সরকারি কর্মীদের মনের মানুষ খুঁজে দিচ্ছে এক দেশ! প্রেম করার খরচও জোগাচ্ছে তারাই! কিসের প্রয়োজনে?
যে মুহূর্তে দু’জনের প্রোফাইল ‘ম্যাচ’ করবে অর্থাৎ এক জনের সঙ্গে আর এক জনের ‘প্রেম’ জমতে পারে বলে মনে করবে অ্যাপ, অমনি এসএমএস পৌঁছে যাবে দু’জনের কাছে। ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়ে দু’জনকেই বলা হবে সিদ্ধান্ত নিতে।
সরকারি অর্থ ব্যয় করে সরকারি কর্মচারীদের প্রেম করতে উৎসাহ দিচ্ছে এক দেশের সরকার। খুব দূরে নয়, সে দেশের ঠিকানা খাস এশিয়াতেই। বহু ভারতীয়ই সে দেশের বাসিন্দা।
দেশটির উন্নতির গ্রাফ বেশ উঁচু। দেশশাসনের প্রক্রিয়াও বেশ ‘বুদ্ধিদীপ্ত’ বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।
সে দেশের বেশ কিছু সরকারি নীতি প্রশংসিত হয়েছে বিশ্বের দরবারে। কখনও দেশবাসীর স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য ফাস্টফুড এবং ক্ষতিকর খাবারের বিরুদ্ধে কড়া আইন এনেছে সরকার। কখনও আবার যান চলাচল কমিয়ে দিয়েছে যাতে দেশের মানুষের নিয়মিত হাঁটাহাঁটির অভ্যাস বজায় থাকে! সুস্থ থাকে তারা। এ বার সেই দেশই দায়িত্ব নিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিজীবন গুছিয়ে দেওয়ার।
বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মরত ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সি কর্মচারীদের জন্য প্রেমিক-প্রেমিকা খোঁজার ভার কাঁধে তুলে নিয়েছে সরকার। আর তার জন্য বানিয়েছে একটি ডেটিং অ্যাপ। যেখানে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করাতে পারবেন শুধু সরকারি কর্মচারীরাই।
দেশের সরকারি প্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থা, সরকারি অর্থ ব্যয় করে তৈরি করেছে ওই অ্যাপ। যার নাম ‘ফার্স্ট ডেট’। অল্পবয়সি সরকারি চাকুরেরা পছন্দসই সঙ্গিনী বা সঙ্গীর খোঁজ পাবেন সেখানেই।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে সেই খোঁজ দেওয়া হবে? প্রথমে যিনি নিজের নাম নথিভুক্ত করাচ্ছেন, তাঁকে নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে ওই সরকারি অ্যাপে। তাঁর জীবনযাপনের পদ্ধতি, আদর্শ, ভাল লাগা, মন্দ লাগা ইত্যাদি নানা তথ্য জানতে চাওয়া হবে। তার পরে প্রয়োজন বুঝে তাঁকে সন্ধান দেওয়া হবে সম্ভাবনাময় সঙ্গীর।
যে মুহূর্তে দু’জনের প্রোফাইল ‘ম্যাচ’ করবে অর্থাৎ এক জনের সঙ্গে আর এক জনের ‘প্রেম’ জমতে পারে বলে মনে করবে অ্যাপ, অমনি এসএমএস পৌঁছে যাবে দু’জনের কাছে। ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়ে দু’জনকেই বলা হবে সিদ্ধান্ত নিতে— তাঁরা কি পরস্পরের সঙ্গে সময় কাটাতে চান? এগোতে চান সম্পর্কে?
যদি প্রথমেই কেউ দেখা করতে না চান তবে দু’জনের মধ্যে বাধো বাধো ভাবের বরফ গলানোরও চেষ্টা করবে ওই অ্যাপ। তবে সরকার এখানেও থামছে না।
বিভিন্ন সূত্রে শোনা যাচ্ছে, ওই অ্যাপের মাধ্যমে যদি কোনও সরকারি কর্মচারী সম্ভাবনাময় প্রেমিক বা প্রেমিকাকে খুঁজে পান এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান, তবে সেই প্রথম সাক্ষাতের খরচও বহন করবে দেশটির সরকার! কিন্তু কেন?
আরও পড়ুন:
ভাবুন তো— এ দেশের কোনও কেন্দ্রীয় সরকারি বা রাজ্য সরকারের চাকুরেকে সরকার টাকা দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকা খুঁজে দিচ্ছে তার পরে তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার খরচও বহন করছে! ভাবতে গেলেই মাথায় প্রথম যে প্রশ্নটি আসবে তা হল, সরকারের কী দায়?
এ দেশে এ প্রশ্নের জবাব না থাকলেও যে দেশের কথা হচ্ছে, সেখানে সেই দায় আছে। কারণ সে দেশে শিশুর জন্মের হার রেকর্ড হারে কমেছে।
দেশটির নাম সিঙ্গাপুর। আর ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে সে দেশে ৩০ হাজারেরও কম শিশুর জন্ম হয়েছে। গত ৬০ বছরে কখনও শিশুর জন্মের হার এতটা কমেনি সিঙ্গাপুরে। যা চিন্তায় ফেলেছে সে দেশের সরকারকে। তড়িঘড়ি তাই সরকার নিজেই নেমেছে ‘ঘটকালি’র দায়িত্বে।
সরকারের লক্ষ্য আপাতত একটাই, অল্পবয়সি সরকারি কর্মচারীরা প্রেমে পড়ুন, চুটিয়ে ঘর-সংসার করুন। জন্ম দিন সন্তানের। দেশের কাজ, দশের কাজ, সরকারি দফতরের কাজের থেকেও এখন সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের অস্তিত্বরক্ষার তাগিদ।
বাণিজ্যে সফল একটি দেশে যদি নিজের দেশের মানুষই না থাকেন, তবে দেশ এগোবে কী ভাবে! এই ভয় থেকেই সরকারি কর্মচারীদের প্রেমে উৎসাহ জোগাচ্ছে সরকার। তবে এই প্রকল্প খুব বেশিদিন সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিভিন্ন সূত্রে খবর, সিঙ্গাপুর সরকার অচিরেই তাদের ‘ঘটকালির অ্যাপ’ ছড়িয়ে দেবে সাধারণ জনগণের মধ্যেও। যাতে দেশের আমজনতাও প্রেম, রোম্যান্স এবং সংসার-সন্তানে আগ্রহী হয়। তবে দেশের অস্তিত্বসঙ্কট কাটাতে সরকারের এমন ঘটকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা এই প্রথম ঘটল তা নয়।
এর আগে জন্মের হার কমে যাওয়ায় ২০২৪ সালে একই ধরনের নীতি নিয়েছিল জাপানের টোকিয়োর প্রশাসন। বছরকয়েক আগে দক্ষিণ কোরিয়াতে দেশ জুড়ে চালানো হয়েছিল গণবিবাহ এবং গণঘটকালির অনুষ্ঠান। তবে ভারতের মতো ১৪০ কোটির দেশের কাছে এমন ঘটনা বিস্ময়করই বটে!