কোটি কোটি বছর আগে জেগে উঠেছিল সে। তখন তা থেকে গলগল করে বেরিয়ে এসেছিল লাভা। কয়েক লক্ষ পরমাণু বোমা ফাটলে যা হয়, তেমন ভাবেই হয়েছিল উদ্গীরন। সেই লাভা ছড়িয়ে পড়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকায়। ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে সেই আগ্নেয়গিরিরই সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। তা কি আবার জেগে উঠতে পারে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে।
ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে উপসাগরের গভীরে সমাধিস্থ হয়েছে সেই আগ্নেয়গিরি। প্রায় ৬৪ কিলোমিটার তার বিস্তৃতি। বিজ্ঞানীদের মতে ৪৫ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে সেই আগ্নেয়গিরি জেগে উঠেছিল। যেখানে পৃথিবীতে ডায়নোসরেদের আবির্ভাব হয়েছিল ২০ কোটি বছর আগে। তা থেকে বেরিয়ে আসা ছাইভস্মের অস্তিত্ব মিলেছে বেলারুশ, পোল্যান্ড, এমনকি, সুইডেন, নরওয়েতে। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের করা গবেষণাটি জিএসএ বুলেটিনে প্রকাশিত হয়েছে।
কী ভাবে এত বছর পরে সেই আগ্নেয়গিরির খোঁজ মিলল? ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ারের ক্ল্যাক্সবি এবং নরফকের নর্থ ক্রিক থেকে কিছু শিলার নমুনা প্রায় ৮০ বছর আগে সংগ্রহ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। অতিমারির সময় লকডাউনে নতুন কোনও নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি। গবেষণাগারে বসে কাজ না পেয়ে বেশ বিরক্তই হচ্ছিলেন ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তখনই তাঁদের নজরে আসে ৮০ বছর আগে সংগ্রহ করা সে সব নমুনা। সেই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে থাকেন তাঁরা। তাতেই নতুন আবিষ্কার প্রকাশ্যে আসে।
বিজ্ঞানীরা দেখেন নরফক এবং লিঙ্কনশায়ার, দুই জায়গা থেকে যে ম্যাগমার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা আদতে একই আগ্নেয়গিরির। একই সময়ে সেখানে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সেই ম্যাগমা নির্গত হয়েছিল, যা নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছিলেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
-
মঙ্গল গ্রহের একদিক উল্টোদিকের চেয়ে কয়েকশো গুণ বেশি গরম! আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা, মিলছে অনেক রহস্যের উত্তর
-
হিমবাহ ধসে ভবিষ্যতে আরও হড়পা বানের শঙ্কা নেপালে, হিমালয়ের ফাঁকফোকরে বহু ‘টাইম বোমা’! বাঁচার উপায়?
-
শুধু মানুষের শরীরেই পাওয়া যায় এই জিন! আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতার নেপথ্যেও আছে এটিই, নতুন গবেষণায় অনুমান বিজ্ঞানীদের
অসলো ইউনিভার্সিটির এক দল বিজ্ঞানী নরওয়ে এবং সুইডেন থেকে মেলা কিছু ম্যাগমার নমুনা পরীক্ষা করছিলেন। তাতে দেখা যায়, সেগুলি এবং নরফক, লিঙ্কনশায়ার থেকে মেলা ম্যাগমার নমুনা একই আগ্নেয়গিরির। তা থেকেই বিজ্ঞানীদের ধারণা হয় যে, পূর্ব ইংল্যান্ডের উপকূলে সমাধিস্ত সেই আগ্নেয়গিরি থেকে প্রবল বেগে নির্গত হয়েছিল ম্যাগমা। এতটাই জোর ছিল যে, সেই ম্যাগমা পৌঁছে গিয়েছিল সুদূর নরওয়ে, সুইডেনেও।
আবার কি তা জেগে উঠবে?
এই আগ্নেয়গিরির সন্ধান মেলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইংল্যান্ডের অনেকের মনেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, আবার কি জেগে উঠতে পারে সেই আগ্নেয়গিরি? ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের টিম ফারাও জানান, ওই আগ্নেয়গিরির আবার জেগে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আগ্নেয়গিরি কিন্তু চ্যুতিরেখার মতো নয় যে, পাতের সঞ্চালনে তা আবার জেগে উঠবে। এক বার আগ্নেয়গিরির মৃত্যু হলে তা আর জাগে না। তাই তা নিয়ে উদ্বেগ করার কিছু নেই।’’