আরবিআইয়ের প্রস্তাবে সায় কেন্দ্রের, তৈরি হবে ১০ এবং ২০ টাকার ২০০ কোটি পলিমার নোট! কী হবে কাগজের নোটের?
জানা গিয়েছে, এই প্লাস্টিকের নোটের আওতায় থাকবে ১০ এবং ২০ টাকার পলিমার নোট। প্রথমে ১০ এবং ২০ টাকার প্রতিটির জন্য ১০০ কোটি করে পলিমার নোট তৈরি করে পরীক্ষা চালানো হবে।
আর কাগুজে মুদ্রা নয়। সারাদেশে এ বার চালু হবে প্লাস্টিকের নোট! পলিমার নোটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ভারত। সরকার ইতিমধ্যেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, এই প্লাস্টিকের নোটের আওতায় থাকবে ১০ এবং ২০ টাকার পলিমার নোট। প্রথমে ১০ এবং ২০ টাকার প্রতিটির জন্য ১০০ কোটি করে পলিমার নোট তৈরি করে পরীক্ষা চালানো হবে। সফল হলে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য বাজারে ছাড়া হবে নোটগুলি।
পলিমার নোট বাজারে আনার বিষয়ে আরবিআই অনেক দিন ধরেই চিন্তাভাবনা করছে বলে শোনা যাচ্ছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পটনা ও মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত শেষ দু’টি বৈঠকে ভারতে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে আরবিআইয়ের বোর্ড।
এর পর সেই প্রস্তাব পাঠানো হয় সরকারের কাছে। লোকসভায় উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরী এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কিন্তু কেন হঠাৎ প্লাস্টিকের নোট চালু করতে তৎপর হয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক? সূত্রের খবর, কাগুজে মুদ্রার তুলনায় প্লাস্টিকের টাকার উৎপাদন খরচ অনেক কম। তা ছাড়া সহজে এটি ছিঁড়ে যায় না বা নষ্ট হয় না। সেই কারণেই এটিকে বাজারে আনার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারি সূত্রে খবর, কাগুজে মুদ্রার থেকে প্লাস্টিকের নোট তৈরির খরচ অনেক কম। এটি চালু হলে এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) থেকেও পলিমারের টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহক।
আরবিআইয়ের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩-’২৪ আর্থিক বছরে কাগুজে নোট ছাপাতে কেন্দ্রের খরচ হয়েছিল ৫,১০১.৪ কোটি টাকা। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে সেটা আরও বেড়ে ৬,৩৭২.৮ কোটিতে গিয়ে পৌঁছোয়।
আমজনতার মধ্যে কাগুজে টাকার চাহিদা বেশি হওয়ায় ওই নোট বেশি পরিমাণে ছাপতে বাধ্য হচ্ছে সরকার, জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এর পাশাপাশি বার্ষিক রিপোর্টে ময়লা নোট বাতিলের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছে আরবিআই।
২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২,৩৮০ কোটি নোংরা টাকা প্রত্যাহার করে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। সেটা আগের আর্থিক বছরের (২০২৩-’২৪) ২,১২৪ কোটির তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন:
বাতিল নোটগুলির অধিকাংশই ৫০০ টাকার বলে জানা গিয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ১০০ টাকা। ফলে প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে ১০ এবং ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট বাজারে এনে পরিস্থিতি বুঝে নিতে চাইছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। তেমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত।
এ ছাড়াও পলিমার নোটে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরবিআই মূলত স্থায়িত্বের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের উল্লেখ করা আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট অনেক বেশি সময় ধরে মজুবত এবং ব্যবহারযোগ্য।
বিপুল পরিমাণে মুদ্রা প্রচলনকারী দেশের জন্য এটি একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত যুক্তি। আর সে কারণেই ব্যাপক পরিসরে বাজারে প্রচলনের আগে ভারতীয় পরিবেশে এই নোটগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করার লক্ষ্যেই প্লাস্টিকের নোটগুলি পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে খরর।
ডিজিটাল পেমেন্টের উপরও কি প্রভাব পড়বে পলিমার নোটের? পলিমার নোট চালুর বিষয়টি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছোনোর ক্ষেত্রে আরবিআই বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কের তরফে সরকারকে জানানো হয়েছে যে, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উপর পলিমার নোটের কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা কেবল নোটগুলো নিয়মিত প্রচলনে আসার পরেই মূল্যায়ন করা সম্ভব। আরবিআই-এর মূল বক্তব্য, কাগজের নোট এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক। সাধারণ মানুষের জন্য উভয় ব্যবস্থাই একই সঙ্গে উপলব্ধ।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল গত এক বছরে এ দেশের আমজনতার হাতে থাকা নোটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত ১১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সেটা ৪২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়, যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড।
চলতি অর্থবর্ষের (২০২৬-’২৭) প্রথম দেড় মাসে বাজারে থাকা কাগুজে টাকার পরিমাণ ১.১৫ লক্ষ কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন সত্ত্বেও নগদের চাহিদা যে কমেনি, এটাই তার প্রমাণ।
পাশাপাশি এ-ও প্রশ্ন উঠেছে, পরীক্ষা সফল হওয়ার পর দেশে প্লাস্টিকের নোট চালু হলে বর্তমানে চালু কাগজের নোটগুলির কী হবে? সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্লাস্টিকের নোট চালু হলেও কাগজের নোট বাতিল করা হবে না।
লোকসভায় অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া জবাব থেকে জানা গিয়েছে, চালু কাগজের নোটের পরিবর্তে নয়, বরং সেগুলোর পাশাপাশি পলিমার নোট চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে আরবিআইয়ের তরফে। পলিমার নোটের জন্য কাগজের মুদ্রা পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার কোনও প্রস্তাবও করা হয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে।
একই সঙ্গে সূত্রের খবর, প্রথমেই একসঙ্গে সারা দেশে পলিমার নোট না-ও চালু করতে পারে আরবিআই। জানা গিয়েছে, গোড়ায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসাবে একে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের। আগামী দিনে এ ব্যাপারে আরও বড় ঘোষণা করতে পারে তারা।