প্রাক্তন বোলারের প্রেমিকা, করতেন একত্রবাসও! সম্পর্ক ভাঙায় অভিনয়ও ছেড়েছিলেন বিবেক ওবেরয়ের নায়িকা
হিন্দি ভাষার ছবি ছাড়াও তামিল এবং মালয়ালম ভাষার ছবিতে টুকটাক অভিনয় করেছিলেন ঈশা শরবানী। পরে অভিনয় থেকে সরে গিয়ে নাচের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ঈশা। কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না বলি নায়িকার।
অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়ার ইচ্ছা ছিল না কোনও দিনই। তবে, বলি পরিচালকের নেকনজরে পড়ার পর বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু অভিনেত্রী হিসাবে পেশাজীবনে এগোতে পারেননি তিনি। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন বোলারের সঙ্গে আট বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কোথায় ‘উধাও’ হয়ে যান ঈশা শরবানী?
১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বরে গুজরাতে জন্ম ঈশার। তাঁর মা পেশায় নৃত্যশিল্পী। ঈশার বাবা অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা। তিনি পেশায় সঙ্গীতশিল্পী। গুজরাতে বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন ঈশা। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ঈশার ভাই সঙ্গীত নিয়ে কেরিয়ার গড়ে তোলেন। কিন্তু ঈশা বেছে নিয়েছিলেন তাঁর মায়ের পেশাজীবনকে।
গুজরাতের অহমদাবাদে কয়েক বছর থাকার পর ঈশা পরিবার-সহ কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৩ বছর। তিরুঅনন্তপুরমে একটি শিল্পকলা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন ঈশার বাবা-মা। সেখানে সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ দিতেন ঈশার বাবা এবং নাচ শেখাতেন ঈশার মা।
কেরলের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে স্থানীয় মার্শাল আর্ট, কত্থক, ছৌ নাচ-সহ নানা ধরনের নৃত্য শিখেছিলেন ঈশা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই ফিল্মদুনিয়া থেকে আমি শতহস্ত দূরে ছিলাম। টানা ১১ বছর ধরে সারা দিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা নৃত্য অনুশীলন করতাম। মা খুব কড়া ছিল। ছেলে-মেয়ে বলে কোনও ভেদাভেদ ছিল না।’’ মায়ের কাছে নাচ শেখার পর সাত বছরের ব্যবধানে ২২টি ভিন্ন দেশে গিয়ে পারফর্ম করেন ঈশা।
নৃত্যে পটুতার কারণে ঈশাকে পছন্দ হয়েছিল বলি পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের। সুভাষ তাঁর ছবির জন্য নতুন মুখের সন্ধানে ছিলেন, যিনি অভিনয়ের চেয়েও নৃত্যে বেশি পারদর্শী। ২০০৫ সালে সুভাষের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কিসনা: দ্য ওয়ারিয়র পোয়েট’। এই ছবিতে বলি অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা যায় ঈশাকে।
আরও পড়ুন:
কেরিয়ারের প্রথম ছবি বক্সঅফিসে তেমন ব্যবসা করতে না পারলেও দু’-তিন বছরের ব্যবধানে ঈশা পর পর বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। ‘গুড বয়, ব্যাড বয়’, ‘ইউ মি অউর হম’, ‘লাক বাই চান্স’, ‘করিব করিব সিঙ্গল’, ‘দিল বেচারা’র মতো একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন ঈশা। কিন্তু ২০২০ সালের পর আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে। নাচ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঈশা।
বলি অভিনেতা হৃতিক রোশনের সঙ্গে একটি জনপ্রিয় সংস্থার বিজ্ঞাপনে নাচ করে প্রশংসা অর্জন করেন ঈশা। বলিউডে সদ্য পা রাখার পর ভারতীয় প্রাক্তন ক্রিকেটার জ়াহির খানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন নায়িকা। শোনা যায়, ২০০৫ সালে এক অনুষ্ঠানে জ়াহিরের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ঈশার। প্রথম আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, তার পর সেই বন্ধুত্ব পরিণতি পায় প্রেমে।
দীর্ঘ আট বছর জ়াহিরের সঙ্গে প্রেম করেছিলেন ঈশা। কানাঘুষো শোনা যায়, বোলারের সঙ্গে একত্রবাসে ছিলেন তিনি। ভারতের ম্যাচ চলাকালীন অধিকাংশ সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দেখা যেত ঈশাকে। ২০১১ সালে বিশ্বকাপের সময় গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে যে, শীঘ্রই জ়াহির এবং ঈশা সাত পাকে বাঁধা পড়বেন। কিন্তু তার আগেই প্রাক্তন বোলারের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায় ঈশার।
২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে ঈশা জানিয়েছিলেন, জ়াহিরের সঙ্গে তিনি আর সম্পর্কে নেই। সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তাঁদের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। জনশ্রুতি, দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক সত্ত্বেও পেশাজীবনের ব্যস্ততা এবং দূরত্বের কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন প্রত্যাশা তৈরি হলে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা হয়ে যান জ়াহির এবং ঈশা।
আরও পড়ুন:
ঈশার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পাঁচ বছর পর বলি অভিনেত্রী সাগরিকা ঘটগেকে ২০১৭ সালে বিয়ে করেন জ়়াহির। অন্য দিকে, ঈশা আর কোনও সম্পর্কে জড়াননি। বরং অভিনয়জীবন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
হিন্দি ভাষার ছবি ছাড়াও তামিল এবং মালয়ালম ভাষার ছবিতে টুকটাক অভিনয় করেছিলেন ঈশা। পরে অভিনয় থেকে সরে গেলে নাচের দিকে আরও মনোযোগ দেন তিনি। ২০১২ সালে নাচের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ঈশা। নৃত্যশিল্পী হিসাবে বিচারকদের প্রশংসাও অর্জন করতে শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না ঈশার।
রিয়্যালিটি শোয়ের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছোনোর ঠিক আগে হাত ভেঙে গিয়েছিল ঈশার। সময়মতো জখম না সারার কারণে প্রতিযোগিতা থেকে বাধ্য হয়ে সরে যেতে হয় ঈশাকে। পরে মায়ের স্কুল নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যান তিনি।
বর্তমানে অভিনয় থেকে সরে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পাকাপাকি ভাবে আস্তানা গড়েছেন ঈশা। সেখানেই নৃত্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলেছেন তিনি। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে নাচের অনুষ্ঠান করেন ঈশা। নাচের পাশাপাশি যোগ প্রশিক্ষক হিসাবেও কেরিয়ার গড়ে তুলেছেন বলিউডের প্রাক্তন অভিনেত্রী।
বাতাসে রিং বা দড়ি ঝুলিয়ে নাচ করার দক্ষতা অর্জন করেছেন ঈশা। বর্তমানে তিনি ‘সিঙ্গল মাদার’। পুত্রসন্তানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন তিনি। সমাজমাধ্যমে নিজস্ব অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলেছেন ঈশা। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় অনুগামীর সংখ্যা ২৭ হাজারের গণ্ডি পার করে ফেলেছে ‘কিসনা’র নায়িকার।