চকোলেট, টি-বার, গেম থেকে বিনামূল্যে রান্নার প্রশিক্ষণ! বিলাসিতার শেষ নেই গুগ্লের অফিসে, কাজে মন বসে?
গুগ্লের সান ফ্রান্সিসকোর অফিস। বিলাসিতার অপর নামও বলা যায়। অফিসের মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে যথেচ্ছ খাবার থেকে খেলাধুলোর ব্যবস্থা। রয়েছে রান্না করে নেওয়ার বাড়তি সুবিধা। কিন্তু, আরামের ব্যবস্থা তো হল, ‘ডেডলাইন’ পূরণের লক্ষ্যে তা কতটা ভোগ করতে পারেন কর্মীরা? সেই প্রশ্নেই দ্বিধাবিভক্ত সমাজমাধ্যম।
বিনামূল্যে খাবার পাওয়া যায়। রয়েছে খেলাধুলো করার সুযোগ। প্রতিটি তলায় রান্নাঘর। শেখানো হয় রন্ধনশৈলীও। গুগ্লের অফিসে এমনই হাজারো বাড়তি সুযোগ-সুবিধার ছড়াছড়ি।
সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকোয় গুগ্লের অফিস পরিদর্শনের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। সেখানে প্রযুক্তি সংস্থাটির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেছেন ক্যাটরিন ইমানুয়েলা ক্লিদ্কি। ভিডিয়োয় অফিসের কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, রান্নার প্রশিক্ষণ এবং ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ সিনেমার থিমে তৈরি ‘মিটিং স্পেস’ দেখিয়েছেন তিনি।
সান ফ্রান্সিসকোর ওই কার্যালয় পরিদর্শনের পর ক্যাটরিন ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিয়োটি শেয়ার করেছেন। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “তাদের বিনামূল্যের খাবার আসলে কেমন, সান ফ্রান্সিসকোয় থাকাকালীন তা দেখতে আমাকে গুগ্লের একটি অফিসে যেতে হয়েছিল!”
ভিডিয়োটিতে ক্যাটরিন জানান, কর্মীদের দিনে তিন বেলা খাবারের সুযোগ রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি সারা দিন ধরেই বিনামূল্যে হালকা জলখাবার খাওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। তবে খাবারের সুযোগ-সুবিধাগুলি দেখানোর আগে, তিনি অফিসটি ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। তুলে ধরেছেন আরও বেশ কিছু সুবিধাও।
প্রথমেই, ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ সিনেমার একটি গাড়ি দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই গাড়িটি নাকি ‘মিটিং স্পেস’ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ছাদের পাশে একটি কারুশিল্পের জায়গাও দেখিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অফিসে রয়েছে বোর্ড গেমের জন্য নির্দিষ্ট একটি ঘর। কর্মীরা বাড়িতে খেলার জন্য সেগুলি নাকি ধারও নিতে পারেন। আবার প্রতি বৃহস্পতিবার অন্য কর্মীদের সঙ্গে ‘বোর্ড গেম সেশনে’ যোগ দিতে পারেন।
শৌচাগারগুলিও তাকলাগানো। আধুনিক কায়দার অন্দরসজ্জা রয়েছে সেখানে। বিলাসবহুল বাথরুমে টুথ পেস্ট, টুথ ব্রাশ এবং হ্যান্ড লোশনের পাশাপাশি প্রচুর প্রসাধন সামগ্রীও মজুত রয়েছে।
এ বার আসা যাক খাবারের কথায়। ‘গুগ্ল ফুড’ নিয়ে নাকি রয়েছে উন্মাদনা। ক্যাটরিন দাবি করেছেন, “গুগ্লের খাবার সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।” তাঁর ভিডিয়োয় দেখা যায়, অফিসের প্রতিটি তলেই রয়েছে আলাদা রান্নাঘর। সেখানে কর্মীরা স্বাস্থ্যকর জলখাবার এবং ঠান্ডা পানীয় পেতে পারেন। রয়েছে ‘ফ্লেভার্ড ওয়াটার’ (বিভিন্ন স্বাদ এবং গন্ধযুক্ত পানীয়), কফি মেশিনের ব্যবস্থাও। ফল, চিপ্সের পাশাপাশি রয়েছে চকোলেট বার, হালকা গ্র্যানোলা বারের মতো প্রচুর পরিমাণে এবং বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাক বারের আয়োজন। অফিসটিতে কর্মীদের বিনামূল্যে রান্না শেখানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।
দিনে তিন বার খাবার পরিবেশন করা হয় অফিসে। সকালের জলখাবারে থাকে ডিম, দই, ফল, বিভিন্ন রকমের বেক্ড খাবার, বিস্কুট, কুকিজ়, কেক এবং ক্রোসোঁ। মধ্যাহ্নভোজে বেছে নেওয়া যেতে পারে পিৎজ়া, স্যালাড বার, চিংড়ি, রিসোতো, পোক বোল বা ‘পোকেবোহল’ (হাওয়াই দ্বীপের বিশেষ এক ধরনের পদ) এবং রামেনের মধ্যে পছন্দের যে কোনও খাবার।
আরও পড়ুন:
এই অফিস পরিদর্শনের ভিডিয়োটি নজর কেড়েছে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের। তবে এর বেশ কিছু দিক অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কয়েক জন প্রশ্ন তুলেছেন, এই ধরনের সুযোগ-সুবিধাগুলি কর্ম এবং ব্যক্তিগত ভারসাম্য রক্ষা করে কি না।
অনেকেই জানিয়েছেন, মজাদার সুযোগ-সুবিধা তো আছেই। কিন্তু, প্রজেক্টের ডেডলাইন এবং সেই লক্ষ্যপূরণের চাপে আরাম করার মোটেই সুযোগ মেলে না। এটি কেবল টিকে থাকার লড়াই বলেও এক জন মন্তব্য করেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও। কর্মক্ষেত্রে কোনও কর্মীর কাটানো সময়ের পরিমাণের উপর আলোকপাত করেছেন অনেকে। কেউ কেউ বলেছেন, “কর্মীদের অফিসে এত দীর্ঘ সময় কাটাতে হয় যে, তাঁদের দিনে তিন বেলাই অফিসের খাবার খেতে হয়। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সময় এবং স্বাস্থ্যের মূল্য দেন না। মানসিক স্বাস্থ্যও এর ফলে ভেঙে পড়তে পারে।”
তবে, ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ সিনেমার থিমে সাজানো ‘মিটিং স্পেস’টিকে অনেকেই বেশ মজার ছলে নিয়েছেন। কেউ আবার লিখেছেন, “ভাই, ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’-এর টাইম মেশিনকে মিটিং স্পেস হিসাবে ব্যবহার করার বিষয়ে ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন? এই বুদ্ধিটা কার মাথায় এসেছিল?”
সান ফ্রান্সিসকোয় গুগ্ল অফিসের ভিতরের সেই পরিদর্শনের ভিডিয়ো শেয়ার করার পর, সেটি অপ্রত্যাশিত ভাবে এখন সমাজমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে। রোজকার কর্মজীবনের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরার জন্য ভিডিয়োটি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নেটাগরিকেরা সেখানকার সুযোগ-সুবিধা, খাবার এবং কর্মচারীরা কী ভাবে তাঁদের সময় কাটাতে পারেন— সে সব কিছু নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
অফিসটি পরিদর্শনের পর ক্যাটারিন তাঁর ইনস্টাগ্রামে ওই ট্যুরটি শেয়ার করেন। তাঁর এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুগ্লের বহুল আলোচিত খাবারগুলি পরখ করে দেখা। কিন্তু ভিডিয়োটিতে কর্মক্ষেত্রের আরও বেশ কিছু অংশও তুলে ধরা হয়।
সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলোচনা আর শুধু অফিসের ভিতরে কী কী সুবিধা আছে, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কিছু সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী এই প্রশ্নও তুলেছেন যে, কর্মক্ষেত্রের এই ধরনের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সেখানে কাজ করার প্রকৃত অভিজ্ঞতার কোনও সম্পর্ক আছে কি না।
অফিসের ওই ব্যাপক বিলাসিতা কিছু অংশের মানুষকে মুগ্ধ করলেও, অনেকেই আবার কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি নিয়ে একটি বৃহত্তর আলোচনা শুরু করেছেন। বেশ কিছু মানুষ মনে করেন, অফিসে আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা থাকলেই যে কর্মচারীদের কর্মজীবন সহজ হবে, এমনটা নয়।