‘ভূত’, ‘ধর্ষণ’, ‘আত্মহত্যা’: ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে উত্তপ্ত জোড়া বিশ্ববিদ্যালয়! হঠাৎ কেন অশান্ত পঞ্জাব?
চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। অন্য দিকে, এলপিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ওই দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিক্ষোভের জেরে দেশ জুড়ে হইচই পড়েছে।
ছাত্রবিক্ষোভ, প্রতিবাদ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। ‘ভূত’, ‘ধর্ষণ’ এবং ‘আত্মহত্যা’র অভিযোগে তপ্ত পঞ্জাবের দু’টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ওই দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রবিক্ষোভের জেরে দেশ জুড়ে হইচই পড়েছে। তবে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই বিক্ষোভের সূত্রপাতের কারণ প্রায় একই। উভয় ক্ষেত্রেই সমাজমাধ্যম ছড়িয়ে পড়া কিছু তথ্য ছিল উত্তেজনার মূল কারণ। তবে চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি ছিল শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়া, ‘আত্মহত্যা’ এবং ‘ভূত’ দেখা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং ফাগওয়ারার লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির (এলপিইউ) বিক্ষোভটি ছিল ‘ধর্ষণ’ এবং ‘আত্মহত্যা’র অভিযোগকে ঘিরে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এ সব অভিযোগকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ— উভয়ই অস্বীকার করেছে। তা সত্ত্বেও, উভয় ক্ষেত্রেই ক্যাম্পাসের ভিতরের উদ্বেগ দ্রুত বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের হিংস্র রূপ নেয়। তবে চিতকারার থেকেও এলপিইউ-তে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন পড়ুয়ারা। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি চালায়।
চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিয়ো এবং মেসেজে দাবি করা হয়েছিল, দু’জন ছাত্রী হস্টেল থেকে নিখোঁজ হয়েছেন অথবা আত্মহত্যা করেছেন। গুজবে হস্টেল থেকে ভেসে আসা চিৎকার এবং এমনকি আগের এক আত্মঘাতী ছাত্রীর ‘প্রেতাত্মা’র কথাও উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সমাজমআধ্যম গ্রুপগুলির মাধ্যমে ওই সব বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে শত শত পড়ুয়া জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চাইতে থাকেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর জন্য চাপ দিতে শুরু করেন।
পরে পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাসের সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দু’টি গাড়িও। এমনকি, এক জন পুলিশ আধিকারিককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আরও পড়ুন:
কিন্তু পরবর্তী তদন্তে মৃত্যু বা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পটিয়লা পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও পড়ুয়া নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। অন্য দিকে রাজপুরা সিভিল হাসপাতালের এক জন অভিজ্ঞ চিকিৎসকও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চিতকারার কোনও শিক্ষার্থীর ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর মেয়েদের হস্টেলে একটি অ্যাম্বুল্যান্স এসেছিল কারণ একজন পড়ুয়া হাসপাতাল থেকে ফিরছিলেন। কোনও মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনার কারণে নয়। চিতকারার রেজিস্ট্রার তথা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রাকেশ শর্মা বলেন, ‘‘ক্যাম্পাসে কিছুই ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেবল গুজব ছড়িয়েছিল। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’’
উত্তেজনা ছড়ানোর প্রাথমিক কারণ হিসেবে পুলিশ অবশ্য ভূতুড়ে শব্দের একটি ‘প্র্যাঙ্ক’ (মজা বা কৌতুক) এবং তার জেরে হস্টেলে ‘ভূতের উপস্থিতি’ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে চিহ্নিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কোনও তথ্য বাকিদের মধ্যে ভাগ করার আগে তা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্য দিকে, এলপিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। চিতকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অনলাইনে একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তা দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। দাবি, কারও শাস্তি হবে না ভেবে নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন নির্যাতিতা ওই ছাত্রী।
আরও পড়ুন:
এর পর ক্যাম্পাসে গিয়ে পড়ুয়াদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাত ১টা নাগাদ ছাত্রীদের হস্টেলের সামনে অন্তত দু’হাজার বিক্ষুব্ধ পড়ুয়া জড়ো হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সকাল ৮টা থেকে তাঁরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ জানিয়ে দেয়, গণধর্ষণের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে বলে প্রমাণ মেলেনি, কোনও অভিযোগও জমা পড়েনি। কিন্তু তার পরেও বিক্ষোভ চলতে থাকে।
জাতীয় সড়ক থেকে অবরোধ তুলতে গেলে পড়ুয়াদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল ছোড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশকে ‘মৃদু’ লাঠিচার্জও করতে হয়। জাতীয় সড়ক খালি করার পর বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা পুলিশের দু’টি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ। আরও চার থেকে পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের বেশ কয়েক জন কর্মী জখম হয়েছেন। এর পর এলাকায় পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
গণধর্ষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে রবিবার। তবে অভিযুক্ত কে বা কারা, জানা যায়নি। অভিযোগের তদন্তের জন্য পুলিশের তরফে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে দেখছেন। জালন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশ এ-ও জানিয়েছে, এর আগে প্রায় দু’সপ্তাহ আগে এলপিইউ-তে তেলঙ্গানার এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে বর্তমানে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে, তার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে মিড-টার্মের পরীক্ষা।
রবিবারই ছাত্রছাত্রীদের কাছে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাতে বলা হয়েছে, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠন বন্ধ থাকবে। ছাত্রছাত্রীরা চাইলে এই সময়ের মধ্যে বাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারেন। যাঁরা ক্যাম্পাসেই থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। অযথা বাইরে না বেরোনো, কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ পড়ুয়াদের দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মিড-টার্ম পরীক্ষা আপাতত স্থগিত করা হচ্ছে। পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর মধ্যেই পঞ্জাবের এলপিইউ-তে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করে ভিডিয়ো রেকর্ড করেছিলেন তিন ছাত্রী। নির্যাতিতা যে হস্টেলে থাকেন, তাঁরাও সেখানকারই আবাসিক। তাঁরা দাবি করেছিলেন, তাঁদের হস্টেলে এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। ওই ভিডিয়ো দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রবিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
হট্টগোলের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাতি ওই ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। দাবি উঠেছিল, নির্যাতিতা তিন নম্বর হস্টেলের ৫০৪ নম্বর ঘরে থাকতেন। কিন্তু মনিকার ওই ভিডিয়োয় তিন ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা গত দু’মাস ধরে ওই ঘরে থাকেন এবং সেখানে গণধর্ষণের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বা বিক্ষোভকারীরা তাঁদের যেন বিরক্ত না করেন, সেই অনুরোধও ভিডিয়োতে করতে শোনা গিয়েছিল ছাত্রীদের। অন্য দিকে ভিডিয়ো শেয়ার করে মনিকা দাবি করেন, ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় প্রতিপন্ন এবং এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি ‘পরিকল্পিত ও সুসংহত প্রচেষ্টা’ করা হচ্ছে।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বয়ান বদল করেন ওই তিন ছাত্রী। দাবি করেন, তাঁদের দিয়ে ওই বয়ান রেকর্ড করিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের না-জানিয়েই পরে তা ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পরে পৃথক ভিডিয়ো প্রকাশ করে তিন ছাত্রী জানান, আগের ভিডিয়োতে ওই সমস্ত কথা বলতে বলা হয়েছিল তাঁদের। ছাত্রীদের বক্তব্য, ‘‘আমাদের বলতে বলা হয়েছিল, ছাত্রছাত্রীরা আমাদের বিরক্ত করছেন। আমাদের পুরো বক্তব্য প্রকাশও করা হয়নি। কেটে দেওয়া হয়েছে। ওটা যে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া হবে, আমরা তা জানতাম না। আমাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। এখন অযথা আমাদের হেনস্থা হতে হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই।’’ তিন ছাত্রীর নতুন বয়ানে স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে তিন ছাত্রীর নতুন বয়ান নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে দু’টি আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে বিক্ষোভের নেপথ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। স্পেশাল ডিজিপি (আইন-শৃঙ্খলা) প্রবীণকুমার সিংহ জানিয়েছেন, ঘটনা দু’টি আপাতদৃষ্টিতে আলাদা বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্তকারীরা এই আকস্মিক উত্তেজনার নেপথ্যের সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখছেন এবং কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায় কি না, তা-ও যাচাই করছেন।
পঞ্জাবের দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে কারণ পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে আসছে। রাজ্যের সর্বত্র রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই তাদের জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে শুরু করেছে।
এলপিইউ-এর হিংসা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। পঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, ‘‘এই হিংসা পঞ্জাবের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই প্রমাণ।’’ তিনি সরকারের করা পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সকাল থেকেই ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়েছে, অথচ আপ সরকারের কোনও প্রতিনিধিই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করা বা তাঁদের অভিযোগ শোনার প্রয়োজন মনে করেননি।’’
পঞ্জাব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি রাজকুমার ভারকা আরও এক ধাপ এগিয়ে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, ‘‘এই অশান্তি উস্কে দেওয়ার জন্য আমি সরাসরি কেন্দ্র এবং রাজ্য— উভয় সরকারকেই দায়ী করছি।’’ তিনি আরও মন্তব্য করেন যে সঠিক তদন্ত করা হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অন্য দিকে, বিজেপি নেতা রবণীত সিংহ বিট্টু অভিযোগ করেছেন, এলপিইউ-তে এই হিংসা আম আদমি পার্টির একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বিট্টু দাবি করেছেন, দিল্লির নেতাদের সরকারি বাংলো বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক এবং বিভিন্ন বিবাদ থেকে নজর ঘোরাতেই এলপিইউ-এর এই ঘটনাটি পরিকল্পিত ভাবে ঘটানো হয়েছে।
বিট্টু আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে শিথিল মনোভাব দেখিয়েছে ওই ঘটনায়। ‘দুষ্কৃতীদের’ অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এলপিইউ-এর প্রতিষ্ঠাতা-চ্যান্সেলর অশোক মিত্তল আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আপ নেতা ভগবন্ত মান, অরবিন্দ কেজরীবাল এবং মণীশ সিসৌদিয়া এলপিইউ-এর ভিতরে দুষ্কৃতীদের পাঠিয়েছিলেন।