চোট-আঘাত নিয়ে ভুগেই চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট। নিউ জ়িল্যান্ড সফরেও সম্ভবত পাওয়া যাবে না হর্ষিত রানা এবং হার্দিক পাণ্ড্যকে। হর্ষিতের সম্পূর্ণ ফিট হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। হার্দিক আবার নতুন চোট পেয়েছেন।
আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ভারত-নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়। দু’টি টেস্ট ছাড়াও দু’দল পাঁচটি করে এক দিনের ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। এই সফরেও হর্ষিত এবং হার্দিককে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হর্ষিতের রিহ্যাব পর্ব শেষ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের আগে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (সিওই) ম্যাচ সিমুলেশনের সময় বাঁ দিকে কোয়াড্রিসেপ পেশিতে টান অনুভব করেন। ফলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ় থেকে ছিটকে যান। চোট সারিয়ে ফিট হওয়ার পর ম্যাচ সিমুলেশনে চিকিৎসকেরা দেখে নেন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার যথেষ্ট ধকল নিতে পারছেন কিনা। তা করতে গিয়েই নতুন করে টান অনুভব করেন হর্ষিত। তাই আর ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। সিইওতে এখনও রিহ্যাব চলছে দিল্লির জোরে বোলারের।
স্ক্যান রিপোর্টে হর্ষিতের দুই ঊরুতেই হালকা টান ধরা পড়ে। তাঁকে তিন সপ্তাহ নিয়ন্ত্রিত অনুশীলনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিট করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। সিইওর বিশেষজ্ঞেরা পরিকল্পনা করেছিলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে হর্ষিতকে বোলিং অনুশীলন শুরু করাবেন। পরিস্থিতি বুঝে ক্রমশ ধকল বৃদ্ধি করা হবে। কিন্তু তার আগেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন হর্ষিত। গলা ব্যথা এবং সর্দির সমস্যাও রয়েছে জোরে বোলারের। এই অবস্থায় বোলিং অনুশীলন শুরু করানো যায়নি। ফলে হর্ষিতের রিহ্যাব প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে। সম্পূর্ণ সুস্থ না হলে হর্ষিতের অনুশীলন শুরু হবে না। তার পরও তাঁর ম্যাচ ফিট হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাসে দিল্লির হয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে খেলতে পারবেন হর্ষিত। কিন্তু এখনই তাঁকে লাল বলের ক্রিকেট খেলিয়ে ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে হার্দিককে নিয়েও। তাঁর ডান পায়ের কাফ পেশিতে অস্বস্তি রয়েছে। নতুন করে এই সমস্যা ধরা পড়েছে। তিনিও খুব তাড়াতাড়ি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন না। গত আইপিএলের সময় থেকেই একের পর এক চোটে ভুগছেন হার্দিক। তার পর আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটও খেলেননি। হার্দিককে ছয় থেকে আট সপ্তাহ বিসফসফোনেট থেরাপি এবং ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চিকিৎসকেরা। পায়ের অস্বস্তি কমলে হালকা অনুশীলনের মাধ্যমে হার্দিকের রিহ্যাব প্রক্রিয়া শুরু হবে। ধীর গতিতে দৌড় এবং অল্প কিছু ক্রিকেটীয় অনুশীলন শুরু করবেন। ক্রমশ অনুশীলনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে। তাঁরও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে সময় লাগবে। চোটের জন্য অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধেও খেলতে পারেননি অলরাউন্ডার।
আরও পড়ুন:
এক দিনের বিশ্বকাপের বাকি বছর খানেক মতো। এই সময়ে ক্রিকেটারদের চোট-আঘাত নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বোর্ড কর্তারা। ম্যাচ ফিট হওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত সময় দিতে চান তাঁরা। যাতে বিশ্বকাপে সেরা দল পাঠানো যায়।