সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হলেন অভিনেতা শাহিদ কপূরের প্রাক্তন প্রেমিকা করীনা কপূর ও স্ত্রী মীরা রাজপুত। করীনার ‘পডকাস্ট’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মীরা। শাহিদ-পত্নীর সঙ্গে করিনার এই এপিসোডের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনুরাগীরা। নিজেদের নিয়ে ছড়ানো নানা গুজব থেকে শুরু করে বলিউডের তারকাদের স্ত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা, তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ, আলোচনায় বাদ যায়নি কিছুই। উঠে আসে সন্তানদের তাঁরা কী ভাবে বড় করছেন, সেই প্রসঙ্গও।
করীনা প্রশ্ন করেন, শাহিদের সঙ্গে অভিভাবকত্ব কী ভাবে ভাগ করে নেন মীরা? মীরার সাফ জবাব, ‘‘এক জন সব কিছু সামলাতে পারে না, দু'জনেরই সমান ভাবে জড়িত থাকা জরুরি।’’ মীরা জানান, বাড়িতে সন্তানদের খেলাধূলার আর ডায়েটের দায়িত্ব শাহিদের উপর। আর হোমওয়ার্ক, বার্থডে পার্টি, ক্লাস, শিশুদের নতুন কিছু শেখানো— সেই সবটা দেখেন মীরা নিজে। তবে বাঁধাধরা কোনও নিয়ম নেই। কেউ কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকলে, অন্য জন সবটা সামলে নেন।
মীরার কথা শুনে করীনা প্রশ্ন করেন, শিশুদের সব মজার জিনিসগুলি বাবাদের ভাগেই কেন পড়ে? হেসে মীরা বলেন, তিনিও কম মজা করেন না শিশুদের সঙ্গে। শাহিদ না থাকলে মেয়ে মিশা আর ছেলে জেইনের সঙ্গে মজাদার রিল বানান, যা শুধু তাঁদের জন্যই। ছেলে-মেয়েকে সমান ভাবে বড় করছেন মীরা। তিনি জানান, ছেলে-মেয়েকে মূল্যবোধ শেখানোর ক্ষেত্রে তিনি কোনও ফারাক রাখেন না। এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনার কথা বলেন মীরা। এক বার মিশা আর জেইনের মধ্যে ঝগড়া হয়। মীরা তখন ছেলেকে বলেন, ‘‘জেইন, এটা করতে নেই, ও মেয়ে।’’ জেইন পাল্টা বলে, ‘‘কিন্তু আমিও তো ছেলে, দিদিও তো আমার সঙ্গে এটা করতে পারে না।’’ এই কথাটাই মীরাকে ভাবায়। তিনি বুঝতে পারেন, সম্মান আর দয়ার শিক্ষা লিঙ্গ দেখে হয় না। এক লিঙ্গ অন্যের থেকে বেশি সম্মান পাবে, এই ধারণাটা বদলানো জরুরি। মীরা বলেন, ‘‘আমরা দু'জনকেই সমান ভাবে বড় করছি। আশা করি, ওরা যখন বড় হবে, তখন ওদের মনে লিঙ্গভেদ ভিত্তিক ধারণা থাকবে না।’’
বাবা-মায়ের দায়িত্ব ভাগাভাগি কেন জরুরি?
· ক্লান্তি ও অবসাদ দূরীকরণ: একা সব দায়িত্ব সামলাতে গেলে বাবা-মা (বিশেষ করে মায়েদের) উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বা ক্রনিক স্ট্রেস তৈরি হয়। দায়িত্ব ভাগ করে নিলে এই চাপ অনেক কমে।
· সম্পর্কের ভারসাম্য: সন্তানের প্রতি বাবা ও মায়ের দায়িত্বের আলাদা কোনও নির্দিষ্ট গণ্ডি নেই। দু'জনের মিলিত অংশগ্রহণে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মানও উন্নত হয়।
· শিশুর বিকাশ: বাবা-মা, দু'জনেই কাজের সূত্রে বা সন্তান লালন-পালনে সক্রিয় থাকলে শিশুরাও ছোট থেকেই আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর হতে শেখে।