Advertisement
E-Paper

রাজ্যের ক্রিকেটে নতুন বিতর্ক, সিএবি-র বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে আর্থিক সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ, সৌরভ বললেন, সব ভিত্তিহীন

সিএবি এবং দুই প্রাক্তন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন অ্যাপেক্স কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য মহাদেব চক্রবর্তী। ২৯ অগস্ট শুনানির নির্দেশ সিএবির এথিক্স অফিসারের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ অগস্ট ২০২৬ ১৭:৫৪
cricket

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

বঙ্গ ক্রিকেটে আবার অনিয়মের অভিযোগ। এ বার আলোচনায় সিএবির দুই প্রাক্তন সদস্য লক্ষ্মণ জয়সবাল এবং সুব্রত সাহা। তাঁদের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বেআইনি ভাবে আর্থিক সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবির বিরুদ্ধেও।

অভিযোগ করেছেন সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য মহাদেব চক্রবর্তী। তিনি ১৬০ পাতার অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন সিএবির এথিক্স অফিসার এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের কাছে। এই অভিযোগপত্র রয়েছে আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে। আগামী ২৯ অগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় এই নিয়ে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন এথিক্স অফিসার।

লক্ষ্ণণ সিএবির সদস্য ক্লাব বেলগাছিয়া ইউনাইটেডের সচিব। সুব্রত সিএবির প্রাক্তন কমিটি সদস্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই দু’জন ‘এএসএল প্রাইম হোটেল এলএলপি’-র অংশীদার। এই হোটলের সঙ্গে সিএবি বার বার চুক্তি করেছে এবং এই হোটেল সিএবির থেকে একাধিক বার আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে। মহাদেবের অভিযোগ, সিএবির নিয়মের ৩ (এ) (এ) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত দু’জনই সিএবির ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’। এথিক্স অফিসারের কাছে তাঁর প্রশ্ন, সিএবি বা তার সদস্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁরা কী করে এই আর্থিক লেনদেন করলেন? সিএবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোনও স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই নাকি তারা এই এলএলপি-কে ব্যবসায়িক সুবিধা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এটি স্বার্থের সংঘাত।

সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই অভিযোগ নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-কে বললেন, ‘‘আমি বিষয়টা জানি। ভিত্তিহীন। কোথাও কোনও স্বার্থের সংঘাত নেই। মহাদেববাবুর বিরুদ্ধেই স্বার্থের সংঘাত ছিল। তাই ওঁকে অ্যাপেক্স কাউন্সিল থেকে সরে যেতে হয়েছিল। সেই জন্যই উনি এখন এসব করছেন।’’

সুব্রত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে বললেন, ‘‘আমি সিএবির কোনও পদে নেই। কমিটি মেম্বারও নই। ২০২৫ সালে আমি সরে গিয়েছি। অভিযোগ জমা পড়েছে জানি। এ ব্যাপারে যা বলার ২৯ অগস্ট এথিক্স অফিসারকেই বলব।’’

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর সিএবির তৎকালীন এথিক্স অফিসার প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এই সুব্রত সাহাকে এই এএসএল প্রাইম হোটেলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য স্বার্থের সংঘাতে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। তাঁর নির্দেশ ছিল, সুব্রতকে ওই হোটেলের সঙ্গে যাবতীয় আর্থিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এবং পরবর্তীতে সিএবির কোনও কমিটিতে মনোনীত হলে এই ব্যাপারে মুচলেকা দিতে হবে।

এখন মহাদেবের অভিযোগ, আগের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সিএবি এই হোটেলের সঙ্গে নাকি আর্থিক লেনদেন চালিয়ে গিয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে সিএবির থেকে নাকি প্রায় ১২.০৪ লক্ষ টাকার ব্যবসা পেয়েছে এএসএল। তার আগের বছরগুলিতে নাকি আরও বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে।

আরও অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই সিএবির যে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল, তখন এএসএল হোটেলে সিএবির প্রতিনিধিদের থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। মহাদাবের বক্তব্য, লক্ষ্মণের মাধ্যমে এই ধারাবাহিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্ববর্তী এথিক্স অফিসারের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে এবং এখানে স্বার্থের সংঘাত হয়েছে।

এথিক্স অফিসারের কাছে অভিযোগকারীর আবেদন, লক্ষ্মণ ও সুব্রতকে আর্থিক জরিমানা করা হোক। সিএবির যাবতীয় কর্মসূচি থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হোক। এএসএল প্রাইম হোটেলের সঙ্গে সিএবির চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক বাতিল করা হোক। এখনও পর্যন্ত যে টাকা এই হোটেল পেয়েছে, তা সুদে-আসলে ফেরত আনা হোক। সমস্ত চুক্তিপত্র, ওয়ার্ক অর্ডার ও পেমেন্ট রেকর্ড পেশ করা হোক। ২০১৯ সাল থেকে এই হোটেলকে সিএবি যে অর্থ দিয়েছে তার নিরপেক্ষ ফরেনসিক অডিটের ব্যবস্থা করা হোক।

অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ওই হোটেলকে যাতে আর কোনও টাকা সিএবি না দেয়, তার আবেদনও করেছেন মহাদেব। একই সঙ্গে তিনি চান, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিএবির কোনও সভায় যেন অভিযুক্তেরা যেন থাকতে না পারেন।

Sourav Ganguly CAB

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy