বলিউডের সবচেয়ে দামি বাড়ি কার? শাহরুখের ‘মন্নত’, অমিতাভের ‘জলসা’ও ফিকে যে সব তারকার বাড়ির সামনে
শাহরুখের ‘মন্নত’ আর অমিতাভের ‘জলসা’কে সবাই চেনেন, কিন্তু বলিউডেই আছে এমন কিছু ঠিকানা, যার দাম শুনলে এই দুই ল্যান্ডমার্কও ফিকে লাগবে। রইল বি-টাউনের সবচেয়ে দামি ৯ বাসভবনের অন্দরমহলের গল্প।
কেউ জন্মসূত্রে নবাব, রয়েছে পৈতৃক প্রাসাদ। আবার কেউ মুম্বইতে এসেছিলেন একরাশ স্বপ্ন নিয়ে, তার পর একের পর হিট ছবি, বিজ্ঞাপন, কষ্টার্জিত পারিশ্রমিকে তিলে তিলে গড়েছেন নিজের সাম্রাজ্য। প্রাপ্তির গল্পটা তাই সবার ক্ষেত্রে এক নয়। এক দিকে রয়েছে শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বংশপরম্পরা। অন্য দিকে রয়েছে দীর্ঘ দিনের, সাফল্য আর নিজের হাতে গড়া ঠিকানা। কিন্তু সূত্র যা-ই হোক, গন্তব্য এক। বলিউডের এই তারকাদের বাড়ির দরজায় পৌঁছোলে এবং দামের অঙ্কন শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।
বলিউড তারকাদের বাড়ি নিয়ে কথা উঠলেই দু’টো নাম সবার আগে আসে। এক, অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’। দুই, শাহরুখ খানের 'মন্নত'। জুহু আর বান্দ্রার এই দুই বাংলো মুম্বইয়ের ল্যান্ডমার্ক। ভক্তরা দূর-দূর থেকে শুধু গেটের ছবি তুলতে আসেন। কিন্তু জানেন কি, বলিউডেই এমন কয়েকজন অভিনেতা আছেন, যাঁদের বাড়ির কাছে জলসা-মন্নত দুটোই আকারে, আয়তনে, দামে অনেক পিছিয়ে?
তাঁদের মধ্যে একজন হলেন নবাব-পুত্র সইফ অলী খান। গুরুগ্রাম থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে, গমক্ষেতের মাঝে ১০ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে দুধসাদা এক রাজপ্রাসাদ— নাম পটৌদী প্যালেস। এখন সে বাড়ির মালিকানা অভিনেতা সইফের হাতে। এই প্রাসাদের ভিতরে রয়েছে ১৫০টি ঘর।
যার মধ্যে নজর কাড়ে ৭টি শোয়ার ঘর, ৭টি সাজঘর, বিলিয়ার্ড রুম, সুইমিং পুল, আর বিশাল বাগান। প্রাসাদটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যদিও সইফ এই প্রাসাদটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাননি। সইফের বাবা, কিংবদন্তি ক্রিকেটার মনসুর অলী খান পটৌদী ওরফে টাইগার পটৌদীর মৃত্যুর পর প্রাসাদটি হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল সইফদের। পরবর্তী সময় এই প্রাসাদটি আবার কিনতে হয়েছিল অভিনেতাকে।
সইফের পরেই বলিপাড়ার সবচেয়ে দামি বাড়ির মালিকের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন অভিনেতা রণবীর কপূর আর অভিনেত্রী আলিয়া ভট্ট। মুম্বইয়ের বান্দ্রার পালি হিলে কপূর পরিবারের পুরনো জমিতে নতুন করে গড়ে উঠেছে রণবীর-আলিয়ার স্বপ্নের বাড়ি ‘কৃষ্ণা রাজ’, ঠাকুরদা রাজ কপূর ও ঠাকুরমা কৃষ্ণা রাজ কাপূরের নামে এমন নামকরণ।
আরও পড়ুন:
বলিপাড়ার খবর, বহুতল এই বাংলোর বাজারদর এখন প্রায় ৩৫০-৪০০ কোটি টাকা। বাংলোয় রয়েছে প্রশস্ত কাচের বারান্দা, ভার্টিক্যাল গার্ডেন, ইনডোর সুইমিং পুল, প্রাইভেট স্কাই ডেক, ব্যক্তিগত হোম থিয়েটার, ফিটনেস স্টুডিয়ো এবং পরিবারের জন্য আলাদা আলাদা ফ্লোর।
মুম্বইয়ের বান্দ্রায় আরব সাগরের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ‘মন্নত’ শুধু বাড়ি নয়, শাহরুখ খানের স্বপ্ন। আগে নাম ছিল 'ভিলা ভিয়েনা', ব্রিটিশ আমলে ১৯১৪ সালে তৈরি এই হেরিটেজ বাংলো। ১৯৯৭-এ 'ইয়েস বস' ছবির ‘চাঁদ তারে’ গানের শুটিংয়ের সময় শাহরুখ প্রথম দেখেন এই বাংলোটি আর ২০০১ সালে কেনেন সেটি। তখন তার দাম ছিল প্রায় ১৫-১৮ কোটি টাকা।
আজ সেই বাড়ির দাম ২০০-৩০০ কোটি টাকা। এখন ৬ তলা থেকে ৮ তলা হচ্ছে ‘মন্নত’। এই বাড়ির অন্দরসজ্জা করেছিলেন শাহরুখ পত্নী গৌরী খান। আপাতত সংস্কারের কাজ চলছে বাংলোটির। ‘মন্নত ২.০’-র অন্দরমহল ঠিক কেমন হবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনুরাগীরা।
মুম্বইয়ের জুহুতে অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি ‘জলসা’ রীতিমতো পর্যটনস্থল হয়ে গিয়েছে। মুম্বই ঘুরতে আসা মানেই এক বার ‘জলসা’-র সামনে ঢুঁ মেরে যাওয়া। যদি এক বার ‘বিগ বি’-এর ঝলক পাওয়া যায়! প্রতি রবিবার এই বাড়ির সামনে হাজার হাজার অনুরাগীর জমায়েত চোখে পড়ে, অমিতাভ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে অনুরাগীদের দেখা দেন। প্রায় ৪০ বছর হল, অমিতাভ জলসায় থাকেন। এই বাড়িটির দাম প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:
শুনতে অবাক লাগলেও ‘জলসা’ অমিতাভ নিজে কেনেননি। আশির দশকের শুরুর দিকে ‘সত্তে পে সত্তা’ ছবির সাফল্যের পর চলচ্চিত্র নির্মাতা রমেশ সিপ্পি তাঁকে এটি উপহার দেন। এক সময়ের সেই সৌজন্যমূলক উপহারটিই পরবর্তীতে বচ্চন পরিবারের সবচেয়ে পরিচিত বাসভবনে পরিণত হয়।
বলিউডের তারকা দম্পতি রণবীর সিংহ ও দীপিকা পাড়ুকোনের নতুন ঠিকানাও রয়েছে বলিউডের তারকাদের দামি বাসভবনের তালিকায়। ২০২২ সালে বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের ‘সাগর রেশম’ বিল্ডিংয়ে তাঁরা কিনেছেন এক বিশাল সমুদ্রমুখী কোয়াড্রুপ্লেক্স। দাম প্রায় ১১৯ কোটি টাকা।
বিল্ডিংয়ের ১৭ থেকে ২০ তলা পর্যন্ত চারটি ফ্লোর মিলিয়ে রণবীরদের বাড়ি মোট ১১,২৬৬ বর্গফুটের। সঙ্গে রয়েছে ১,৩০০ বর্গফুটের বিশাল ছাদ, যেখান থেকে আরব সাগর ও বান্দ্রা-ওরলি সি লিঙ্কের ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক দৃশ্য চোখে পড়ে।
জুহুতে আরব সাগরের ধারে শিল্পা শেট্টি ও রাজ কুন্দ্রার দুই তলা সমুদ্রমুখী বাংলো ‘কিনারা’র দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা। অন্দরসজ্জাশিল্পী সুজ়ান খানের নকশা করা এই বাড়ির মূল আকর্ষণ কালো রঙের প্রবেশদ্বারে সোনালি পদ্মের কারুকাজ, আর দরজার দু’পাশে রুপোর হাতির মূর্তি, সবুজ লেদারের লিফট, কাচের মেঝের নীচে বয়ে চলা ইনডোর ঝরনা, ঘরের ভিতর আস্ত কাঠের ঘোড়া, প্রাইভেট জিম ও কিচেন গার্ডেন, যেখানে বড় কাচের জানালা দিয়ে সারাক্ষণ সমুদ্র দেখা যায়।
অভিনেত্রী সোনম কপূরের রুচি, সাজগোজ, পছন্দ বরাবরই ছকভাঙা। লন্ডনের ফ্ল্যাট হোক, মুম্বইয়ের বাড়ি বা দিল্লির বাংলো, অন্দরসজ্জার ক্ষেত্রে তিনি ম্যাক্সিমালিজ়মে বিশ্বাসী। প্রচুর রং, কারুকার্য, শিল্পকর্মে ভরা অন্দরমহল তাঁর পছন্দের। এই তিনটির মধ্যে সবচেয়ে বড় ও দামি হল দিল্লির পৃথ্বীরাজ রোডের বাংলো।
বলিপাড়ার তথ্য অনুযায়ী, এর দাম প্রায় ১৭৩ কোটি টাকা। বিশাল সবুজ লন, চারিদিকে গাছ, কোনায় কোনায় ইনডোর প্ল্যান্ট। দিনের আলোয় ভেসে যায় গোটা বাড়ি, আর দেওয়ালে দেওয়ালে সাজানো পরিবারের পুরনো আমলের অন্দরসজ্জার সামগ্রী, আর্ট পিস আর হাতে বোনা টেক্সটাইল। মুম্বইয়ের গ্ল্যামার থেকে দূরে, এই বাংলো সোনমের কাছে শিকড়ে ফেরার জায়গা, যেখানে প্রকৃতির মাঝে নিজের ঐতিহ্য, রুচি আর সাবেকিয়ানাকে আগলে রেখেছেন তিনি।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিপাড়ায় রাজ করছেন অক্ষয় কুমার। শাহরুখ-আমির-সলমন— এই তিন খানের দাপাদাপির মধ্যেও বি-টাউনের সুপারস্টারের তকমা আদায় করে নিয়েছেন তিনি। জুহুর এই বাড়িতেই স্ত্রী টুইঙ্কল খন্না এবং পুত্র-কন্যার সঙ্গে থাকেন অক্ষয়। এই বাড়িটি একটি ডুপ্লেক্স। দাম প্রায় ৮০ কোটি টাকা। বাড়ির অন্দরসজ্জা করেছেন স্বয়ং অক্ষয়-ঘরনি। এই জমিটি আগে ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী সুমতি মোরারজির, যিনি মহাত্মা গাঁধীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
বাড়ির বাগানে একটা উঁচু পাথরের চাতাল আছে, যেখানে গাঁধীজি ধ্যান করতেন। অক্ষয় সেই চাতালে হাত দেননি, আজও অক্ষত রেখেছেন। এই বাড়ির ভিতরে রয়েছে ইনডোর সুইমিং পুল, বিশাল ঝাড়বাতি, বিশ্ব জুড়ে সংগ্রহ করা শিল্পকর্ম। বাড়ির বাইরে টুইঙ্কলের বাবা অভিনেতা রাজেশ খন্নার স্মৃতিতে লাগানো আমগাছে ঘেরা বাগান থেকে সরাসরি সমুদ্র দেখা যায়।
জুহু-ভারসোভা লিঙ্ক রোডের ‘মন্নত অ্যাপার্টমেন্ট’-এ হৃত্বিক রোশনের ১০০ কোটি টাকার স্কাই-ভিলা আসলে ২০২০ সালে প্রায় ৯৭.৫ কোটি টাকায় কিনেছিলেন অভিনেতা। এখন দাম অনেকটাই বেড়েছে। ১৫, ১৬ ও ১৭ তলা মিলিয়ে প্রায় ৩৮,০০০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে বিস্তৃত হৃত্বিকের বাড়ি। যার মধ্যে ২৭,৫৩৪ বর্গফুটের ডুপ্লেক্স ও ১১,১৬৫ বর্গফুটের আরেকটি ফ্ল্যাট। এর সঙ্গে লাগোয়া রয়েছে ৬,৫০০ বর্গফুটের ওপেন-টু-স্কাই টেরেস, প্রাইভেট এলিভেটর ও ১০টি পার্কিং।