Advertisement
E-Paper

গলা শুকিয়ে মুখ বেঁকে যেত! চহাল ডুবে থাকতেন মদে, বিবাহবিচ্ছেদের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ২৬ দিন রিহ্যাবে কাটান লেগ স্পিনার

বিবাহবিচ্ছেদের পর কিছু দিন ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন যুজবেন্দ্র চহাল। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়-ঝাপটা সামলে আবার ফিরেছেন স্বাভাবিক ছন্দে। প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে সময়ের নানা কথা বলেছেন চহাল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৩৮
Picture of Cricket

যুজবেন্দ্র চহাল। — ফাইল চিত্র।

নেটপ্রভাবী ধনশ্রী বর্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ এলোমেলো করে দিয়েছিল যুজবেন্দ্র চহালের জীবন। হতাশায় ডুবে থাকতেন মদে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ২৬ দিন তাঁকে কাটাতে হয় রিহ্যাব কেন্দ্রে। ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন লেগ স্পিনার।

বিবাহবিচ্ছেদের পর কিছু দিন ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন চহাল। ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়-ঝাপটা সামলে আবার ফিরেছেন স্বাভাবিক ছন্দে। প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সে সময়ের নানা কথা বলেছেন চহাল। লেগ স্পিনার জানিয়েছেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর নানা উদ্বেগ গ্রাস করেছিল তাঁকে। প্যানিক অ্যাটাকে ভুগেছেন কিছু দিন। চহাল বলেছেন, ‘‘কেউ খ্যাতনামী হলে তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনাতেই সাধারণ মানুষ মতামত দেওয়ার অধিকার পেয়ে যায়। ওই পরিস্থিতিটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিত। আমার ক্রিকেটেরও ক্ষতি করেছে। ২০২৪-২৫ মরশুমে হরিয়ানার হয়ে সাদা বলের দু’টি ম্যাচ খেলে আর টি-টোয়েন্টি খেলিনি। কারণ, আমার মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল না। সম্পূর্ণ ফিট ছিলাম না। চাইনি আমার জন্য দল ক্ষতিগ্রস্ত হোক। তাই কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কিছু দিন বিরতি নিয়েছিলাম। তখন একা থাকতে থাকতেই প্যানিক অ্যাটাক শুরু হয়েছিল।’’

কী সমস্যা হত সে সময়? চহাল বলেছেন, ‘‘আমার মুখের আকার বদলে যেত। গলা শুকিয়ে যেত। ঠোঁট শক্ত হয়ে এক দিকে বেঁকে যেত। কথা বলতে পারতাম না। ওই অবস্থায় আমায় কেউ দেখলেই বুঝতে পারত, কিছু একটা বিপদ হয়েছে। সে সময় বুঝতে পেরেছি, উদ্বেগ এক জন মানুষের জীবনের কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।’’

ধনশ্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের মানসিক ধাক্কা সামলাতে মদ্যপান শুরু করেন চহাল। সেটাও এক সময় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তা নিয়ে বলেছেন, ‘‘কাউন্টি ক্রিকেট খেলে ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর দেখলাম, সবকিছুই মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ওই অবস্থা থেকে বেরোতে নিজেই একটা রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম। ২৬ দিন ছিলাম ওখানে। সেখানে থাকার সময় আমার ব্যক্তিজীবন এবং মানসিকতায় পরিবর্তন হয়। ভারসাম্য ফিরে পেয়েছিলাম। সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়েছিলাম মদ্যপান। গত বছর আইপিএলে আবার নিজেকে খুব চনমনে লেগেছে। ঠিক ৩০ বছর বয়সের মতো। অনুশীলন, ট্রেনিং, জিম কিছুতেই ক্লান্তি লাগত না।’’

নতুন করে জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার এবি ডিভিলিয়ার্সের একটি পরামর্শ মাথায় রেখেছিলেন বলে জানিয়েছেন চহাল। লেগ স্পিনার বলেছেন, ‘‘ডিভিলিয়ার্স আমাকে বলেছিল, জীবনের মূল চাবিকাঠি হল ভারসাম্য রক্ষা। বিচ্ছেদের পর সব কিছুই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল, ওভাবে চললে নিজের যেটা সবচেয়ে প্রিয়, সেই ক্রিকেটকেই নষ্ট করে ফেলব।’’

সাধারণ মানুষের সমালোচনা নিয়ে ভাবতে চান না চহাল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সমাজমাধ্যমে কাউকে চুপ করানো সম্ভব নয়। তাই ভেবে লাভ নেই। ২০২৫ সালের আইপিএলে পঞ্জাব কিংস আমায় ১৮ কোটি টাকায় নিয়েছিল। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলাম, এই আস্থার মর্যাদা দিতেই হবে। সে ভাবেই নিজেকে তৈরি করেছিলাম। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচে বুঝতে পেরেছিলাম, সেরা মানের ক্রিকেট এখনও খেলতে পারি।’’

Divorce Rehab Centre

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy