মাথায় পাকিস্তানের হাত! ভারতীয় তরুণদের উস্কে ভারতেই হামলার ছক, কী ভাবে কাজ করে ‘শহজ়াদ ভট্টী নেটওয়ার্ক’?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রের মতে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশ জুড়ে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। শাহ জানান, ১২ অগস্টের অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে ইম্প্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), পাকিস্তানের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ দেওয়া গ্রেনেড এবং সিসি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে।
আবার খবরে কুখ্যাত জঙ্গি শহজ়াদ ভট্টী। স্বাধীনতা দিবসের আগে ভট্টী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ২০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর তার পরেই আবার খবরের শিরোনামে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি শহজ়াদ।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের সময় দেশ জুড়ে বড়সড় হামলার ছক কষেছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। কিন্তু সময়মতো আইএসআই-মদতপুষ্ট ভট্টী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ওই নাশকতা এড়ানো গিয়েছে।
শাহ জানান, গত ১২ অগস্ট দেশের ১৪টি রাজ্যে চালানো অভিযানে দুশোর বেশি সন্দেহভাজন জঙ্গি ও প্রচুর বিস্ফোরক, গ্রেনেড, পেট্রল বোমা উদ্ধার হয়। শহজ়াদ ভট্টী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এ দেশে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী হামলার অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র জানাচ্ছে, আইএসআই-নিয়ন্ত্রিত ওই জঙ্গি চক্রের বিরুদ্ধে গ্রেনেড, আইইডি ও পেট্রল বোমা হামলা, অশান্তির লক্ষ্যে ধর্মস্থানে পরিকল্পিত হামলা চালানো ছাড়াও বেছে বেছে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্রের মতে, এ বারও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশ জুড়ে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা। শাহ জানান, ১২ অগস্টের অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে ইম্প্রোভাইজ়ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), পাকিস্তানের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ দেওয়া গ্রেনেড এবং সিসি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে শাহ বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মোদী সরকার আইএসআই-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠী ‘শহজ়াদ ভট্টী নেটওয়ার্ক’কে ধ্বংস করেছে এবং ২০০ জনেরও বেশি সদস্যকে গ্রেফতার করে তাদের নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ‘শহজ়াদ ভট্টী নেটওয়ার্ক’-এর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অস্ত্র আইন, এনডিপিএস এবং বিস্ফোরক সংক্রান্ত আইনের আওতায় ৮০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
কিন্তু কে এই জঙ্গি নেতা ভট্টী? তাঁর নেটওয়ার্কই বা কী ভাবে কাজ করে? গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারির আওতায় থাকা আন্তঃসীমান্ত অপরাধজগতের অন্যতম প্রধান মাথা হিসেবে উঠে এসেছে ভট্টীর নাম।
আগে গ্যাংস্টার হিসাবে কুখ্যাতি অর্জন করে ভট্টী। পরে নাম জড়িয়ে পড়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। মদত জোটে আইএসআইয়ের থেকে। মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে ভারত।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে নেটওয়ার্ক চালায় ভট্টী। ভারতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো এবং দলে নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ করে তার জঙ্গি নেটওয়ার্ক। আর তার জন্য হাতিয়ার করা হয় সমাজমাধ্যম এবং ‘এনক্রিপ্টেড’ যোগাযোগ মাধ্যমকে।
কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ এবং রাজ্য পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, উত্তর ভারতে বেশ কয়েকটি হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে ভট্টীর নাম উঠে এসেছে। জলন্ধরের ইউটিউবার রজার সান্ধুর বাসভবনে গ্রেনেড হামলার ঘটনাতেও নাকি তার হাত ছিল।
এ ছাড়া অম্বালার বলদেব নগর থানায় আইইডি যুক্ত গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চার্জশিট জমা করা হয়েছিল ভট্টীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, হিমাচল প্রদেশের নালাগঢ় থানায় গ্রেনেড হামলার মূল চক্রী হিসাবেও চিহ্নিত করা হয়েছিল তাকে। অভিযোগ, ‘বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল’-এর সহযোগিতায় এই হামলা চালানো হয়।
‘শহজ়াদ ভট্টী নেটওয়ার্ক’ (এসবিএন) হল পাকিস্তানভিত্তিক ও আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট একটি জঙ্গি চক্র। এই চক্রটি ভারত জুড়ে গ্রেনেড, আইইডি, পেট্রোল বোমা হামলা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বা বেছে বেছে হামলা চালিয়ে হত্যার (টার্গেটেড কিলিং) মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভট্টীর চক্রটি পুলিশ, প্রতিরক্ষা ও ধর্মীয় স্থানগুলির উপর নজরদারি (রেকি) চালানো এবং গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য স্থানীয় সহযোগীদের অর্থ প্রদান করে থাকে।
এনআইএ-র ‘ওয়ান্টেড’ অপরাধীদের তালিকায় নাম থাকা ভট্টী গত কয়েক বছরে ভারতীয় তরুণদের জঙ্গি দলে যোগ করানোর ক্ষেত্রে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ। জম্মু এবং কাশ্মীরে সক্রিয় মাদক-সন্ত্রাসবাদের (নারকো-টেররিজম) পেছনে আইএসআই-এর লোক হিসাবেও চিহ্নিত করা হয়েছে তাকে।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেছে ভট্টী। সেই ভট্টীর নেটওয়ার্কেরই ২০০ সন্দেহভাজন জঙ্গিকে স্বাধীনতা দিবসের আগে গ্রেফতারির কথা জানিয়েছে শাহের মন্ত্রক।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ অগস্ট দেশের ১৪টি রাজ্যে একযোগে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। আটক করা হয় ২৫৩ জনকে। তাঁদের মধ্যে ২০০-র বেশি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদী ও সন্ত্রাসে সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর এঁদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ থেকে ৬২ জনকে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে হরিয়ানা (৫২), দিল্লি (৫১), পঞ্জাব (৪৪), রাজস্থান (১৫), মহারাষ্ট্র (৮), উত্তরাখণ্ড (৫), কর্নাটক (৩), গুজরাত (৩), বিহার (৩), তেলঙ্গানা (২), হিমাচল প্রদেশ (২), জম্মু-কাশ্মীর (২) এবং কেরল (২)।