত্র অবস্থায় মন্দিরে ঢুকে পড়েন। শুধু তা-ই নয়, মন্দির থেকে বিগ্রহ তুলে নিয়ে মন্দিরসংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে তরুণীর দেহ উদ্ধার হলেও পাওয়া যায়নি বিগ্রহটি। ওই তরুণীর এমন আচরণে হতভম্ব স্থানীয়েরা।
শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের মেদিপল্লিতে। মৃত তরুণীর বাড়ি বিজয়নগরমে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, বেঙ্গালুরুর একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি করতেন ওই তরুণী। মাস ছয়েক আগে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। দু’মাস আগে মেদিপল্লির পীরজাদিগুড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন ওই তরুণী এবং তাঁর মা।
পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে তরুণী এবং তাঁর মা রাতের খাওয়াদাওয়ার পর শুতে যান। রাত ২টো ৩০ মিনিটে তরুণী উঠে পড়েন। তার পর ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন। এর পর তিনি বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তা দিয়ে ছুটতে শুরু করেন। এলাকার কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাঁর গতিবিধি ধরা পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর হাতে একটি শাড়ি ছিল। রাত তখন ২টো ৩৫ মিনিট। রাত ২টো ৪৫ মিনিটে তাঁকে এলাকার একটি মন্দিরের সামনে দেখা যায়। মন্দিরে প্রবেশ করেন। তার পর প্রার্থনা করতেও দেখা যায়। কিছু ক্ষণ পর মন্দির থেকে বিগ্রহ তুলে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তার পর মন্দিরসংলগ্ন পুকুরের দিকে ছুটে যান এবং ঝাঁপ দেন জলে। শনিবার সকালে কন্যাকে দেখতে না পেয়ে পড়শিদের ডাকেন তরুণীর মা। তার পর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে দেখা যায় মন্দির সংলগ্ন পুকুরে তরুণীর দেহ ভাসছে।
আরও পড়ুন:
পরিবার সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তরুণী। চিকিৎসাও চলছিল তাঁর। প্রাথমিক অভিযোগে তরুণীর মা জানিয়েছেন, তাঁর কন্যার মাঝেমধ্যেই প্যানিক অ্যাটাক হত। সবসময় আতঙ্কে থাকতেন। কিন্তু কিসের আতঙ্ক, তা উল্লেখ করেননি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।