ভারতের সব ধরনের ফরম্যাটের অধিনায়কের পদ থেকে সরে যাওয়ার কথা মঙ্গলবার ঘোষণা করেছিলেন হরমনপ্রীত কৌর। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই অধিনায়ক করা হয় স্মৃতি মন্ধানাকে। শোনা গিয়েছে, দুই ক্রিকেটারের মধ্যে এখন মুখ দেখাদেখি বন্ধ। দলের মধ্যেও নাকি বিভাজন তৈরি হয়েছে। ফলে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের অবস্থা নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়ছে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই ভারতীয় দলের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করেছে। ওই সূত্র বলেছেন, “এখন ওদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ। ফলে দলের মধ্যেও একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” শোনা গিয়েছে, স্মৃতি অনেক দিন ধরেই নেতৃত্ব চাইছিলেন। কিন্তু নির্বাচকেরা সেই ব্যাপারে খুব একটা তাপউত্তাপ দেখাচ্ছিলেন না। ভারতকে প্রথম বার আইসিসি ট্রফি জেতানো হরমনপ্রীতেই ভরসা রেখেছিলেন সকলে, যা রাগিয়ে দিয়েছিল স্মৃতিকে। মুখে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে তিনি খুশি ছিলেন না।
সম্প্রতি ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে হারের পর ফাটল তীব্র হয়। নির্বাচকেরাও মনে করেন, ৩৭ বছরের হরমনপ্রীতের বদলে এ বার দলে নতুন নেতার প্রয়োজন রয়েছে। হরমনপ্রীতকে টেস্ট এবং এক দিনের দলের নেতৃত্ব রেখে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে বলা হয়। তিনি রাজি হননি। সব ফরম্যাটেরই দায়িত্ব ছাড়ার কথা বলেন। তা মেনে নেন নির্বাচকেরা। হাতের সামনে স্মৃতি ছিলেনই। তাঁকেই অধিনায়ক করা হয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজ বলেছিলেন, “আমার মনে হয় দু’-তিন বছর আগেই স্মৃতিকে এক দিনের দলের অধিনায়ক করা উচিত ছিল। হরমনপ্রীত টেস্ট এবং এক দিনের দলের অধিনায়ক হলেও টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব যাওয়া উচিত শেফালি বর্মার মতো তরুণ ক্রিকেটারের হাতে।”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বছর চারেক আগে মিতালির থেকে এক দিনের ক্রিকেটের দায়িত্বভার গ্রহণের সময়েও হরমনপ্রীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। দুই ক্রিকেটারের সম্পর্ক নিয়ে অনেক চর্চা হয়। এ বারও অধিনায়ক বদলের ক্ষেত্রে একই জিনিস দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি স্মৃতির সঙ্গে মুখ দেখাদেখিই বন্ধ হয় তা হলে তাঁর অধীনে কী ভাবে খেলবেন হরমনপ্রীত? অনেকেই অদূর ভবিষ্যতে হরমনপ্রীতের অবসরের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন।