গোলাকার লালচে দাগ। এক বার হলে, চুলকে, লাল হয়ে কষ্টের শেষ থাকে না। দাদকে ত্বকের যতটা মামুলি সংক্রমণ বলে মনে হয়, আসলে তা নয়। ছত্রাকজনিত ত্বকের এই সমস্যা বার বার ফিরেও আসে।
দাদের সমস্যার কথা প্রায় সকলেই জাননে। তবে জানেন কি, আপনার আদরের মার্জারও ত্বকের এমন অসুখে আক্রান্ত হতে পারে। মানুষের থেকে যেমন পোষ্যের দাদ হতে পারে, তেমন পোষ্যের থেকেও মানবদেহে ছত্রাক ছড়ায়। সেই কারণে, বিশেষত বর্ষায় পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
বিড়ালের দাদ হলে কোন লক্ষণ দেখা যায়?
মানুষের যেমন গোলকার লালচে হয়ে যায় ত্বক, তেমনই পোষ্যের গায়ের কোনও একটি জায়গা থেকে গোল হয়ে লোম খসতে পারে।
তীব্র চুলকানির জন্য স্থানটি ফুলে লাল হয়ে যেতে পারে।
আচমকা শরীরের কোনও একটি স্থান পোষ্য বার বার নখ দিয়ে আঁচড়াতে পারে (চুলকায় বলে)।
লোমের কোনও একটি অংশের বর্ণ পরিবর্তন।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে সংক্রমণ নখেও ছড়াতে পারে।
কখনও কখনও দাদ অত্যন্ত কষ্টদায়কও হতে পারে। সংক্রমণ তীব্র হলে তা কখনও চামড়ার গভীর স্তরে টিউমারের মতো আকার নিতে পারে। একে গ্র্যানুলোমা বলা হয়।
তবে দাদ হলেই যে বিড়ালের শরীরে এই লক্ষণগুলি প্রকাশ পাবে, এমন নয়। কখনও কখনও ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়া সত্ত্বেও বাইরে কোনও উপসর্গ থাকে না। এই উপর্গহীন অবস্থা আরও বিপজ্জনক। কারণ, এই সময় বিড়াল যে মানুষ বা অন্য প্রাণীর সংস্পর্শে থাকবে, সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে তাঁদেরও। বিড়ালকে আদর করার সময়, সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিড়াল যেখানে বসে, শোয়— সেখান থেকেও মানবদেহে দাদ ছড়াতে পারে।
পশু চিকিৎসকেরা বলছেন, যে ছত্রাকের জন্য দাদ হয়, সেই ছত্রাক বিছানা, কার্পেট, পোষ্যের চিরুনি-সহ বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে ১৮ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে, পরিচ্ছন্নতায় নজর না দিলেই সমস্যা অবধারিত। উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়াতেই ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ে। ফলে বর্ষাকালে এ রোগের দাপট বাড়তে পারে।
কোন বিড়ালের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি?
একেবারে ছোট এবং বয়স্ক— এই দুই ধরনের বিড়ালের শরীরেই দাদের সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। লক্ষণ প্রকাশ না পেলে, চট করে বোঝাও যায় না। সেই কারণেই মাঝেমধ্যে পোষ্যদের পশুরোগ চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ ধরনের আলো গায়ে ফেলে চিকিৎসকেরা দেখতে পারেন, এমন কোনও সংক্রমণ হচ্ছে কি না। উপসর্গ দেখা দিলে, দাদ কতটা ছড়িয়েছে, তার উপর চিকিৎসা নির্ভর করবে। দাদের জায়গাটিতে মলম লাগানোর নিদান দিতে পারেন চিকিৎসক। কখনও কখনও ওষুধ খাওয়া্নোও দরকার পড়ে। চিকিৎসায় ৪-৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
মানুষের শরীরে দাদের সংক্রমণ রুখতে কী করণীয়?
পোষ্যকে আদর করার পরে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
পোষ্য যেখানে শোয় বা বসে— সেই স্থানগুলি পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।
পোষ্যের দিকে নজর রাখতে হবে, উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হলে সমস্যা বেশি দূর এগোতে পারবে না।