অভিনয় করেন না ইমরান খান! তবে দিনগুজরান হয় কী করে? বাসনমাজা, কাপড়কাচা সবই করেন আমিরের ভাগ্নে
অভিনয় কেবল ইমরানের শখ বা ভালবাসা ছিল না, উপার্জনের রাস্তাও ছিল। যে উপার্জন ইমরানের কাছে ছিল জরুরি। তার পরেও টানা ১১ বছর অভিনয় না করে কী ভাবে তারকাসুলভ জীবনযাপন বজায় রাখলেন ইমরান?
নায়ক হিসাবে তাঁর শেষ ছবি মুক্তি পেয়েছে এক যুগ আগে। ছবির নাম ‘কট্টি বট্টি’। ২০১৫ সালে সে ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার পরে সেই যে রুপোলি পর্দা থেকে বনবাস নিলেন ইমরান খান, তার পরে গত ১১ বছরে আর তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি সে ভাবে। দেখা গেল, বা বলা ভাল ইমরানের এক রকম আত্মপ্রকাশ ঘটল ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর। দিল্লিতে ‘আরশোলা’দের প্রতিবাদে।
দেখে মনে হচ্ছিল, ‘জানে তু ইয়া জানে না’-র জয় সিংহ রাঠোর সোজা পর্দা থেকে উঠে এসে বসেছেন পুলিশের ভ্যানে। মাঝের ১১টা বছর যেন কাটেইনি! কিন্তু আদতে ওই ১১ বছরে নানা ঝড় বয়ে গিয়েছে ইমরানের জীবনে। লোকচক্ষুর প্রায় আড়ালে থেকে ঠিক কী করছিলেন অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান? অভিনয়ের পেশার সঙ্গে যুক্ত না থেকে তাঁর দিন গুজরানই বা হচ্ছিল কী ভাবে?
এমন নয়, ইমরান উত্তরাধিকার সূত্রে বিপুল সম্পত্তির প্রাপক। খ্যাতনামী পারিবার, নানা মহলে যোগাযোগ থাকলেও ইমরানের ছোটবেলা কেটেছে আর পাঁচজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের মতোই। মা নুজ়ত হুসেন আমির খানের তুতো বোন হলেও তিনি ছিলেন দু’বারের বিবাহবিচ্ছিন্না ‘একা মা’। পেশায় মনোবিদ নুজ়ত নিজের উপার্জনেই বড় করেছেন ইমরানকে। অভিনয় তাই কেবল ইমরানের শখ বা ভালবাসা ছিল না, উপার্জনের রাস্তাও ছিল। যে উপার্জন ইমরানের কাছে জরুরি ছিল। তার পরেও টানা ১১ বছর অভিনয় না করে কী ভাবে তারকাসুলভ জীবনযাপন বজায় রাখলেন ইমরান?
পর্দায় না এলেও ইমরানের জীবনের খবর প্রকাশ্যে এসেছে মাঝেমধ্যেই। ২০১৯ সালে তেমনই এক খবরে জানা যায়, প্রথম পত্নী অবন্তিকার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে ইমরানের। ততদিনে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যার বাবা হয়েছেন ইমরান। মেয়ের যৌথ অভিভাবকত্ব সামলাচ্ছেন তিনি এবং তাঁর সদ্যপ্রাক্তন স্ত্রী। সঙ্গে চলছে হতাশার সঙ্গে যুদ্ধ। যার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর ব্যর্থ কর্মজীবন।
এর মধ্যেই ২০২৪ সালে ইমরান খবরে আসেন তাঁর নতুন প্রেমের সম্পর্কের জন্য। এক সাক্ষাৎকারে সরাসরিই ইমরান ঘোষণা করেন, লেখা ওয়াশিংটন নামে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন তিনি। তাঁরা দু’জনেই দু’জনকে ভালবাসেন। শীঘ্রই একত্রবাসও শুরু করবেন।
আরও পড়ুন:
সেই বছর আরও একটি সুখবর দেন ইমরান। ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের জানান, নিজের একটি বাড়ি বানিয়েছেন তিনি। সেই বাড়ির নকশাও করেছেন নিজেই। বাড়িটি তাঁর নতুন ‘ভেকেশন ভিলা’ বা অবকাশ বাস। মুম্বই শহরের বাইরে সেখানে সময় কাটানোর জন্যই বানিয়েছেন সেই বাড়ি।
এমন অবকাশ বাস বলিউডের অধিকাংশ অভিনেতারই রয়েছে। শহরের কোলাহলের বাইরে,নিরিবিলি অঞ্চলে এমন অবকাশ তৈরি করেন বহু তারকা অভিনেতা। সেই সব অবকাশবাসের বিলাসব্যসন হয় দেখার মতো। কিন্তু সেই সব অভিনেতা অভিনেত্রী সিনেমার দুনিয়াতেও সক্রিয়। গত ১১ বছরে একটিও সিনেমায় অভিনয় না করা ইমরান উপার্জন করলেন কোন পথে?
ইমরান বলছেন, তাঁর জীবনে বিলাস ব্যসনের কোনও জায়গা নেই। যে বাড়িটি তিনি বানিয়েছেন, সেটি বলিউডের অন্য তারকাদের অবকাশ কাটানোর বাড়ির মতো বাহারি নয়। অনেক ভেবেচিন্তে এমন একটি জায়গায় বাড়িটি বানিয়েছেন, যেখানে বসে অনেক কিছু দেখা যায়। তিনি বাড়িটিকে দ্রষ্টব্য করতে চাননি। তাই সেটি বানাতে বাড়তি খরচও করেননি। যেটুকু না হলেই নয় সেটুকুই।
এক সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে সবিস্তার বলেছেন ইমরান। অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি মিনিমালিস্ট বা স্বল্পবাদে বিশ্বাসী মানুষ। তিনি সেটুকুই ব্যবহার করেন যেটুকু না করলেই নয়। বাড়তি খরচ কিচ্ছু করেন না।
আরও পড়ুন:
ইমরান জানিয়েছেন, বান্দ্রার একটি অতি সাধারণ ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি। সেখানে কোনও বিলাসবহুল জিনিসপত্র নেই। কতটা বাহুল্যহীন সেই বাড়ির অন্দরমহল, তা বোঝাতে ইমরান নিজের রান্নাঘরটির বর্ণনা দিয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেছেন, ‘‘আমার রান্নাঘরে মাত্র ৩টি প্লেট, ৩টি কাঁটাচামচ, ২টি কফি মগ আর ১টি ফ্রাইং প্যান রয়েছে!’’ তা দিয়েই তাঁর রান্নার কাজ হয়ে যায়। রান্নাও করেন তিনি নিজেই।
সপ্তাহে তিন দিন মেয়ে তাঁর কাছে থাকতে এলে মেয়ের সম্পূর্ণ দেখভালও করেন ইমরানই। ১২ বছরের মেয়ের দেখাশোনার জন্য কোনও পরিচারিকা রাখেননি ইমরান। মেয়েকে নিজে হাতেই রান্না করে খাওয়ান। বস্তুত, তাঁর বাড়ির কোনও কাজে সাহায্যের জন্য পরিচারক বা পরিচারিকা নিয়োগই করেননি অভিনেতা।
রান্না করা থেকে ঘরদোর পরিষ্কার, নিজের এবং মেয়ের জামা কাপড় কাচা, বাসন মাজা, সব যে নিজে হাতেই করেন, সে কথা ইমরান জানিয়েছিলেন এক সাক্ষাৎকারে।
এককালে নানা শখ ছিল অভিনেতার। ভাল গাড়ি, রেসিং কার চালাতে পছন্দ করতেন। পালি হিলে তাঁর একটি বিলাসবহুল বাংলোবাড়িও ছিল। সেই সবই ত্যাগ করেছেন ইমরান।
এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছেন, তিনি আগে একটি চেরি রেড ফেরারি গাড়ি চালাতেন। এখন সেই গাড়ি বিক্রি করে একটি সাধারণ ফক্সভাগেন গাড়ি কিনেছেন। সেটিই চালান। পালিহিলের বাড়িটিও ছেড়েছেন তিনি।
এ তো নয় গেল খরচ কমানোর কথা। কিন্তু উপার্জন? ইমরান জানিয়েছেন, কী ভাবে আয় হয় তাঁর। কোন অর্থে কাজ না করেও তিনি নিরালায় নিজের জন্য ছোটখাটো বাংলো বানাতে পারেন।
উপার্জনের ব্যাপারে ইমরান যা জানিয়েছেন তার সারমর্ম হল, ২০০৮ সালে কেরিয়ারের প্রথম ছবি হিট করার পরে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন তিনি। ইমরান বলেছেন, সৌভাগ্যবশত সেই সব টাকা খরচ না করে তিনি একজন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করেছিলেন। যার লভ্যাংশ দিয়ে এখনও সংসার চলে যায় তাঁর।
তবে এ-ও ঠিক, ইমরান আবার নতুন করে কাজ শুরু করছেন। ১১ বছরের অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে তিনি নতুন করে পর্দায় ফিরছেন বলিউডে। তাঁর আসন্ন সিনেমার নাম ‘অধুরে হাম, অধুরে তুম’। কে বলতে পারে, হয়তো এই ‘কামব্যাক’ সফল হলে ইমরানের জীবন আবার বদলে যাবে!