স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দিল্লির বুকে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জ়োয়া হাসানের ‘বহুত্ববাদ’ নিয়ে বক্তৃতা বাতিল হয়ে গেল। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তাণ্ডবে এই বক্তৃতা বাতিল করতে হয়েছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার দিল্লির লোদী এস্টেটে সর্দার পটেল বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে জ়োয়া হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ১০-১৫ জন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য স্কুলের বাইরে হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তার পরে অধ্যাপিকা জ়োয়া হাসানের বক্তৃতা বাতিল করে দেওয়া হয়। যদিও পুলিশ বাহিনী খবর পেয়ে স্কুলেহাজির হয়েছিল।
জ়োয়া হাসানের বক্তৃতা বাতিল হলেও স্কুলের অনুষ্ঠান হয়েছে। গুজরাত এডুকেশন সোসাইটি পরিচালিত এই স্কুলে সোসাইটির সভানেত্রী শ্বেতা কল্যাণওয়ালা প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ জোয়া হাসানের বক্তৃতা বাতিল করতে বলেনি। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অধ্যাপিকা জ়োয়া হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্কুলের অধ্যক্ষ অনুরাধা জোশী তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। স্কুলের এক শিক্ষিকার তাঁর বাড়িতে সকালে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী এসে জানান, অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। তিনি যে ‘বহুত্ববাদের প্রয়োজনীয়তা’ নিয়ে বক্তৃতা করবেন, তা-ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর বক্তৃতার বিষয় নিয়ে কিছু চাপিয়ে দেয়নি, কোনও আপত্তিও তোলেনি।
অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ অভিযোগ তুলেছেন, দিল্লি পুলিশ স্কুল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে বক্তৃতা বাতিল করিয়েছে। অধ্যাপিকা জ়োয়া হাসানের নিরাপত্তার ছুতো দেখিয়েছে। বাস্তবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিক্ষোভকারীদের থেকে পুলিশের সংখ্যা অনেকবেশি ছিল।
শিক্ষাবিদ অপূর্বানন্দের মতে, পুলিশের উচিত ছিল বিক্ষোভকারীদের ঠেকানো। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অবশ্য এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথাঅস্বীকার করেছে।