১৭ বছরে ব্যবসায় পা, হতে চেয়েছিলেন রাজনীতিক, ৩০ বছরে শেষ করেন জীবন! ‘চায়ওয়ালাজ়’-এর মালিক, কে এই রোহিত?
রোহিতের বাড়ি রাজস্থানের দৌসার সাকেত কলোনিতে। তিনি বেছে নিয়েছিলেন চা বিক্রির পেশা। রোহিতের বাবা হিতেন্দ্রমোহন শর্মা একটি ওষুধের দোকান চালান।
বেছে নিয়েছিলেন চা বিক্রির পেশা। রাস্তার ধারেই চায়ের দোকান খুলেছিলেন। নামও হয় বিস্তর। কিন্তু হঠাৎ সেই ব্যবসা বন্ধ করেন। এর দু’মাসের মাথায় আত্মঘাতী হন ‘চায়ওয়ালাজ়’-এর প্রতিষ্ঠাতা রোহিত শর্মা (৩০)।
চায়ের স্টার্টআপ সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা শনিবার দুপুরে রাজস্থানের দৌসায় তাঁর বাসভবনে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, তাঁকে ঘরের ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
রোহিতকে ওই অবস্থায় দেখে দরজা ভেঙে ফেলেন পরিবারের সদস্যেরা। জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু লাভ হয়নি। তরুণ ব্যবসায়ীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
কোতোয়ালি পুলিশও নিশ্চিত করেছে যে, আত্মহত্যাই করেছেন রোহিত। ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তরুণ ব্যবসায়ী এই চরম পদক্ষেপ কেন করলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চলছে জিজ্ঞাসাবাদও।
আরও পড়ুন:
কে এই রোহিত? রোহিতের বাড়ি রাজস্থানের দৌসার সাকেত কলোনিতে। বাবা হিতেন্দ্রমোহন শর্মা একটি ওষুধের দোকান চালান।
রোহিতের স্ত্রী শিক্ষিকা। একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ান তিনি। দম্পতির সাত বছর বয়সি এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্যবসায় হাতেখড়ি রোহিতের। নার্সিং পড়ার পাশাপাশি নিজের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ‘চায়ওয়ালাজ়’ নামের ওই স্টার্টআপ শুরু করে রাজস্থান জুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন রোহিত।
সে সময় থেকে বিভিন্ন কারণে স্থানীয় ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন রোহিত। স্টার্টআপ ব্যবসা করার পাশাপাশি তিনি দৌসা শহরে মিশন হেল্পলাইন চালাতেন এবং সমাজসৈনিক হিসাবেও কাজ করতেন। এলাকাবাসীদেরও প্রিয়পাত্র ছিলেন রোহিত।
আরও পড়ুন:
জয়পুরের মানসরবরের শিপ্রা পথ এলাকায় প্রথম তাঁর চায়ের ক্যাফে খুলেছিলেন রোহিত। পরে তিনি জয়পুরে আরও একটি আউটলেট চালু করেন। অন্যান্য শহর মিলিয়ে ‘চায়ওয়ালাজ়’-এর মোট সাতটি ক্যাফে খুলেছিলেন রোহিত।
সব ভালই চলছিল। মাস ছয়েক আগে শিপ্রা পথের ক্যাফেটি আচমকা বন্ধ করে দেন রোহিত। এর পর ধীরে ধীরে সব ক’টি আউটলেটই বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা স্পষ্ট হয়নি।
শোনা যায়, আধ্যাত্মিকতার পথে ঝুঁকেছিলেন রোহিত। নিয়মিত বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করতেও শুরু করেছিলেন। তবে ব্যবসা বন্ধের মাস ছয়েকের মধ্যে কেন তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
রাজনীতির ময়দানেও পা দিতে চেয়েছিলেন রোহিত। ২০২৪ সালে দৌসা বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায়, বিজেপি নেতাদের ‘অনুরোধে’ তিনি তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।