সমাজমাধ্যমে ট্রোলিং, ধাওয়া করে গুলি, সমকাম-বিদ্বেষের জেরেই খুন পঞ্জাবের নেটপ্রভাবী? কে এই ম্যাড সান্ধু?
শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে অমৃতসরের লোহাড়কা রোডে। সেখানে সান্ধুকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর।
গুলি করে খুন করা হয়েছে পঞ্জাবের জনপ্রিয় রূপটান শিল্পী (মেকআপ আর্টিস্ট) তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার (নেটপ্রভাবী) ম্যাড সান্ধুকে। একজন নেটপ্রভাবী হিসেবে তিনি মেকআপ শিল্প এবং লিঙ্গ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতেন।
শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে অমৃতসরের লোহাড়কা রোডে। সেখানে সান্ধুকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর।
ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার (সিপি) হরমনবীর সিংহ গিল জানিয়েছেন, সান্ধু তাঁর গাড়ি ধোয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানেই হামলা চালানো হয় পঞ্জাবের অন্যতম পরিচিত নেটপ্রভাবীর উপর।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার অমৃতসরের লোহাড়কা রোডের একটি গাড়ি ধোয়ার জায়গায় (কার ওয়াশিং পয়েন্ট) বাইকে আসা দু’জন ব্যক্তি গুলি করেন সান্ধুকে। রবিবার পুলিশ এ-ও জানিয়েছে, পঞ্জাবের জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী এবং মেকআপ আর্টিস্টের হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি পরিকল্পিত হামলা।
প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত, গুলি করে খুনের অনেক আগে থেকেই সান্ধুর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন হামলাকারীরা। পুলিশের দাবি, আতততায়ীরা সান্ধুকে অনুসরণও করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
পুলিশ কমিশনার গিল জানিয়েছেন, অভিযুক্তেরা সান্ধুকে অনুসরণ করেছিলেন এবং তিনি গাড়ি ধোয়ার স্থানে পৌঁছোনোর পর পরই গুলি চালানো হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নেটপ্রভাবী। হামলার পর হামলাকারীরা লোহাড়কা রোড ধরে পালিয়ে যান।
জানা গিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করার পর পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তের বিষয় নিয়েও তদন্ত চলছে।
কে এই ম্যাড সান্ধু? সান্ধু পঞ্জাব পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এক সাব-ইনস্পেক্টরের ছেলে। পুরো নাম মধুসূদন সান্ধু।
সান্ধু একজন মেক-আপ আর্টিস্ট, স্টাইলিস্ট এবং নেটপ্রভাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং অন্যান্য ভাইরাল ভিডিয়োর মাধ্যমে তিনি বিপুল সংখ্যক ফলোয়ার তৈরি করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
মূলত মেক-আপ, ফ্যাশন, স্টাইলিং, জমকালো সাজসজ্জা এবং জীবনধারা সংক্রান্ত ভিডিয়ো এবং রিল তৈরি করতেন সান্ধু। তবে তাঁর নেটমাধ্যমের কার্যক্রম কেবল সৌন্দর্যচর্চা এবং ফ্যাশনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না।
সান্ধু প্রায়শই ছবি, লিঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়, এলজিবিটিকিউপ্লাস সম্প্রদায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং বৃহত্তর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরতেন, যা তাঁকে তাঁর অনুরাগীদের কাছে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
বিভিন্ন পডকাস্টে নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে পরিচিত হয়ে ওঠেন সান্ধু। পডকাস্টেও মেক আপ, সিনেমা এবং লিঙ্গ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন তিনি। তবে জনসমক্ষে নিজের এই উপস্থিতির কারণে সমাজমাধ্যমে তাঁকে প্রায়শই সমকাম বিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হতে হত।
সমাজমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়ার আগে সান্ধু ফ্যাশন জগতে তাঁর পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন। সহকারী স্টাইলিস্ট এবং পোশাকশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে লক্ষ লক্ষ অনুরাগী ছিল সান্ধুর। শুধু ইনস্টাগ্রামেই ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই লক্ষ। ফেসবুক এবং ইউটিউব মিলিয়ে সেই সংখ্যা আরও বেশি।
শনিবার প্রকাশ্যে গুলি করা হয় সান্ধুকে। ময়নাতদন্তের পর রবিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। নেটপ্রভাবীর মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। শোকের ছায়া পঞ্জাবের নেটপাড়াতেও।
পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে তাদের। জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করারও চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা এখন এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
খুনের আগে সমাজমাধ্যমে ক্রমাগত সমকাম-বিদ্বেষী ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন সান্ধু। তিনি নিজের যৌন পরিচিতিকে সহজ ভাবে মেনে নিয়েছিলেন এবং প্রায়ই বলতেন, ‘‘ঈশ্বর আমাকে ঠিক এই ভাবেই সৃষ্টি করেছেন।’’ সেই সমকাম-বিদ্বেষের কারণেই সান্ধুকে খুন করা হয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্য দিকে সান্ধুর হত্যাকাণ্ডের জেরে পঞ্জাবের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ) সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী বিজেপি এবং কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিজেপি সাংসদ তরুণ চুঘ বলেছেন, ‘‘অমৃতসরে দিনের আলোয় ম্যাড সান্ধুকে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। এই ঘটনাটি আবার আপ সরকারের ব্যর্থতাগুলিকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং প্রমাণ করেছে যে পঞ্জাবকে অপরাধী ও মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের যুবসমাজ নিরাপদ নয়।’’