বাড়ির লোকের কাছে শান্ত, সংযত। কিন্তু বাইরের লোকজনের কাছেই সেই সারমেয় হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক। সম্প্রতি পটীয়ালার ঘুমননগর এলাকায় পিটবুলের আক্রমণে মারাত্মক জখম হয়েছেন এক মহিলা। আহত তাঁর স্বামীও। ভাড়ার জন্য বাড়ি দেখতে গিয়ে বাড়িওয়ালার কুকুরের হামলার শিকার হন তাঁরা। মহিলা ভর্তি হাসপাতালে।
ওই ঘটনার পরে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে পটীয়ালার পুর প্রশাসন। ‘হিংস্র প্রজাতির’ কোনও কুকুর শহরে পোষা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে তারা। পটীয়ালার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বছর কয়েক আগেই উত্তরপ্রদেশের কানপুর, গাজিয়াবাদ-সহ একাধিক জায়গায় হিংস্র পোষা কুকুরের হামলায় আহত হন কয়েক জন। ২০২২ সালে পিটবুল, রটওয়েলারের মতো প্রজাতির কুকুর পোষা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় কানপুরে। পুষলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে হবে বলেও জানানো হয়। এমন ঘটনা ঘটেছে ভারতের আরও কয়েকটি শহরেও। ২০২৪ সালেই পিটবুল, রটওয়েলার, মাসটিফ-সহ কয়েকটি হিংস্র প্রজাতির কুকুর পোষায় নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি।
জার্মান শেফার্ড থেকে পিটবুল, রটউইলার্সের মতো বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর পোষেন অনেকে। বাড়িতে থাকতে থাকতে তারা যেমন শান্ত হয়ে যায়, তেমনই ঠিকমতো প্রশিক্ষণ না পেলে তারা বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে। এমন কোন ধরনের কুকুর বাড়িতে পোষার সময় সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
পিটবুল টেরিয়ার: আমেরিকান পিটবুল টেরিয়ার মাঝারি আকৃতির, শক্তিশালী এবং পেশিবহুল সারমেয়। এদের কামড়ের জোরও যথেষ্ট। পুরুষ কুকুর উচ্চতায় ১৮-২১ ইঞ্চি হয়, স্ত্রী কুকুর ১৭-২০ ইঞ্চি। এমনিতে এই কুকুর বাড়ির লোকেদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলেও, কোনও কারণে উত্ত্যক্ত হলে বা মনিবের বিপদ রয়েছে মনে করলে হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত এই ধরনের কুকুরকে যদি ছোট থেকে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া না হয়, বিপদ ঘটতে পারে।
আমেরিকান বুলডগ: বুলডগ মাঝারি আকারের বেশ শক্তিশালী কুকুর। খামার, বড় বা়ড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য এই কুকুর উপযুক্ত। তবে শখ করে পুষতে গেলে যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার। না হলে বুলডগ হয়ে উঠতে পারে হিংস্র। হামলাও চালাতে পারে। ৬০-১০০ পাউন্ডের হয় এই কুকুরগুলি। ফলে উন্মুক্ত স্থান পাহারার জন্য তারা উপযুক্ত হলে ফ্ল্যাট বা বাড়ির উপযোগী না-ও হতে পারে। জনবহুল এলাকায় এমন সারমেয় পালনে ঝুঁকিও রয়েছে।
রটওয়েলার: এই প্রজাতির কুকুর মাঝারি থেকে বিশাল বপুর হয়। ওজন ৮০-১৩৫ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। অত্যন্ত সবল, কামড়ের জোরও অনেক। এমনিতে তারা হিংস্র নয়, মনিবভক্তও। তবে, কখনও কখনও তারা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের কুকুর রাখতে গেলে সঠিক প্রশিক্ষণ জরুরি।
কেন কর্সো: আকারে বেশ বড়, শক্তিশালী। ওজন হয় ১১০ পাউন্ডের মতো। ইটালির এই প্রজাতির কুকুর অত্যন্ত বুদ্ধিমান। একসময়ে এদের পূর্বপুরুষদের খামার পাহারার কাজে ব্যবহার করা হত। সঠিক প্রশিক্ষণে তারা পোষ মানতে পারে। তবে হিংস্র হয়ে উঠলেই বিপদ।
আমেরিকান স্ট্যাফোর্ডশায়ার টেরিয়ার: ১৭-১৯ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। পেশিবহুল শরীর। সাদা, কালো, ধূসর রঙের হয়। অত্যন্ত বুদ্ধিমানও। তবে বাড়িতে পোষ্য হিসাবে রাখাটা বিপজ্জনক। যথাযথ প্রশিক্ষণ না পেলে, এই ধরনের কুকুরও হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।