গত বছর ডিসেম্বর মাসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ এস বেঙ্কটরমনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। সেই তিন ক্রিকেটারকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছিল। এ বার সেই বেঙ্কটরমনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করলেন তিন ক্রিকেটারের মধ্যে এক জন। তাঁর অভিযোগ, বেঙ্কটরমনই তাঁদের মারধর করেছেন। কোচের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে পুদুচেরি ক্রিকেট সংস্থায় (সিএপি)। বেঙ্কটরমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন জয়সুন্দরম কার্তিকেয়ন নামের এক ক্রিকেটার। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, বেঙ্কটরমনই ব্যাট হাতে নিয়ে তাঁর মক্কেল-সহ তিন ক্রিকেটারের উপর হামলা চালান। তাতে ক্রিকেটারেরা আহত হন। তাঁদের চিকিৎসাও হয়। সেই দিনই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ।
পুলিশ পদক্ষেপ না করায় শেষ পর্যন্ত পুদুচেরির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করেন কার্তিকেয়ন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে বেঙ্কটরমনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও পুদুচেরি ক্রিকেট সংস্থার কাছেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বোর্ড যাতে বেঙ্কটরমনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়, সেই আর্জি জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। তবে এই বিষয়ে বেঙ্কটরমন এখনও কিছু বলেননি।
গত বছর ডিসেম্বরে বেঙ্কটরমন তিন ক্রিকেটার কার্তিকেয়ন, অরবিন্দরাজ ও সন্তোষ কুমারের বিরুদ্ধে সেদরাপেট থানায় মারধরের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিক এস রাজেশ বলেছিলেন, “বেঙ্কটরমনের কপালে ২০টি সেলাই পড়েছে। তবে এখন উনি স্থিতিশীল। তিন ক্রিকেটারই পালিয়েছে। আমরা ওদের খোঁজার চেষ্টা করছি।” তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেখানে খুনের চেষ্টার ধারা দেওয়া হয়েছিল। তিন ক্রিকেটারকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিলম্বিত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
বেঙ্কটরমন জানিয়েছিলেন, ৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টা নাগাদ তিনি সিএপি কমপ্লেক্সের ইন্ডোর নেটে ছিলেন। অভিযোগ, তখন তিন ক্রিকেটার কার্তিকেয়ন, অরবিন্দরাজ এবং সন্তোষ কুমার এসে তাঁকে গালিগালাজ করতে থাকেন। সৈয়দ মুস্তাক আলি প্রতিযোগিতায় ওই তিন ক্রিকেটারের বাদ পড়ার নেপথ্যে বেঙ্কটরমনকেই দায়ী করেন। অরবিন্দরাজ হঠাৎ বেঙ্কটরমনকে চেপে ধরেন বলে অভিযোগ। সন্তোষের নিয়ে আসা ব্যাট হাতে নিয়ে কার্তিকেয়ন নাকি কোচকে মারধোর করেন। খুনও করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বেঙ্কটরমন।
বেঙ্কটরমনের অভিযোগ ভারতীদাসন পুদুচেরি ক্রিকেটার্স ফোরামের সচিব জি চন্দ্রনের দিকে। চন্দ্রনের নির্দেশেই তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ বেঙ্কটরমনের। ফোরামের সভাপতি সেন্থিল কুমারন সব অভিযোগ উড়িয়ে বলেছিলেন, “বেঙ্কটরমনের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন উনি। অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। চন্দ্রনের বিরুদ্ধে ওঁর বিদ্বেষ রয়েছে। সকলেই তা জানেন। কারণ গত সাত বছরে চন্দ্রন ওঁর কাজকর্ম নিয়ে বার বার অভিযোগ করেছেন সিএপি এবং বিসিসিআইয়ের কাছে।” এ বার সেই কোচের বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর।