ছাগলের দেহে নিজের মুখ ‘বসান’, নিজেকে ‘মেরেও ফেলেন’! সব ঘুঁটি সাজিয়েও ছোট্ট ভুলে ধরা পড়লেন রাজকুমার
কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে, এমন বিদঘুটে আচরণ কেন করতে হল উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাজকুমার রাজভর নামের ওই যুবককে? পুলিশের তরফে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
খুনের অভিযোগ থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তার জন্য কৃত্রিম মেধা বা এআই ব্যবহার করে প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন নিজেকে! তার পরেও শেষরক্ষা হল না। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে হল তাঁকে।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই যুবকের নাম রাজকুমার রাজভর। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের দায় থেকে বাঁচতে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছিলেন তিনি। সেই পরিকল্পনায় সাহায্য নিয়েছিলেন কৃত্রিম মেধার।
পুলিশ জানিয়েছে, কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে নিজের মুখের আদলে একটি মুখাবয়ব তৈরি করেছিলেন রাজকুমার। এর পর একটি ছাগলের মৃতদেহকে কাপড় দিয়ে ঢেকে মানুষের মৃতদেহের রূপ দিয়েছিলেন। সেই দেহের ছবি তুলে ডিজিটাল উপায়ে তার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন এআই দিয়ে তৈরি মুখের ছবি।
তবে, এত কিছু করেও রক্ষা পাননি ওই যুবক। রবিবার রাজকুমারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আদালতে এমন নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, যাতে দাবি করা হয়, ওই যুবক আর জীবিত নেই। অর্থাৎ, তাঁকে আর বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভবই নয়!
২০১৬ সালের যোগেশ সিংহ হত্যাকাণ্ড মামলায় রাজকুমারের বিচার চলছিল। ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর মুনশীপুরা রেললাইনের কাছে যোগেশকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন:
নিহতের ভাইপো অবিনাশ সিংহের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রাজকুমার এবং তাঁর বন্ধু সুদর্শন রাজভরের বিরুদ্ধে খুনের মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলা চলছিল, জামিনও পেয়েছিলেন অভিযুক্তরা।
এরই মধ্যে মউ পুর পরিষদ থেকে নিজের নামে একটি মৃত্যু শংসাপত্র জোগাড় করে আদালতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ৩৮ বছর বয়সি রাজকুমার। যাতে মামলা থেকে একেবারে নিষ্কৃতি পান, সেই কারণেই ওই ফন্দি এঁটেছিলেন তিনি।
এর পর প্রায় দেড় বছর মুক্ত বিহঙ্গের মতো জীবনযাপন করছিলেন রাজকুমার। কিন্তু ছোট্ট ভুল করে বসেন। তদন্তকারীদের নজরে পড়ে যান তিনি। অবশেষে ২৫ অক্টোবর, রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ পুলিশ, স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) এবং নজরদারি দলের সহায়তায় তাঁকে তাঁর নিজস্ব এলাকা, খোয়াজাজাহানপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিচার চলাকালীন নিজের মৃত্যুর একটি মিথ্যা কাহিনি তৈরি করেন রাজকুমার। ২০২৫ সালের ৩০ মে গাজ়িপুরে এআই ব্যবহার করে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
প্রথমে একটি ছাগলের মৃতদেহ চাদরে ঢেকে সেটিকে শ্মশানের চিতায় তুলে তার অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করেন রাজকুমার। সেই ঘটনার একাধিক ছবি তুলে রাখেন নিজের কাছে। পরে সেই ছবিতেই এআই-এর সাহায্যে ছাগলের দেহের সঙ্গে নিজের মুখের আদলে তৈরি একটি মুখমণ্ডল জুড়ে দেন। নিজের মৃত্যু বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেই, এই কাণ্ড ঘটান ওই যুবক।
এর পর সেই ছবি নথি হিসেবে ব্যবহার করে নিজের মৃত্যুর একটি ভুয়ো শংসাপত্রও জোগাড় করেন রাজকুমার। আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে আইনজীবী মারফত আদালতে সেই ভুয়ো নথি জমা করান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুপ কুমার জানিয়েছেন, দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ রাজকুমার শেয়ার বাজারে লেনদেন করতেন। বিভিন্ন শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
পুলিশের অভিযোগ, একটি হত্যা মামলায় আইনি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে এবং অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ ফেরত দেওয়া এড়াতে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছিলেন তিনি। এখন তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতির একটি পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, যেহেতু তিনি এখন আর ‘মৃত’ নন, তাই তাঁকে খুনের মামলার বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখিও হতে হচ্ছে।