লর্ডসে তাঁদের সাক্ষাৎকারের ভিডিয়ো প্রকাশিত হওয়ার পর দল তুলে নেওয়ার ‘হুমকি’ দিয়েছিল পাকিস্তান। সেই বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন ইমরান খানের ছেলে কাসিম। তাঁর দাবি, এই কাণ্ডের জেরে পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান মহসিন নকভিরই মুখ পুড়েছে।
ইংল্যান্ডের ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ সংবাদপত্রে কাসিম বলেছেন, “ওরা নিজেরাই বোকার মতো কাজ করেছে। আমি ভাবছিলাম কিছু একটা প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। কিন্তু মাঠে না নামার মতো হুমকি দিয়ে এতটা বোকার মতো কাজ করবে এটা ভাবতে পারিনি। ইংল্যান্ডে ২২ বছর থেকেছে এমন কোনও প্রাক্তন পাকিস্তানের ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকার না প্রকাশ করতে বলার অধিকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নেই। কোনও রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার ছিল না। ওঁর স্বাস্থ্য এবং মানবিক আবেদন নিয়ে কথা হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, লর্ডস টেস্টের মাঝে ওই সাক্ষাৎকারে ইমরানের ছেলেদের একটি মন্তব্যেই রেগে যান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী নকভি। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইক আথারটনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলেমান এবং কাসিম তিন বছর ধরে জেলবন্দি ইমরানের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বাবার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। অভিযোগ করেন, জেলে ইমরানের ঠিক মতো চিকিৎসা হচ্ছে না।
কাসিম জানান, প্রাক্তন অলরাউন্ডার একটি চোখে প্রায় দেখতেই পান না। তিনি বলেন, ‘‘সরকারের কোনও নীতি নেই। বাবার সঙ্গে কী করা হচ্ছে, আমরা ঠিক বলতে পারব না। কোনও কিছুই স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ নয়। ওরা সম্ভবত ইমরান খানকে নির্লজ্জভাবে মেরে ফেলতে চায়। মুখ বন্ধ করিয়ে রাখার জন্য জেলের মধ্যে আটকে রাখতে চায়। দিনে ২৩ ঘণ্টার বেশি সময় একটা ছোট ঘরে বন্দি রাখা হয়। পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক।’’
আরও পড়ুন:
এই মন্তব্যেই চটেছিলেন নকভি। ইমরান পাকিস্তানের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক ছাড়াও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে জেলবন্দি করে রেখেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। ক্রিকেট বিশ্বে এখনও ইমরান যথেষ্ট জনপ্রিয়। সুনীল গাওস্কর, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, গ্রেগ চ্যাপেল, অ্যালান বর্ডার, ওয়াসিম আক্রমের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারাও উদ্বিগ্ন।
পাকিস্তান সরকারকে ইমরানের জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে একাধিক বার অনুরোধ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনার পর মুখ খুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আশা করব ইমরান খানের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করা হবে। তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে।’’ বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যেই কামিন্সই প্রথম সরাসরি ইমরানের সমর্থনে মুখ খুললেন।