Advertisement
E-Paper

ছবি আঁকতে গিয়ে প্রেম, ৬০ টাকার সাইকেলে ৬ হাজার মাইল পাড়ি, ওড়িশার ‘পিকে’র রোমাঞ্চযাত্রা

তাঁদের ভালবাসার গল্প রূপকথাকেও হার মানাবে। সত্তরের দশকে প্রেমের এমন ইতিহাস গড়েছিলেন এক ভারতীয় তরুণ। ভালবাসার মানুষটিকে চোখের দেখা দেখতে ১৩৩ দিন ধরে ৬ হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছিলেন। পথে যে সব ঘটনা ঘটেছিল, তা-ও গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতোই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০১
ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এক জ্যোতিষী। তা মিলেছিল অক্ষরে অক্ষরে। প্রেমিকা সুইডিশ শার্লট ভন শেডভিন ওরফে লটাকে চিনে নিয়েছিলেন ওড়িশার প্রদ্যুম্ন কুমার মহানন্দিয়া ওরফে পিকে। তাঁরা প্রেমে পড়েন। চার হাত একও হয়। কিন্তু সুইডেনে ফিরে যতে হয় লটাকে। তাঁরা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, দেখা হবেই। প্রতিশ্রুতি পালন হোক বা প্রেমের টানে, ওড়িশার এক গ্রামের ছেলে মাত্র ৬০ টাকায় মেয়েদের চড়ার সেকেন্ডহ্যান্ড সাইকেল কিনে পাড়ি দিয়েছিলেন সুইডেনে। ১৩৩ দিনের সে যাত্রায় পথে ঘটেছিল নানা ঘটনা। সত্তরের দশকের সেই অবিশ্বাস্য ‘লভ স্টোরি’ যে কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানিয়ে দিতে পারে। পিকে-লটার প্রেমের আখ্যান স্তব্ধ করেছিল গোটা দেশকে। তাঁদের প্রেমকাহিনি নিয়েই তথ্যচিত্র তৈরি করতে চলেছেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক অরল্যান্ডো ফন আইনসাইডেল।
০১ / ২৪

ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এক জ্যোতিষী। তা মিলেছিল অক্ষরে অক্ষরে। প্রেমিকা সুইডিশ শার্লট ভন শেডভিন ওরফে লটাকে চিনে নিয়েছিলেন ওড়িশার প্রদ্যুম্ন কুমার মহানন্দিয়া ওরফে পিকে। তাঁরা প্রেমে পড়েন। চার হাত একও হয়। কিন্তু সুইডেনে ফিরে যতে হয় লটাকে। তাঁরা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, দেখা হবেই। প্রতিশ্রুতি পালন হোক বা প্রেমের টানে, ওড়িশার এক গ্রামের ছেলে মাত্র ৬০ টাকায় মেয়েদের চড়ার সেকেন্ডহ্যান্ড সাইকেল কিনে পাড়ি দিয়েছিলেন সুইডেনে। ১৩৩ দিনের সে যাত্রায় পথে ঘটেছিল নানা ঘটনা। সত্তরের দশকের সেই অবিশ্বাস্য ‘লভ স্টোরি’ যে কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানিয়ে দিতে পারে। পিকে-লটার প্রেমের আখ্যান স্তব্ধ করেছিল গোটা দেশকে। তাঁদের প্রেমকাহিনি নিয়েই তথ্যচিত্র তৈরি করতে চলেছেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক অরল্যান্ডো ফন আইনসাইডেল।

দিল্লিতে আলাপ: সালটা ১৯৭৫। ওডিশার কান্ধাপাড়া গ্রামের প্রদ্যুম্ন কুমার মহানন্দিয়া ওরফে পিকে তখন স্কলারশিপ পেয়ে দিল্লির আর্ট কলেজের ছাত্র। বয়স ২৬ বছর। পড়াশোনার খরচ জোগাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের ছবি আঁকেন। যাঁদের পছন্দ হয়, তাঁরা পয়সা দেন। তাতে খাওয়ার খরচটা উঠে আসে। এমনই এক দিন ছবি আঁকাতে আসেন সুইডিশ তরুণী শার্লট ফন শেডভিন ওরফে লটা।
০২ / ২৪

দিল্লিতে আলাপ: সালটা ১৯৭৫। ওডিশার কান্ধাপাড়া গ্রামের প্রদ্যুম্ন কুমার মহানন্দিয়া ওরফে পিকে তখন স্কলারশিপ পেয়ে দিল্লির আর্ট কলেজের ছাত্র। বয়স ২৬ বছর। পড়াশোনার খরচ জোগাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের ছবি আঁকেন। যাঁদের পছন্দ হয়, তাঁরা পয়সা দেন। তাতে খাওয়ার খরচটা উঠে আসে। এমনই এক দিন ছবি আঁকাতে আসেন সুইডিশ তরুণী শার্লট ফন শেডভিন ওরফে লটা।

প্রথম দেখা: লটা সুন্দরী। বছর কুড়ি বয়স। তাঁর রূপ-লাবণ্য ঝড় তুলতে পারে যে কোনও পুরুষেরই হৃদয়ে। তা-ই হয়েছিল। মুগ্ধ হয়েছিলেন পিকে। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়েন সাগরপাড়ের সুন্দরীর।
০৩ / ২৪

প্রথম দেখা: লটা সুন্দরী। বছর কুড়ি বয়স। তাঁর রূপ-লাবণ্য ঝড় তুলতে পারে যে কোনও পুরুষেরই হৃদয়ে। তা-ই হয়েছিল। মুগ্ধ হয়েছিলেন পিকে। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়েন সাগরপাড়ের সুন্দরীর।

প্রেমের জোয়ারে ভাসাবে দোঁহারে:  নিজের প্রতিকৃতি আঁকানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেন লটা। সানন্দে রাজি হন তরুণ চিত্রকর। ক্যানভাসের টানে চারচোখের মিলন হয়। মনের দেওয়া নেওয়ার শুরু তখন থেকেই।
০৪ / ২৪

প্রেমের জোয়ারে ভাসাবে দোঁহারে: নিজের প্রতিকৃতি আঁকানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেন লটা। সানন্দে রাজি হন তরুণ চিত্রকর। ক্যানভাসের টানে চারচোখের মিলন হয়। মনের দেওয়া নেওয়ার শুরু তখন থেকেই।

জ্যোতিষির ভবিষ্যদ্বাণী:  মহানন্দিয়া পরিবারের পুত্রবধূ কেমন হবে, তার গণনা নাকি আগেই করেছিলেন এক জ্যোতিষী। ভবিষ্যদ্বাণী ছিল পিকের স্ত্রী হবে বিদেশিনী, সঙ্গীতপ্রেমী এবং তাঁর বাড়ি জঙ্গলে ঘেরা হবে। শার্লটের সঙ্গে সবক’টি ভবিষ্যদ্বাণীই মিলে গিয়েছিল। লটা পেশায় ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। সে সময়ে পিয়ানো বাজানো শিখছিলেন। সুইডেনে তাঁর পৈতৃক বাড়ির পিছনে ছিল ঘন জঙ্গলও।
০৫ / ২৪

জ্যোতিষির ভবিষ্যদ্বাণী: মহানন্দিয়া পরিবারের পুত্রবধূ কেমন হবে, তার গণনা নাকি আগেই করেছিলেন এক জ্যোতিষী। ভবিষ্যদ্বাণী ছিল পিকের স্ত্রী হবে বিদেশিনী, সঙ্গীতপ্রেমী এবং তাঁর বাড়ি জঙ্গলে ঘেরা হবে। শার্লটের সঙ্গে সবক’টি ভবিষ্যদ্বাণীই মিলে গিয়েছিল। লটা পেশায় ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। সে সময়ে পিয়ানো বাজানো শিখছিলেন। সুইডেনে তাঁর পৈতৃক বাড়ির পিছনে ছিল ঘন জঙ্গলও।

ভাগ্যের সঙ্কেত:  কথোপকথনের সময়ে লটা জানান যে, তিনিও ভারতে আসার অমোঘ টান অনুভব করছিলেন। লন্ডনে থাকার সময়ে কোণার্ক সূর্যমন্দিরের একটি ছবি কিনে দেওয়ালে লাগিয়েছিলেন। সেই ছবির টানেই তিনি ভারতভ্রমণে আসেন।
০৬ / ২৪

ভাগ্যের সঙ্কেত: কথোপকথনের সময়ে লটা জানান যে, তিনিও ভারতে আসার অমোঘ টান অনুভব করছিলেন। লন্ডনে থাকার সময়ে কোণার্ক সূর্যমন্দিরের একটি ছবি কিনে দেওয়ালে লাগিয়েছিলেন। সেই ছবির টানেই তিনি ভারতভ্রমণে আসেন।

সাত পাকে বাঁধা:  পিকে-লটার প্রেমপর্ব শুরু হয়। ওড়িশায় নিজের গ্রামে লটাকে নিয়ে যান প্রদ্যুম্ন। তাঁর পরিবারও অভ্যর্থনা জানায় বিদেশিনীকে। সামাজিক রীতি মেনে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তাঁরা।
০৭ / ২৪

সাত পাকে বাঁধা: পিকে-লটার প্রেমপর্ব শুরু হয়। ওড়িশায় নিজের গ্রামে লটাকে নিয়ে যান প্রদ্যুম্ন। তাঁর পরিবারও অভ্যর্থনা জানায় বিদেশিনীকে। সামাজিক রীতি মেনে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তাঁরা।

মাঝে হল ছাড়াছাড়ি:  বিয়ের পরপরই সুইডেনে ফেরার ডাক আসে। উচ্চশিক্ষার জন্য নিজের দেশে ফিরে যেতে হয় শার্লটকে। তাঁরা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দেন, যে দেখা হবেই।
০৮ / ২৪

মাঝে হল ছাড়াছাড়ি: বিয়ের পরপরই সুইডেনে ফেরার ডাক আসে। উচ্চশিক্ষার জন্য নিজের দেশে ফিরে যেতে হয় শার্লটকে। তাঁরা একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দেন, যে দেখা হবেই।

পত্রের প্রত্যাশা:  চোখের দেখা নেই। চিঠি আদানপ্রদানেই প্রেম বিনিময় হতে থাকে। প্রিয়জনের চিঠির প্রত্যাশায় ব্যাকুলতাও বাড়তে থাকে। প্রহর বুঝি আর কাটে না। স্ত্রীকে একবারটি দেখতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন পিকে।
০৯ / ২৪

পত্রের প্রত্যাশা: চোখের দেখা নেই। চিঠি আদানপ্রদানেই প্রেম বিনিময় হতে থাকে। প্রিয়জনের চিঠির প্রত্যাশায় ব্যাকুলতাও বাড়তে থাকে। প্রহর বুঝি আর কাটে না। স্ত্রীকে একবারটি দেখতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন পিকে।

অর্থকষ্ট:  সালটা ১৯৭৭। সুইডেনে যাবেন বলে মনস্থির করেন পিকে। এ দিকে সংসারে নিদারুণ অর্থকষ্ট। বিমানের টিকিট কেনা তো দূর, সংসার খরচ চালানোই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। কিন্তু যেতে তাঁকে হবেই।
১০ / ২৪

অর্থকষ্ট: সালটা ১৯৭৭। সুইডেনে যাবেন বলে মনস্থির করেন পিকে। এ দিকে সংসারে নিদারুণ অর্থকষ্ট। বিমানের টিকিট কেনা তো দূর, সংসার খরচ চালানোই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। কিন্তু যেতে তাঁকে হবেই।

৬০ টাকার সাইকেল:  সুইডেন দেশটি কোথায়, তা-ও ঠিকমতো জানতেন না পিকে। কিন্তু হার মানবেন না কোনও ভাবেই। ৬০ টাকা দিয়ে মেয়েদের চড়ার সাইকেল কিনে ফেলেন।
১১ / ২৪

৬০ টাকার সাইকেল: সুইডেন দেশটি কোথায়, তা-ও ঠিকমতো জানতেন না পিকে। কিন্তু হার মানবেন না কোনও ভাবেই। ৬০ টাকা দিয়ে মেয়েদের চড়ার সাইকেল কিনে ফেলেন।

যাত্রার প্রস্তুতি: পিকে ঠিক করেন সাইকেলে চেপেই বিদেশে পাড়ি দেবেন। সঙ্গে নেন গুটিকয়েক জামাকাপড়, একটি স্লিপিং ব্যাগ, তাঁবু এবং তাঁর ছবি আঁকার সরঞ্জাম।
১২ / ২৪

যাত্রার প্রস্তুতি: পিকে ঠিক করেন সাইকেলে চেপেই বিদেশে পাড়ি দেবেন। সঙ্গে নেন গুটিকয়েক জামাকাপড়, একটি স্লিপিং ব্যাগ, তাঁবু এবং তাঁর ছবি আঁকার সরঞ্জাম।

ভুল পথে পাড়ি: তথ্যচিত্রে পিকে জানিয়েছেন, ভৌগোলিক মানচিত্র নিয়ে স্পষ্ট ধারণা সে সময়ে তাঁর ছিল না। শুধু জানতেন, সূর্য যে দিকে অস্ত যায়, সে দিকটা ধরে চলতে হবে। এই বিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। প্রথমে সুইডেনকে ভেবেছিলেন সুইৎজ়ারল্যান্ড। ভুল পথে পাড়িও দেন। তবে সে ভুল সংশোধন করে দেন এক পর্যটক।
১৩ / ২৪

ভুল পথে পাড়ি: তথ্যচিত্রে পিকে জানিয়েছেন, ভৌগোলিক মানচিত্র নিয়ে স্পষ্ট ধারণা সে সময়ে তাঁর ছিল না। শুধু জানতেন, সূর্য যে দিকে অস্ত যায়, সে দিকটা ধরে চলতে হবে। এই বিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। প্রথমে সুইডেনকে ভেবেছিলেন সুইৎজ়ারল্যান্ড। ভুল পথে পাড়িও দেন। তবে সে ভুল সংশোধন করে দেন এক পর্যটক।

পথেই হবে পথ চেনা:  পিকের যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না। পথে একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে। ভুল পথে গিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন। ছবি এঁকে কয়েকদিনের খাওয়ার খরচ জোগাড় করেন। তাঁবু খাটিয়ে থেকে যান রাস্তাতেই। অমৃতসরের কাছে বেলজিয়ামের বাসিন্দা এক পর্যটক তাঁকে পথ চিনিয়ে দেন। তিনিই ইউরোপের ম্যাপ দেখিয়ে জানান যে সুইৎজ়ারল্যান্ড নয়, তাঁকে যেতে হবে সুইডেনে।
১৪ / ২৪

পথেই হবে পথ চেনা: পিকের যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না। পথে একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে। ভুল পথে গিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন। ছবি এঁকে কয়েকদিনের খাওয়ার খরচ জোগাড় করেন। তাঁবু খাটিয়ে থেকে যান রাস্তাতেই। অমৃতসরের কাছে বেলজিয়ামের বাসিন্দা এক পর্যটক তাঁকে পথ চিনিয়ে দেন। তিনিই ইউরোপের ম্যাপ দেখিয়ে জানান যে সুইৎজ়ারল্যান্ড নয়, তাঁকে যেতে হবে সুইডেনে।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে জটিলতা:  পর্যটকের দেখানো পথ ধরে সাইকেল চালিয়ে ভারত-পাকিস্তান সীমন্তে এসে পৌঁছোন চিত্রকর। হাতে তখন একটিও পয়সা নেই। শরীর অবসন্ন। কিন্ত মনের জোর অসীম। পাকিস্তান সীমান্তে এসে দেখেন সেখানে আইনি জটিলতা বিশাল। কোনও ভাবেই তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হবে না পাকিস্তানে। সে সময়েও এক ব্যক্তির সহযোগিতা পান তিনি। অমৃতসরের বাসিন্দা সেই ব্যক্তি পিকের প্রেমকাহিনি শুনে আপ্লুত হয়ে তাঁকে কাবুল যাওয়ার বিমানের টিকিট কিনে দেন।
১৫ / ২৪

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে জটিলতা: পর্যটকের দেখানো পথ ধরে সাইকেল চালিয়ে ভারত-পাকিস্তান সীমন্তে এসে পৌঁছোন চিত্রকর। হাতে তখন একটিও পয়সা নেই। শরীর অবসন্ন। কিন্ত মনের জোর অসীম। পাকিস্তান সীমান্তে এসে দেখেন সেখানে আইনি জটিলতা বিশাল। কোনও ভাবেই তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হবে না পাকিস্তানে। সে সময়েও এক ব্যক্তির সহযোগিতা পান তিনি। অমৃতসরের বাসিন্দা সেই ব্যক্তি পিকের প্রেমকাহিনি শুনে আপ্লুত হয়ে তাঁকে কাবুল যাওয়ার বিমানের টিকিট কিনে দেন।

প্রথম বিমানে চড়া: সেই প্রথম বিমানে চড়েন পিকে। তাঁর সাইকেলটি ভ্যানে করে কাবুলে নিয়ে যান এক জার্মান দম্পতি। তাঁদের সঙ্গেও দেখা হয়েছিল যাত্রাপথে। তরুণ চিত্রকরের অভিজ্ঞতা আকর্ষণ করেছিল তাঁদেরও।
১৬ / ২৪

প্রথম বিমানে চড়া: সেই প্রথম বিমানে চড়েন পিকে। তাঁর সাইকেলটি ভ্যানে করে কাবুলে নিয়ে যান এক জার্মান দম্পতি। তাঁদের সঙ্গেও দেখা হয়েছিল যাত্রাপথে। তরুণ চিত্রকরের অভিজ্ঞতা আকর্ষণ করেছিল তাঁদেরও।

এই পথ যদি না শেষ হয়:  কাবুল থেকে সাইকেল নিয়ে ফের শুরু হয় যাত্রা। ঘুম পেলে তাঁবু খাটিয়ে পথেই থেকে যেতেন। ছবি এঁকে খাওয়ার খরচ উঠে যেত। প্রায় রোজই কোনও না কোনও অপরিচিতের সঙ্গে দেখা হত। তাঁরা মুগ্ধ হতেন পিকের জীবনের গল্পে। কেউ খাবার দিতেন, কেউ বা আশ্রয়। কেউ দেখিয়ে দিতেন পথ। এ ভাবেই হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে যান।
১৭ / ২৪

এই পথ যদি না শেষ হয়: কাবুল থেকে সাইকেল নিয়ে ফের শুরু হয় যাত্রা। ঘুম পেলে তাঁবু খাটিয়ে পথেই থেকে যেতেন। ছবি এঁকে খাওয়ার খরচ উঠে যেত। প্রায় রোজই কোনও না কোনও অপরিচিতের সঙ্গে দেখা হত। তাঁরা মুগ্ধ হতেন পিকের জীবনের গল্পে। কেউ খাবার দিতেন, কেউ বা আশ্রয়। কেউ দেখিয়ে দিতেন পথ। এ ভাবেই হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে যান।

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি:  পিছনে তাকানোর সময় নেই। পিকের সাইকেল যেন ডানা মেলে উড়ে যেতে চায় সুইডেনে। কিন্তু থামতে হল। পথ দুর্ঘটনায় মৃতপ্রায় এক অস্ট্রিয়ার তরুণীকে দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারেননি। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তরুণী যতদিন না সুস্থ হয়ে ওঠেন, অপেক্ষাও করেন পিকে।
১৮ / ২৪

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি: পিছনে তাকানোর সময় নেই। পিকের সাইকেল যেন ডানা মেলে উড়ে যেতে চায় সুইডেনে। কিন্তু থামতে হল। পথ দুর্ঘটনায় মৃতপ্রায় এক অস্ট্রিয়ার তরুণীকে দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারেননি। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তরুণী যতদিন না সুস্থ হয়ে ওঠেন, অপেক্ষাও করেন পিকে।

পরোপকারের প্রতিদান: অস্ট্রিয়ার ওই তরুণীর নাম ছিল লিয়ানা। ভিয়েনার একটি গ্যালারিতে কাজ করতেন। পিকে তাঁকে নিয়ে যান দূতাবাসে। সেখান থেকেই নিজের দেশে ফেরত পাঠানো হয় লিয়ানাকে। যাওয়ার আগে নিজের নাম-ঠিকানা পিকের কাছে রেখে যান তরুণী।
১৯ / ২৪

পরোপকারের প্রতিদান: অস্ট্রিয়ার ওই তরুণীর নাম ছিল লিয়ানা। ভিয়েনার একটি গ্যালারিতে কাজ করতেন। পিকে তাঁকে নিয়ে যান দূতাবাসে। সেখান থেকেই নিজের দেশে ফেরত পাঠানো হয় লিয়ানাকে। যাওয়ার আগে নিজের নাম-ঠিকানা পিকের কাছে রেখে যান তরুণী।

প্রেমপত্র: সপ্তাহখানেক পরে ইস্তানবুলে গিয়ে পৌঁছন পিকে। সেখানে পোস্টঅফিসে গিয়ে স্ত্রীর লেখা চিঠি পান। সঙ্গে আরও একটি চিঠি তাঁকে দেন পোস্টঅফিসের কর্মকর্তারা। সেটি ছিল লিয়েনার লেখা চিঠি এবং ভিয়েনা যাওয়ার ট্রেনের টিকিট। সেখানকার একটি ছবিপ্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার নিমন্ত্রণপত্রও ছিল সঙ্গে। ভাগ্য খুলে যায় প্রদ্যুম্নের। সাইকেল সঙ্গে নিয়েই ট্রেনে চেপে বসেন।
২০ / ২৪

প্রেমপত্র: সপ্তাহখানেক পরে ইস্তানবুলে গিয়ে পৌঁছন পিকে। সেখানে পোস্টঅফিসে গিয়ে স্ত্রীর লেখা চিঠি পান। সঙ্গে আরও একটি চিঠি তাঁকে দেন পোস্টঅফিসের কর্মকর্তারা। সেটি ছিল লিয়েনার লেখা চিঠি এবং ভিয়েনা যাওয়ার ট্রেনের টিকিট। সেখানকার একটি ছবিপ্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার নিমন্ত্রণপত্রও ছিল সঙ্গে। ভাগ্য খুলে যায় প্রদ্যুম্নের। সাইকেল সঙ্গে নিয়েই ট্রেনে চেপে বসেন।

সীমান্তের বাধা পার:  জার্মান সীমান্তে গিয়ে ফের বিপদে পড়েন পিকে। অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তারা তাঁকে আটকে দেন। অবশেষে স্ত্রীর লেখা চিঠি ও লিয়েনার নিমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে ছাড় পান। একটি সাইকেল সম্বল করে কী ভাবে একজন মানুষ হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, সে কাহিনি মুগ্ধ করে জার্মান অফিসারদেরও।
২১ / ২৪

সীমান্তের বাধা পার: জার্মান সীমান্তে গিয়ে ফের বিপদে পড়েন পিকে। অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তারা তাঁকে আটকে দেন। অবশেষে স্ত্রীর লেখা চিঠি ও লিয়েনার নিমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে ছাড় পান। একটি সাইকেল সম্বল করে কী ভাবে একজন মানুষ হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, সে কাহিনি মুগ্ধ করে জার্মান অফিসারদেরও।

ভিয়েনায় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ: সব বাধা পেরিয়ে ভিয়েনায় পৌঁছোন। পৌঁছে জানতে পারেন লিয়েনা সেখানে নেই। তবে তাঁর বোনই সব ব্যবস্থা করে দেন। সেখানকার গ্যালারিতে ছবির প্রদর্শনী করেন পিকে। সামান্য রোজগারও হয়। লিয়েনার পরিবারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সুইডেনের গোথেনবার্গের টিকিট কেটে দেন। এই গোথেনবার্গেই বাড়ি লটার।
২২ / ২৪

ভিয়েনায় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ: সব বাধা পেরিয়ে ভিয়েনায় পৌঁছোন। পৌঁছে জানতে পারেন লিয়েনা সেখানে নেই। তবে তাঁর বোনই সব ব্যবস্থা করে দেন। সেখানকার গ্যালারিতে ছবির প্রদর্শনী করেন পিকে। সামান্য রোজগারও হয়। লিয়েনার পরিবারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সুইডেনের গোথেনবার্গের টিকিট কেটে দেন। এই গোথেনবার্গেই বাড়ি লটার।

আবার দেখা যদি হল সখা: ১৩৩ দিনে প্রায় ৬ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে ১৯৭৭ সালের ২৩ মে সুইডেনের গোথেনবার্গে পৌঁছোন। সেখানে পৌঁছে পাবলিক বুথ থেকে লটাকে ফোন করেন। ছুটে আসেন সুইডিশ তরুণী। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন।
২৩ / ২৪

আবার দেখা যদি হল সখা: ১৩৩ দিনে প্রায় ৬ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে ১৯৭৭ সালের ২৩ মে সুইডেনের গোথেনবার্গে পৌঁছোন। সেখানে পৌঁছে পাবলিক বুথ থেকে লটাকে ফোন করেন। ছুটে আসেন সুইডিশ তরুণী। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন।

পুনর্মিলন:  লটার পরিবার সানন্দে পিকে-কে মেনে নেয়। সামাজিক রীতি মেনে ফের চারহাত এক হয় দু’জনের। সুইডেনেই সংসার পাতেন পিকে। বর্তমানে তিনি সুইডেনের আর্ট কলেজের শিক্ষক, লটা সঙ্গীত শিক্ষিকা। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। তথ্যচিত্রে পিকে বলেছেন, যে ভাবে লটাকে ভালবেসে ছুটে গিয়েছিলেন বহু বছর আগে, আজও তা পারেন। এক অবিচ্ছেদ্য বাঁধনে তাঁরা দু’জনেই বাঁধা রয়েছেন গত ৫০ বছর ধরে।
২৪ / ২৪

পুনর্মিলন: লটার পরিবার সানন্দে পিকে-কে মেনে নেয়। সামাজিক রীতি মেনে ফের চারহাত এক হয় দু’জনের। সুইডেনেই সংসার পাতেন পিকে। বর্তমানে তিনি সুইডেনের আর্ট কলেজের শিক্ষক, লটা সঙ্গীত শিক্ষিকা। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। তথ্যচিত্রে পিকে বলেছেন, যে ভাবে লটাকে ভালবেসে ছুটে গিয়েছিলেন বহু বছর আগে, আজও তা পারেন। এক অবিচ্ছেদ্য বাঁধনে তাঁরা দু’জনেই বাঁধা রয়েছেন গত ৫০ বছর ধরে।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy