বিয়ের যৌতুকে গাড়ি এবং নগদ টাকা চেয়েছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তা দিতে না-পারায় নিত্য অশান্তি লেগে থাকত সংসারে। তেমনই এক অশান্তির রাতে বধূকে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ দু’জনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।
উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের মুরদনগরের বাসিন্দা ছিলেন ২৩ বছরের ওই তরুণী। গত ৭ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়িতে দোতলার ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, পণের টাকা চেয়ে দিনের পর দিন তাঁর উপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার চলত শ্বশুরবাড়িতে। তাঁরাই ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে বধূকে ফেলে দেন বলে দাবি মৃতের পরিবারের। পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। আটক করা হয়েছে মৃতের স্বামী এবং শ্বশুরকে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার রাতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তকারীরা হাতে পেয়েছেন। সেখানে বধূকে ছাদ থেকে পড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। আরও খুঁটিয়ে ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর তিন দিন হাসপাতালে ছিলেন তরুণী। তাঁর আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। ডিসিপি সুরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি জানিয়েছেন, মুরদনগর থানা এফআইআর দায়ের করেছে। দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগ, পণের টাকা দিতে না-পারায় তাঁরা তরুণীকে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়েছেন। ধৃত দু’জনকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে বলে জানান ডিসিপি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তরুণী ছাদ থেকে পড়ে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে স্থানীয়েরা কয়েক জন তাঁর সামনে জড়ো হন। বাড়ির ভিতর থেকে এক জন ছুটে আসেন। ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় গার্হস্থ্য হিংসা, পণের জন্য মৃত্যু, ইচ্ছাকৃত আঘাতের মামলা রুজু করেছে। স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির চার জনের নাম এফআইআরে রয়েছে। সূত্রের খবর, গত মার্চে ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। তার আগেও যৌতুকের দাবি নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়। এমনকি, ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ে বাতিলও হয়ে যায়। ফের মার্চে আইনি বিয়ে সারেন যুগল। তরুণীর ভাই জানিয়েছেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে একটি স্করপিও এসইউভি এবং নগদ ৩০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। তা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না তাঁর পরিবারের।