Advertisement
E-Paper

অস্ট্রেলিয়ায় শুরুতেই দাপট বাংলাদেশের, হাসানের ৬ উইকেটে ১৯৮ রানে শেষ অসিরা, ব্যাট হাতেও শাসন মোমিনুলদের

হাসান মাহমুদ ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। অর্থাৎ, প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসারেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ অগস্ট ২০২৬ ১৫:১৩
cricket

৬ উইকেট নেওয়ার পর বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ছবি: এক্স।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে দাপট দেখাল বাংলাদেশ। তা-ও আবার পূর্ণ শক্তির অসিদের বিরুদ্ধে। প্রথম দিন বাংলাদেশের বোলার ও ব্যাটারেরা চাপে রেখেছেন প্যাট কামিন্সদের। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে শেষ। জবাবে নাজমুল হোসেন শান্তের দল ১ উইকেটে ৯৬।

ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই প্রথম কোনও টেস্ট হচ্ছে। মাত্র পাঁচ হাজার দর্শক বসে খেলা দেখতে পারেন। নতুন স্টেডিয়ামের পিচ বুঝতে হয়তো ভুল করেন অসি অধিনায়ক কামিন্স। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ৫৩ ওভারে অল আউট হয়ে যায় গোটা দল।

দুই ওপেনার ট্রেভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড ভালই খেলছিলেন। ওভার প্রতি ৪ রান করে উঠছিল। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং আক্রমণে প্রথম ধাক্কা দেন হাসান। হেডকে ২২ রানের মাথায় আউট করেন তিনি। অপর ওপেনার ওয়েদারাল্ডকে তিনি ফেরান ২৩ রানে।

দীর্ঘদেহী হাসানের বল পিচে পড়ে বেশ লাফাচ্ছিল। ফলে নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যা হচ্ছিল অসি ব্যাটারদের। হাসান একই জায়গায় ক্রমাগত বল করে যান। তার ফলও পান। তিন নম্বরে নামা মার্নাশ লাবুশেন রান পাননি। ১ রানের মাথায় তাঁকে আউট করেন এবাদত হোসেন। ক্যামেরন গ্রিনকে ১৩ রানের মাথায় ফেরান তাসকিন আহমেদ। বিনা উইকেটে ৪৫ রান থেকে ৭৪ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার।

চার ধাক্কার পর ইনিংস সামলান অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারে। স্মিথ দেখিয়ে দিলেন, যে পিচে বাউন্স বেশি, সেখানে কী ভাবে খেলতে হয়। কিন্তু বাকিরা তা দেখে শিখতে পারলেন না। ক্যারে (১৯) আউট হওয়ার পর আবার ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে। পর পর উইকেট পড়তে থাকে।

এক দিকে টিকেছিলেন স্মিথ। কিন্তু অপর প্রান্তে পর পর উইকেট পড়ায় একটা সময় মেজাজ হারিয়ে বড় শট মারার চেষ্টা করেন। হাসানের বলে পুল মারতে গিয়ে ৭১ রানের মাথায় আউট হন তিনি। ১৯৮ রানে অল আউট হয়ে যায় গোটা দল।

হাসান ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন। ২ করে উইকেট নেন তাসকিন ও এবাদত। অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসারেরা। স্পিনারেরা বেশি বল করার সুযোগও পাননি।

হাসানেরা যে কাজ করেছেন, তা অবশ্য প্রথম দিন করতে পারলেন না মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হেজ়লউড। তার জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য বাংলাদেশের দুই ওপেনার শাদমান ইসলান ও তানজিদ হাসান তামিমের। ধৈর্য ধরে খেললেন তাঁরা। তাড়াহুড়ো করেননি। বাজে শট খেলেননি। নতুন বল সামলেছেন। বল একটু পুরনো হওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়িয়েছেন।

তার মাঝেই ২০ রানের মাথায় স্টার্কের বলে আউট হন শাদমান। একটু আগে ব্যাট চালিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। অসি বোলারেরা ব্যর্থ হলেও স্টার্ক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। টেস্টে ৪৩৪ উইকেটের মালিক হলেন তিনি। পেস ও স্পিন মিলিয়ে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক উইকেটের মালিক তিনি। স্টার্ক টপকে গেলেন শ্রীলঙ্কার স্পিনার রঙ্গনা হেরাথকে। টেস্টে তাঁর উইকেটের সংখ্যা ৪৩৩।

শাদমান আউট হওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে জুটি ভাঙেন মোমিনুল হক। সেই জুটি প্রথম দিন আর ভাঙতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। তাঁদের দেখে একবারও মনে হয়নি কোনও সমস্যা হচ্ছে। পেস, স্পিন সমান দক্ষতার সঙ্গে খেলেছেন তারা। দিনের শেষ বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৯৬। তানজিদ ৩২ ও মোমিনুল ৩৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

bangladesh cricket team Hasan Mahmud

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy