প্রথমে আয়ারল্যান্ড। তার পর ইংল্যান্ড। টানা দুই সিরিজ়ে চুনকাম হয়েছে ভারত। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর দুই সহকারী তাঁকে ছাড়ার পথে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। নিজের দলেই আস্থা হারাচ্ছেন গম্ভীর।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, গম্ভীরের এক সহকারী দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছেন। ইতিমধ্যেই আইপিএলের একটি দল তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা প্রায় পাকা করে ফেলেছে। আরও এক সহকারীরও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিৎ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারতের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের সহকারীর দল নিজেই ঠিক করেছিলেন গম্ভীর। সহকারী কোচ হিসাবে অভিষেক নায়ার ও রায়ান টেন দুশখাতে ও বোলিং কোচ হিসাবে মর্নি মর্কেলকে তাঁর পরামর্শেই নেওয়া হয়েছিল। যদিও সে বছরের শেষে বর্ডার-গাওস্কর ট্রফির পর সরিয়ে দেওয়া হয় অভিষেককে। বদলে দলের ব্যাটিং কোচ করা হয় সীতাংশু কোটাককে।
গম্ভীরের সহকারীদের দলে একমাত্র টি দিলীপকে শুরু থেকে রেখে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু গত কয়েক মাসে সেই দলে ভাঙন ধরেছে বলে খবর। দুই সহকারী গম্ভীরের সঙ্গে আর কাজ করতে চাইছেন না। তবে তাঁরা কারা তা এখনও জানা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, আসন্ন জ়িম্বাবোয়ে সফর ও এশিয়ান গেমসে গম্ভীরের বদলে ভিভিএস লক্ষ্মণকে ভারতীয় দলের কোচ হিসাবে পাঠানো হতে পারে। সেখানে সহকারী হিসাবে যেতে পারেন সাইরাজ বাহুতুলে।
২০২৬ সাল পর্যন্ত গম্ভীরের প্রাথমিক চুক্তি ছিল। কিন্তু চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর তা আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর চুক্তি রয়েছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক ফর্ম চাপে রেখেছে কোচকে। যে ভাবে একের পর এক ম্যাচে দল হারছে তার দায় তো কোচকে নিতেই হবে।
আরও পড়ুন:
ভারতের টেস্ট দলের কোচ হিসাবে গম্ভীরের ফর্ম খুবই খারাপ। দেশের মাটিতে নিউ জ়িল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকাম হতে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সিরিজ় হেরেছেন। ভারত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে পারেননি গত বার। এ বারও সেই সম্ভাবনা কম। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। জোড়া আইসিসি ট্রফি জয় তাঁর চাকরি বাঁচিয়ে রেখেছে।
নিজের পক্ষে অবশ্য গম্ভীরের একটি যুক্তিও রয়েছে। তিনি বোর্ডকে বোঝাতে পারেন, ২০২৮ সালের অলিম্পিক্স ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাথায় রেখে দলকে তৈরি করছেন তিনি। তাই পরীক্ষা করছেন। আর সেটা করতে গিয়েই হার হয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে তিনটি এক দিনের ম্যাচ ভারত খেলবে, সেখানে গম্ভীরের বড় পরীক্ষা। আগামী বছর এক দিনের বিশ্বকাপ। তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারত। এখন যদি এক দিনের সিরিজ়েও ভারত হারে তা হলে বিশ্বকাপের আগেই চাকরি যেতে পারে গৌতির।