‘অপারেশন সিঁদুরে’ স্বপ্নভঙ্গ! ভিসার বাধা পেরিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ জন পাকিস্তানি কনে, সাহায্য করল কেন্দ্র
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা হয়। সেই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ করে ভারত। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে বিয়ে করেন অনেকেই। তবে গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আবহে ভারত যখন পাকিস্তান থেকে সিন্ধিদের জন্য ভিসা এবং সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়, তখন বহু মানুষের বিয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়। হতাশা এবং বিষাদ নেমে আসে জীবনে।
কয়েক দশক ধরে ঝামেলামুক্ত ভিসা এবং অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভারতে তাঁদের সন্তানদের বিয়ে দেয় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের পরিবারগুলি। কিন্তু গত বছর থেকে ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে বহু বিয়ে বানচাল হয়।
অবশেষে ভারত সরকার ১৫০ জন পাকিস্তানি-সিন্ধি নারীর সহায়তায় এগিয়ে এসেছে, যাঁদের ভারতে বিয়ের কথা পাকা হয়েছিল এবং যাঁরা নিজেদের নতুন সংসারে পা রাখার অপেক্ষায় ছিলেন।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা হয়। সেই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ করে ভারত। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন্ধ করে দেওয়া হয় অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত। যাঁরা বৈধ অনুমোদন নিয়ে অটারী সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, তাঁদেরও ১ মে-র আগে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে।
আরও পড়ুন:
তার পরই ৭ মে পাকিস্তানে ‘সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের বহু শিবির ধ্বংস করে দেওয়া হয়। মৃত্যু হয় শতাধিক জঙ্গির।
সেই অভিযানকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ভারতের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। কিন্তু হামলা রুখে দেয় ভারতের তিন বাহিনী।
সেই সময় সীমান্ত নিয়ে দু’দেশের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বিস্তর। পাকিস্তান এবং ভারতের সংঘাতের বিষয়টি সাড়া ফেলেছিল আন্তর্জাতিক মহলেও। একই সঙ্গে ভারতে এসে বিয়ে করার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল অনেক পাক তরুণীর।
পাকিস্তান থেকে আগত সিন্ধি অভিবাসীদের হয়ে কাজ করা নাগপুরের রাজেশ ঝাম্বিয়া সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেছেন, পাকিস্তানের ওই তরুণীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। তাঁদের ভারতে আসার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
রাজেশ জানিয়েছেন, সিন্ধি সম্প্রদায়ের মানুষ আগে এ ধরনের বিয়ের জন্য পঞ্জাবের অটারী-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। ভারত-পাকিস্তানের সংঘাতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সীমান্ত। বিয়ের স্বপ্নে ইতি পড়ে অনেকের।
রাজেশ বলেন, ‘‘যাঁরা অটারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে আসার পরিকল্পনা করছিলেন, সরকার তাঁদের সবার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।’’ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ওই সব কনে এবং তাঁদের আত্মীয়দের ভিসা প্রদান করে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কনে এবং তাঁর পরিবারকে অন্য দেশের ট্রানজ়িট রুট বা যাত্রাপথ ব্যবহার করে ভারতে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাজেশের কথায়, ‘‘কনে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা মাস্কাট, দুবাই, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য দেশের ট্রানজ়িট রুট হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছেন।’’
রাজেশ জানিয়েছেন, ভিসা পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওই কনের পরিবারেরা রায়পুর-ভিত্তিক সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকিতে অবস্থিত বিশিষ্ট হিন্দু তীর্থস্থান ‘শাদানি দরবার’-এর আধ্যাত্মিক প্রধান।
সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল এমন সব পাকিস্তানি তরুণীদের তালিকা তৈরি করতে শুরু করেন, যাঁদের বিয়ে ভারতে আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। রাজেশ বলেন, ‘‘প্রায় ১৫০ জন কনের বিয়ে নাগপুর, রায়পুর, জোধপুর, পুণে এবং ভারতের অন্যান্য শহরে হওয়ার কথা ছিল।’’
মন্দির কর্তৃপক্ষ সেই তালিকা নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ওই সব কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভারতে আসার ভিসা প্রদানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান। এর পর শর্তসাপেক্ষে তাঁদের ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শর্তটি ছিল, অবশ্যই আকাশপথে (বিমানে) ভ্রমণ করতে হবে কনে এবং তাঁদের পরিবারকে। এবং অবশ্যই ট্রানজ়িট রুট ব্যবহার করতে হবে।
রাজেশ বলেন, ‘‘চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পাকিস্তানের ১৫০ জন কনে এবং তাঁদের পরিবার বিয়ের জন্য দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্য দিয়ে ভারতে এসেছেন। এর মধ্যে নাগপুরে ১৫টি বিয়ে হয়েছে।’’
রাজেশ আরও জানান, পাকিস্তানে আরও প্রায় ৩০০ জন তরুণী ভারতে বিয়ে করতে আসার অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছেন। তাঁদের জন্যও ভিসা বরাদ্দ করার অনুরোধ জানিয়ে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।