পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভুয়ো রিপোর্ট বানিয়ে চিন-আমেরিকা যুদ্ধ প্রায় বাধিয়েই দিয়েছিল এআই! ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এল প্রতিবেদনে
বিশ্ব জুড়ে যখন কৃত্রিম মেধার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তখন প্রকাশ্যে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা গিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ একটি এআই রিপোর্ট কী ভাবে আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছিল।
কৃত্রিম মেধা কি সত্যিই থাবা বসাচ্ছে চাকরির বাজারে? এই ভয় চেপে বসেছে বিশ্ব জুড়ে। আশঙ্কা ছড়িয়েছে, বিশ্ব জুড়ে অনেক কাজ কেড়ে নেবে এআই। এর প্রভাব পড়বে কম-বেশি সব দেশেই। মনে করা হচ্ছে, কৃত্রিম মেধা দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে বহু সংস্থাই কর্মীসঙ্কোচনের পথে হাঁটবে।
বর্তমানে চারদিকে চাকরি গেল গেল রব। অনেকেই মনে করছেন, চাকরির বাজারে ভবিষ্যতে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই। কৃত্রিম মেধার আগ্রাসী প্রসারের কারণে বিভিন্ন সংস্থা মানবসম্পদের বোঝা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর হতে চাইছে। তেমন আশঙ্কার কথা উঠে আসছে বার বার।
চাকরির বাজারে বিগত কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে বিভিন্ন রকম আশঙ্কা-উদ্বেগ চলছেই। এআই বিশেষজ্ঞেরাও সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম মেধার দ্রুত অগ্রগতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই কর্মক্ষেত্রকে নতুন করে রূপ দিতে পারে।
বিশ্ব জুড়ে যখন কৃত্রিম মেধার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তখন প্রকাশ্যে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা গিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ একটি এআই রিপোর্ট কী ভাবে আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন শুক্রবার জানিয়েছে, কৃত্রিম মেধা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি একটি ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে চলতি বছরের শুরুর দিকে পশ্চিম এশিয়ায় একটি চিনা জাহাজে তল্লাশি চালানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মার্কিন সেনা।
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে জাহাজটিতে পরমাণু অস্ত্র-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ বহন করা হচ্ছে। ওই তথ্য পেয়েই জাহাজটিকে আটকানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
তবে কর্মকর্তারা যখন বুঝতে পারেন যে একজন বিশ্লেষকের ব্যবহৃত একটি এআই চ্যাটবট জাহাজটিতে বহন করা সামগ্রী ভুল ভাবে শনাক্ত করেছিল, তখন অভিযানটি বাতিল করা হয়।
একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এআইয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি ছিল ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং সেই প্রতিবেদন আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে প্রায় একটি যুদ্ধই বাধিয়ে দিচ্ছিল।
যদিও পরমাণু অস্ত্র-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ না থাকলেও আদতে চিনা জাহাজটিতে কী ছিল বা সেটি কোথায় যাচ্ছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড’ও এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার পর হইচই পড়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে। কৃত্রিম মেধার জন্য দুই মহাশক্তিধরের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আশঙ্কা তৈরির প্রতিবেদন ভয় ধরিয়েছে অনেকের মনেই। আলোচনা শুরু হয়েছে। এআইয়ের নেতিবাচক এবং মানববিরোধী ক্ষমতা কতটা, সেই প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।
এআই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকদের পদত্যাগের ঘটনা সম্প্রতি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টির পর সিএনএন-এর এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে এল।
এআই নিয়ে সম্প্রতি ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সন। তিনি সতর্ক করেছেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই-এর কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এআই নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক জশ এঙ্গেলসও গুগ্ল ডিপমাইন্ড-এর এজিআই নিরাপত্তা দল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন এবং কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
চাকরি ছেড়ে এঙ্গেলস বলেছেন, ‘‘আমার এখন মনে হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এআই-এর কারণে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, এর সঠিক সম্ভাবনা বা হার কত তা তিনি জানেন না। তবে তাঁর মতে, ঝুঁকিটি এতটাই বেশি যে এআই নিরাপত্তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এঙ্গেলসের উদ্বেগের মূল কারণ হল, এআই গবেষকদের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘রিকারসিভ সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট’ বা ‘পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়ন’ প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে একটি এআই সিস্টেম অন্য একটি এআই সিস্টেমের নকশা তৈরি বা সেটির উন্নয়নে সক্ষম হয়ে ওঠে।
এর পর সেই নতুন সিস্টেমটি এআই-এর উন্নয়নে আরও দক্ষ হয়ে ওঠে। এর ফলে একটি ‘ফিডব্যাক লুপ’ বা চক্র তৈরি হয়। এঙ্গেলসের মতে, যদি এমন কোনও সিস্টেম মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঠিক ভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।
তবে এমন সতর্কবার্তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত কৃত্রিম মেধার উন্নয়ন ব্যাপক ভাবে সীমিত করার বিরোধিতা করেছেন। এআইয়ে টাকা ঢালতে বিশ্বের তাবড় তাবড় সংস্থা কর্মীছাঁটাইয়ের পথে এগোচ্ছে।
এই অবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুলে দুই মহাশক্তিধরের ‘প্রায় যুদ্ধ’ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে শুরু হয়েছে তরজা। ঠিক কতটা ভরসা করা উচিত এআই-কে? শক্ত হাতে লাগাম পরানোর সময় এসেছে কি? উঠছে বহু প্রশ্ন।