Advertisement
E-Paper

মহাবিশ্বের ‘সবচেয়ে ছোট’ গ্রহের সন্ধান পেল নাসা! ধুলোর চাদরে মোড়া সেই পৃথিবীর বয়স মাত্র ১০ লক্ষ বছর

মহাকাশে ঘূর্ণায়মান গ্যাস এবং ধূলিকণার বিশাল মেঘের ভিতরে জন্ম হয় নক্ষত্রের। তার পর চারপাশে যে বাড়তি উপাদান পড়ে থাকে, সেগুলি একসঙ্গে জমাট বেঁধে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ তৈরি করে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৯
সেই ‘নবজাতক’ গ্রহ!

সেই ‘নবজাতক’ গ্রহ! ছব: নাসার সৌজন্যে।

‘নবজাতক’ এক ‘পৃথিবী’র খোঁজ পেলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে ওই গ্রহের বয়স ১০ লক্ষ বছরেরও কম। হদিস পাওয়া গ্রহদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট। বিজ্ঞানীরা তার নাম দিয়েছেন ‘এলিয়াস ২-২৪বি’। এখনও ধুলো আর গ্যাসের বলয়ের মধ্যে রয়েছে সেই গ্রহ, যা থেকেই আদতে তার জন্ম হয়েছে।

নাসার মহাকাশ গবেষণার পুরনো আর্কাইভ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, সেটি এলিয়াস ২-২৪-কে প্রদক্ষিণ করছে। পৃথিবী থেকে সেই নক্ষত্রের দূরত্ব ৪৫০ আলোকবর্ষ (আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, আলো বছরে যে পথ অতিক্রম করে তাকেই আলোকবর্ষ বলে)। ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে নতুন এই গ্রহের খোঁজ সংক্রান্ত গবেষণা। চিলির ইউনিভার্সিদাদ দিয়েগো পোরটেলসের গবেষক আন্দ্রিয়া বার্নার্দি এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন। নাসার বিজ্ঞানীদের সহযোগিতায় হাওয়াইয়ে বসে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে এই গ্রহের গঠন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। গ্যাস, ধূলিকণা, বরফ, শিলার বলয়ের মধ্যে এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে সেই গ্রহ। সেখান থেকে ক্রমাগত সংগ্রহ করে চলেছে উপাদান। বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্রহকে দেখে ধারণা মিলতে পারে, জন্মের পরে কেমন ছিল পৃথিবী। তাদের প্রাথমিক জীবন কেমন ছিল।

গ্রহেরা ঘূর্ণায়মান হয়। সে কারণেই তার চারপাশে একটি ফাঁক তৈরি হয়। সেই ফাঁক দেখেই এই এলিয়াস ২-২৪বি-কে চিহ্নিত করেন বিজ্ঞানীরা। গবেষক লুকাস সিয়েজ়া জানান, এর আগে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ যে গ্রহের খোঁজ বিজ্ঞানীরা পেয়েছিলেন, তার বয়স ছিল ৫০ লক্ষ বছর। এলিয়াস ২-২৪বি তার চেয়েও বয়সে ছোট। এই গ্রহকে পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীদের ধারণা হয়েছে, যা মনে করা হত, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে তৈরি হতে পারে।

মহাকাশে ঘূর্ণায়মান গ্যাস এবং ধূলিকণার বিশাল মেঘের ভিতরে জন্ম হয় নক্ষত্রের। সেই নক্ষত্র তৈরি হওয়ার পরে চারপাশে যে বাড়তি উপাদান বা অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকে, সেগুলি ধীরে ধীরে একসঙ্গে জমাট বেঁধে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ তৈরি করে। নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় সেই কক্ষপথ। সেখানেই জন্ম হয় গ্রহের। সেই নবজাতক গ্রহকে খুঁজে পাওয়া কিন্তু কঠিন। কারণ তা পুরু ধুলোর স্তরের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তা হলে কী ভাবে নতুন গ্রহ খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা? তাঁরা জানিয়েছেন, নতুন গ্রহ যখন নক্ষত্রের সামনে দিয়ে পার হয়, তখন সেই নক্ষত্র থেকে পৃথিবীতে আসা আলোর পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। তাতেই বিজ্ঞানীরা নতুন গ্রহের অস্তিত্ব টের পান।

কিন্তু নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে ধুলো আর গ্যাসের আবরণে যখন গ্রহ লুকিয়ে থাকে, তখন তাকে ধরা যায় না। ক্রমে নক্ষত্রের কাছে গেলে তখনই ধরা যায় তাদের অস্তিত্ব। সে কারণেই এখন পর্যন্ত মোটামুটি যে ৬০০০ গ্রহের অস্তিত্ব টের পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, তাদের বেশির ভাগই কয়েকশো কোটি বছর বয়সি।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এলিয়াস ২-২৪বির মতো আরও কিছু গ্রহের সন্ধান পেলে তা তাদের গঠনের বিষয়ে আলোকপাত করতে পারবে। তবে সেই কাজটা সহজ নয়। কারণ নবজাতক গ্রহের চারপাশে যে ধুলোর আস্তরণ থাকে, বেশিরভাগ টেলিস্কোপ তা ভেদ করে দেখতে পায় না। সেই সীমাবদ্ধতার কারণেই গ্রহের জন্ম, ‘শিশুকাল’ দেখা থেকে বঞ্চিত বিজ্ঞানীরা।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy