কপূর পরিবারের দাবির পাল্টা দাবি! শ্রীদেবীর চেন্নাইয়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা গড়াল সুপ্রিম কোর্টে
প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর চেন্নাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে আইনি বিবাদ আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিবদমান ওই সম্পত্তিটি চেন্নাইয়ের ইস্ট কোস্ট রোডে অবস্থিত।
তাঁকে বলা হয় ভারতীয় সিনেমার প্রথম মহিলা সুপারস্টার। জন্মসূত্রে তামিল এই তারকা দক্ষিণী ছবির সঙ্গে হিন্দি ছবিতেও চুটিয়ে কাজ করেছেন। অধুনাপ্রয়াত সেই অভিনত্রীর চেন্নাইয়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা এ বার পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। আইনি জটিলতায় জড়িয়েছে কপূর পরিবার।
প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর চেন্নাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে আইনি বিবাদ আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিবদমান ওই সম্পত্তিটি চেন্নাইয়ের ইস্ট কোস্ট রোডে অবস্থিত।
হিন্দি ছবির প্রযোজক বনি কপূরকে বিয়ে করার পর পাকাপাকি ভাবেই মুম্বইয়ে থাকতে শুরু করেন শ্রীদেবী। তবে বনির সঙ্গে বিয়ের সময়ই চেন্নাইয়ে একটি জমি কিনেছিলেন শ্রীদেবী। সেই জমি সংলগ্ন বাড়িতে ছোটবেলা কেটেছে শ্রীদেবীর মেয়ে জাহ্নবী কপূরের।
এই বাড়িতে শ্রীদেবী ও তাঁর পরিবারের অনেক ছবি রয়েছে। সেই ছবিগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জাহ্নবীর ছোটবেলা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে শ্রীদেবী বাছাই করে অন্দরসজ্জার জিনিস কিনে এই বাড়িটি সাজিয়েছিলেন।
জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সালে চেন্নাইয়ের ইস্ট কোস্ট রোডে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২.৭ একর জমি কেনেন শ্রীদেবী। ওই ব্যক্তির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। তাঁদের পরিবারের সম্মিলিত আইনি সম্মতিতেই এই জমিটি কিনেছিলেন শ্রীদেবী, দাবি অভিনেত্রীর পরিবারের।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এত বছর পরে অভিনেত্রীর সেই সম্পত্তির এক দাবিদার প্রকাশ্যে এসে পড়েন। এক মহিলা নিজেকে জমির তৎকালীন মালিকের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন।
বনির দাবি, যখন শ্রীদেবী বাড়িটি কেনেন সেই সময় ওই মালিকের প্রথম স্ত্রী জীবিত ছিলেন। তিনি মারা যান ১৯৯৯ সালে। বাড়ির মালিকের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে আইনসিদ্ধ ছিল না বলেও দাবি করেন অভিনেত্রীর স্বামী। এক পরেই পুরো মামলাটি আদালতে গড়ায়।
নিম্ন আদালত প্রাথমিক ভাবে রায় দিয়েছিল যে মামলাটি চলতে পারে। আদালত মত দিয়েছিল, প্রাথমিক দৃষ্টিতে মামলার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে এবং দাবিটি আইনি সময়সীমার মধ্যেই করা হয়েছে।
নিম্ন আদালত ঘুরে মামলাটি হাই কোর্টে পৌঁছোয়। তবে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কপূর এবং তাঁদের দুই মেয়ে, জাহ্নবী কপূর এবং খুশি কপূরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মাদ্রাজ হাই কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ওই মহিলা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।
আরও পড়ুন:
২.৭ একর জমির একাংশের মালিকানা দাবি করে আবেনকারী মহিলা এবং তাঁর ভাই একটি আবেদন করেছিলেন দেশের শীর্ষ আদালতে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে নোটিস জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অরুণ পল্লির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তির বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখতে হবে। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিসও জারি করেছে।
সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারী এম সি শিবকামীর পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী রাজু রামচন্দ্রন এবং আইনজীবী বালাজি শ্রীনিবাসন। আবেদনকারীর যুক্তি, মামলাটি দায়ের করার মতো যথাযথ কারণ রয়েছে এবং দাবিটি আইনি সময়সীমার মধ্যেই করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিম্ন আদালতও প্রাথমিক ভাবে সন্তুষ্ট ছিল।
আবেদনকারীর দাবি, মাদ্রাজ হাই কোর্ট নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পর্যালোচনা করে এবং প্রাথমিক পর্যায়েই কার্যত একটি ‘মিনি-ট্রায়াল’ বা সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। আবেদনকারী আরও যুক্তি দেন, হাই কোর্ট খতিয়ে দেখেছে তিনি আইনি উত্তরাধিকারী কি না।
অন্য দিকে, কপূর পরিবারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি যুক্তি দেন, জমি সংক্রান্ত বিক্রয় দলিলটি ১৯৮৮ সালের ১৯ এপ্রিল সম্পাদিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে নামজারি বা মিউটেশনের আবেদন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর মাধ্যমে প্রায় তিন দশক আগের একটি লেনদেনকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে।
সিংভি যুক্তি দেন, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা ১৯৯৫ ও ১৯৯৯ সালে সাবালক ছিলেন এবং তাই ২০২৫ সালে দায়ের করা এই মামলাটি আইনি সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে গ্রহণযোগ্য নয়।
শুনানি চলাকালীন সু্প্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায়, যিনি সম্পত্তিটি শ্রীদেবীর কাছে বিক্রি করেছিলেন, সেই এমসি চন্দ্রশেখরণের ওই সম্পত্তিতে এক-পঞ্চমাংশ অংশ ছিল কি না। এ ছাড়া আবেদনকারীরা যে এমসি চন্দ্রশেখরণের স্ত্রী এবং সন্তান, সেই দাবির বিষয়ে কোনও বিরোধ আছে কি না, তা-ও বেঞ্চ জানতে চায়।
উত্তরে সিংভি জানান, ওই এক-পঞ্চমাংশ অংশ চন্দ্রশেখরণের প্রথম স্ত্রীর প্রাপ্য এবং অন্যান্য দাবিদারেরা কেবল তাঁদের নিজ নিজ অংশের জন্যই দাবি জানাতে পারেন।
এর পর সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিরোধটি বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে নিষ্পত্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হাই কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে সেই মধ্যস্থতাকারীর সামনে হাজির হয়ে সমঝোতার পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ ডিসেম্বর।