দু’দশকব্যাপী টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের ইতিহাসে ৪০০০-এর বেশি ম্যাচ এবং ৫৫০-এর বেশি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলা হয়েছে। তবে গত ১০ দিনে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ে যে জিনিস দেখা গিয়েছে, তাতে বোলারদের আর শান্তিতে থাকার জায়গা নেই। একের পর এক রেকর্ড ভাঙা পড়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছেন ব্যাটারেরা।
সিরিজ়ের প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গিয়েছে, বোলারদের জন্য কোনও পিচেই প্রায় কিছু নেই। প্রতিটি মাঠেই পাটা পিচ তৈরি হচ্ছে। ফলে ব্যাটারদের দাপটও দেখা যাচ্ছে। কোচ গৌতম গম্ভীর সম্প্রতি এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তার পরেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি।
অবস্থা এমনই যে, বোলারেরা পরিকল্পনা করে নামতেই পারছেন না। দু’দল মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রস্টন চেজ একমাত্র বোলার যিনি অন্তত ১০ ওভার বল করেছেন, কিন্তু ইকনমি রেট প্রায় ১০।
৯১৮টি বলের মধ্যে ৯৮টি ছয় হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ৯.৩ বল অন্তর একটি করে ছয় দেখা গিয়েছে। আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য দেশগুলির দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ে এই হারে ছয় আগে কোনও দিন দেখা যায়নি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে এর চেয়ে বেশি ছয়ের নজির আর তিনটি সিরিজ়ে দেখা গিয়েছে।
যদি পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দু’দল মিলিয়ে ২৩টি ছক্কা মারে, তা হলে ২০২৩-এ ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ়ের ১২০ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে যাবে।
এই সিরিজ়টি টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্রুততম। চারটি ম্যাচের পর ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেটবিশ্বের প্রথম দুই দল হিসাবে টি-টোয়েন্টিতে ২০০০-এর বেশি ছয় মেরেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে প্রতি ১৪ বল অন্তর একটি করে ছয় মেরেছে। ভারত সামান্য পিছিয়ে। তারা ১৬.১৯ বল অন্তর একটি করে ছয় মেরেছে। দু’দলের আগ্রাসী ক্রিকেট দেখা গিয়েছে এই সিরিজ়েও।
আরও পড়ুন:
দুই দলই চার ম্যাচে ৮০০-র বেশি রান করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় মেরেছে ১২৪টি চার এবং ৫৭টি ছয়। অর্থাৎ প্রতি ৮.১ বল অন্তর একটি ছয় মেরেছে। ভারত মেরেছে ৪১টি ছয়, অর্থাৎ প্রতি ১০.৮ বল অন্তর একটি করে ছয়।